পাহাড় যাওয়ার আগে সতর্কতা! NJP থেকে দার্জিলিং পৌঁছতে লাগছে ৮ ঘণ্টা, ভয়াবহ যানজটে নাজেহাল পর্যটকরা

দার্জিলিং ও কালিম্পংয়ে পর্যটকদের ভিড়ে ভয়াবহ যানজট। NJP থেকে দার্জিলিং পৌঁছতে লাগছে ৭-৮ ঘণ্টা। অবৈধ পার্কিং, টয় ট্রেন ও বৃষ্টির কারণে বাড়ছে ভোগান্তি।

ছুটির মরশুমে পাহাড়ের রানি দার্জিলিং বরাবরই পর্যটকদের অন্যতম প্রিয় গন্তব্য। কিন্তু এবারের ভ্রমণ আনন্দের বদলে অনেকের কাছেই পরিণত হচ্ছে ধৈর্যের পরীক্ষায়। নিউ জলপাইগুড়ি স্টেশন থেকে দার্জিলিং পৌঁছতে ঘণ্টার পর ঘণ্টা যানজটে আটকে থাকতে হচ্ছে পর্যটকদের। পাহাড়ি রাস্তার সরু পরিকাঠামো, অতিরিক্ত গাড়ির চাপ এবং অবৈধ পার্কিংয়ের কারণে পরিস্থিতি এমন জায়গায় পৌঁছেছে যে, অনেকের মতে গাড়িতে বসে থাকার চেয়ে হেঁটে এগোনোই বেশি সহজ।

পর্যটকদের ভিড়ে কার্যত স্তব্ধ পাহাড়ি রাস্তা

গরমের ছুটি শুরু হতেই দার্জিলিং, কালিম্পং-সহ পাহাড়ের বিভিন্ন পর্যটনকেন্দ্রে ভিড় বেড়েছে কয়েকগুণ। সেই চাপ সামলাতে হিমশিম খাচ্ছে পাহাড়ি সড়ক ব্যবস্থা।সাধারণত NJP থেকে দার্জিলিং পৌঁছতে ৪ থেকে ৫ ঘণ্টা সময় লাগলেও বর্তমানে সেই সময় বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৭ থেকে ৮ ঘণ্টায়। সবচেয়ে উদ্বেগজনক পরিস্থিতি দেখা যাচ্ছে জোড়বাংলো থেকে দার্জিলিং শহরে প্রবেশের পথে। মাত্র ৮ কিলোমিটার রাস্তা অতিক্রম করতেই পর্যটকদের প্রায় ৩ ঘণ্টা পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হচ্ছে।

অবৈধ পার্কিং ও সরু রাস্তা বাড়াচ্ছে সমস্যা

স্থানীয়দের মতে, অতিরিক্ত গাড়ির চাপের পাশাপাশি অবৈধ পার্কিংও যানজটের অন্যতম প্রধান কারণ হয়ে উঠেছে। পাহাড়ি রাস্তার অনেক অংশই অত্যন্ত সরু হওয়ায় সামান্য বাধা তৈরি হলেই দীর্ঘ যানবাহনের লাইন তৈরি হচ্ছে।বিকেল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত দার্জিলিং শহরের একাধিক গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় কার্যত যানবাহনের স্রোত থমকে যাচ্ছে। এর প্রভাব পড়ছে পর্যটকদের পাশাপাশি স্থানীয় বাসিন্দাদের দৈনন্দিন জীবনেও।

টয় ট্রেন দেখার উচ্ছ্বাসেও বাড়ছে জ্যাম

দার্জিলিংয়ের ঐতিহ্যবাহী Darjeeling Himalayan Railway বা টয় ট্রেন দেখতে বহু পর্যটক রাস্তার মাঝেই গাড়ি থামিয়ে ছবি ও ভিডিও তুলতে ব্যস্ত হয়ে পড়ছেন।ফলে কয়েক মিনিটের মধ্যেই রাস্তার দুই দিকে দীর্ঘ যানজট তৈরি হচ্ছে। প্রশাসনের মতে, পর্যটকদের এই অনিয়ন্ত্রিত আচরণও বর্তমান সমস্যাকে আরও জটিল করে তুলছে।

বৃষ্টির জেরে কমছে গাড়ির গতি

গত কয়েকদিন ধরে পাহাড়ে বিক্ষিপ্ত বৃষ্টিপাত অব্যাহত রয়েছে। ফলে রাস্তা পিচ্ছিল হয়ে পড়েছে এবং নিরাপত্তার স্বার্থে চালকদের ধীর গতিতে গাড়ি চালাতে হচ্ছে।এর ফলেই স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় যাত্রাপথ আরও দীর্ঘ হয়ে যাচ্ছে। বিশেষ করে বাঁক ও উঁচু-নিচু রাস্তার অংশে যানবাহনের গতি অনেকটাই কমে যাচ্ছে।

কড়া অবস্থানে প্রশাসন, বাড়ছে নজরদারি

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে জেলা প্রশাসন এবার কড়া পদক্ষেপ নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। অবৈধ পার্কিংয়ের বিরুদ্ধে 'জিরো টলারেন্স' নীতি গ্রহণ করা হয়েছে।যানজটপ্রবণ এলাকাগুলিতে বিশেষ নজরদারি দল মোতায়েন করা হয়েছে। পাশাপাশি ট্রাফিক পুলিশের সংখ্যা বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, যাতে দ্রুত যানবাহন নিয়ন্ত্রণ করা যায়।

দীর্ঘমেয়াদি সমাধানের খোঁজে বৈঠক

সম্প্রতি ট্রাফিক পুলিশ, আরটিও, GTA প্রতিনিধি, জনপ্রতিনিধি এবং ড্রাইভার সংগঠনগুলিকে নিয়ে উচ্চপর্যায়ের বৈঠক হয়েছে। সেখানে স্বল্পমেয়াদি ও দীর্ঘমেয়াদি ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা নিয়ে আলোচনা হয়েছে।এছাড়া টাইগার হিলে পর্যটকদের প্রবেশ নিয়ন্ত্রণে টোকেন ব্যবস্থা আপাতত বহাল রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, যাতে পর্যটকের চাপ কিছুটা নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব হয়।

গরমের ছুটিতে দার্জিলিংয়ে পর্যটকদের ঢল নামতেই চরম যানজটের কবলে পড়েছে পাহাড়। নিউ জলপাইগুড়ি (NJP) থেকে দার্জিলিং পৌঁছতে যেখানে সাধারণত ৪-৫ ঘণ্টা লাগে, সেখানে এখন সময় লাগছে ৭-৮ ঘণ্টা পর্যন্ত। পরিস্থিতি সামাল দিতে কড়া পদক্ষেপের পথে প্রশাসন।

 

Leave a comment