বড়দিনে রাজকীয় ছুটি: কলকাতার কাছে ‘লুটেরা’র ইটাচুনা রাজবাড়িতে বাজেট-ফ্রেন্ডলি উইকএন্ড ট্রিপ

শীতের ছুটিতে বাজেটেই রাজকীয় অভিজ্ঞতা পেতে ঘুরে আসুন হুগলির ইটাচুনা রাজবাড়ি। ‘লুটেরা’র শুটিং হওয়া এই ঐতিহ্যময় জমিদারবাড়ি এখন জনপ্রিয় উইকএন্ড স্পট।

ইটাচুনা রাজবাড়ি ট্যুর: ডিসেম্বরে শীতের আমেজে ছোট ছুটি কাটাতে অনেকেই কলকাতার বাইরে কোথাও যেতে চান। তাদের জন্য আদর্শ উইকএন্ড ডেস্টিনেশন হুগলি জেলার ঐতিহাসিক ইটাচুনা রাজবাড়ি, যেখানে ১৭৬৬ সালে কুণ্ডু বংশের নির্মিত জমিদারবাড়ি আজও রাজকীয় ঐতিহ্য ধরে রেখেছে। কলকাতা থেকে মাত্র কয়েক কিলোমিটার দূরে এই রাজবাড়ি ‘লুটেরা’ ছবির শুটিংয়ের জন্য বিশেষভাবে পরিচিত। মধ্যবিত্ত বাজেটেই এখানকার থাকা-খাওয়ার ব্যবস্থা মেলে, তাই বড়দিন বা নিউ ইয়ার উইকএন্ডে এখানে ভিড় বাড়ে পর্যটকদের।

বড়দিনে রাজকীয় ছুটি: কলকাতার কাছে ‘লুটেরা’র ইটাচুনা রাজবাড়িতে বাজেট-ফ্রেন্ডলি উইকএন্ড ট্রিপ

শীতের ছুটিতে রাজকীয় অভিজ্ঞতা পেতে আদর্শ ইটাচুনা

ডিসেম্বর এলেই বেড়াতে যাওয়ার প্রবণতা বাড়ে। কলকাতার যানজট এবং ভিড়ভাট্টা এড়িয়ে অনেকে কাছেই কোনো শান্ত পরিবেশ খুঁজে নেন। তাদের জন্য ইটাচুনা রাজবাড়ি এক অসাধারণ অপশন। সবুজে মোড়া গ্রামবাংলার পথ ধরে পৌঁছে যাওয়া যায় একটি পুরনো রাজকীয় আস্তানায়, যেখানে প্রতিটি ইঁট যেন ইতিহাসের গল্প শোনায়।গ্রাম বাংলার প্রশান্ত পরিবেশ, পুরনো দেওয়ালের গন্ধ, উঁচু ছাদ আর নাটমন্দিরের সৌন্দর্য—সব মিলিয়ে প্রবেশদ্বার পেরোতেই অন্য এক যুগে চলে যাওয়ার অনুভূতি তৈরি হয়।

মরাঠা বর্গীর ইতিহাস বহন করে ইটাচুনা রাজবাড়ি

ইটাচুনা রাজবাড়ির প্রতিষ্ঠাতারা ছিলেন মরাঠা বর্গীদের বংশধর কুন্দ্রা, যাঁদের থেকেই পরে কুণ্ডু পদবি তৈরি হয়। সাফল্য নারায়ণ কুণ্ডুর বংশধররা ১৭৬৬ সালে এই রাজবাড়ি নির্মাণ করেন। স্থানীয় মানুষ আজও একে ‘বর্গীডাঙা’ বলে ডাকেন।রাজবাড়ির অন্দরমহল থেকে বারমহল, কাছারি বাড়ি থেকে বাজার সরকারের ঘর— প্রতিটি কোণেই রয়েছে সেই সময়কার স্থাপত্য বৈশিষ্ট্যের ছাপ।

বড়দিনে রাজকীয় ছুটি: কলকাতার কাছে ‘লুটেরা’র ইটাচুনা রাজবাড়িতে বাজেট-ফ্রেন্ডলি উইকএন্ড ট্রিপ

‘লুটেরা’র শুটিং হওয়া সেই আইকনিক রাজবাড়ি

রণবীর সিংহ ও সোনাক্ষী সিংহ অভিনীত বলিউড ছবি ‘লুটেরা’-র শুটিং হয়েছিল এখানেই। ছবির বহু দৃশ্যের নাটকীয় পরিবেশ তৈরি হয়েছিল রাজবাড়ির ছোট জানলার অলিন্দ, লম্বা করিডর আর নিঃঝুম অন্দরমহলকে কেন্দ্র করে।জমিদারবাড়ির মেয়েদের অন্দরমহল থেকে বাইরের দিক দেখার জন্য বিশেষ ছোট জানলার ব্যবস্থা, দৃষ্টিনন্দন ঝাড়বাতি, পুরনো সিন্দুক, বড়দের সারিবদ্ধ ঘর—সবই আজও সেই ঐতিহ্যকে অক্ষুণ্ণ রেখেছে।

Staying Experience: রাজকীয় খাবার ও সাশ্রয়ী ভাড়া

এখানে মিলবে ঐতিহ্যবাহী বাঙালি রান্না, পরিবেশন করা হয় কাঁসার থালা–বাটিতে—যা রাজবাড়ির অভিজাত পরিবেশকে আরও বাড়িয়ে তোলে। খাবারের স্বাদ আর সার্ভিস অনেক পর্যটকের মন জয় করে নেয়।

থাকার খরচও মধ্যবিত্তের নাগালের মধ্যে—রাজবাড়ির ঘর: ₹২১০০–₹৩০০০পিছনের খামারবাড়ির মাটির ঘর: ₹১৫০০–₹২৪০০শীতকালে ভাড়া পরিবর্তিত হতে পারে, তাই আগে ফোন করে বুকিং করাই সবচেয়ে ভালো।ফোন: ৯৮৩১০৪৯৮১৬

বড়দিনে রাজকীয় ছুটি: কলকাতার কাছে ‘লুটেরা’র ইটাচুনা রাজবাড়িতে বাজেট-ফ্রেন্ডলি উইকএন্ড ট্রিপ

যেভাবে পৌঁছাবেন ইটাচুনা রাজবাড়িতে

গাড়ি পথে:কলকাতা থেকে দুর্গাপুর এক্সপ্রেসওয়ে ধরে বসিপুর–হালুসাই হয়ে খন্যান স্টেশনের দিকে যেতে হবে। সেখান থেকে মাত্র ১০ মিনিটের দূরত্বে রাজবাড়ি।

ট্রেনে:হাওড়া–বর্ধমান মেন লাইনের যেকোনো ট্রেন বা পাণ্ডুয়া লোকাল ধরে খন্যান স্টেশন পর্যন্ত আসা যায়। সেখান থেকে অটো বা রিকশায় ১০ মিনিটের যাত্রা।

বড়দিনে রাজকীয় ছুটি: কলকাতার কাছে ‘লুটেরা’র ইটাচুনা রাজবাড়িতে বাজেট-ফ্রেন্ডলি উইকএন্ড ট্রিপ

ডিসেম্বরে শীতের ছুটিতে কলকাতার ভিড়ভাট্টা এড়িয়ে রাজকীয় আবহে কয়েকটা দিন কাটাতে চাইলে আদর্শ গন্তব্য হুগলির ইটাচুনা রাজবাড়ি। ‘লুটেরা’র শুটিং হওয়া এই ঐতিহ্যময় জমিদারবাড়িতে রয়েছে অন্দরমহল-বারমহলের পুরনো সৌন্দর্য, জমকালো পরিবেশ ও বাজেট-সাশ্রয়ী থাকার ব্যবস্থা।

Leave a comment