বজ্রপাতের আতঙ্ক বাড়ছে! প্রাণ বাঁচাতে কী করবেন, কী করবেন না? জানাল অসামরিক প্রতিরক্ষা দফতর

কালবৈশাখীর সময় বজ্রপাত থেকে বাঁচতে কী করবেন এবং কী করবেন না? অসামরিক প্রতিরক্ষা ও বিপর্যয় ব্যবস্থাপনা দফতরের গুরুত্বপূর্ণ নিরাপত্তা নির্দেশিকা জানুন।

আকাশ কালো করে ঝড়-বৃষ্টি নামলেই এখন বাড়ছে আর এক আতঙ্ক—বজ্রপাত। প্রতি বছরই বজ্রাঘাতে বহু মানুষের মৃত্যুর ঘটনা সামনে আসে, যার বড় অংশই সচেতনতার অভাবের কারণে ঘটে। বিশেষ করে কালবৈশাখীর সময় বজ্রপাতের ঝুঁকি অনেক বেড়ে যায়। এই পরিস্থিতিতে সাধারণ মানুষের প্রাণহানি কমাতে সতর্কতামূলক নির্দেশিকা জারি করেছে বিপর্যয় ব্যবস্থাপনা ও অসামরিক প্রতিরক্ষা দফতর। ঝড়-বৃষ্টির সময় কোথায় আশ্রয় নেওয়া উচিত, কী করা উচিত এবং কোন ভুলগুলি একেবারেই করা যাবে না, তা জেনে রাখা অত্যন্ত জরুরি।

বজ্রপাত শুরু হলেই নিরাপদ আশ্রয়ে যাওয়া জরুরি

বিশেষজ্ঞদের মতে, বজ্রপাতের সময় খোলা জায়গায় থাকা অত্যন্ত বিপজ্জনক। ঝড়-বৃষ্টি শুরু হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে যত দ্রুত সম্ভব কোনও ছাউনি বা পাকা ছাদযুক্ত ঘরের ভিতরে আশ্রয় নেওয়া উচিত।পাকা বাড়ি বা সুরক্ষিত ভবন বজ্রপাতের ঝুঁকি অনেকটাই কমিয়ে দেয়। তাই আবহাওয়া খারাপ হতে শুরু করলেই নিরাপদ জায়গায় সরে যাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।

গাছের নীচে আশ্রয় নেওয়ার ভুল করবেন না

বজ্রপাতের সময় অনেকেই গাছের নীচে দাঁড়িয়ে বৃষ্টি থেকে বাঁচার চেষ্টা করেন। কিন্তু এই অভ্যাস প্রাণঘাতী হতে পারে।বিপর্যয় ব্যবস্থাপনা দফতরের নির্দেশিকা অনুযায়ী, গাছের নীচে আশ্রয় নেওয়া একেবারেই উচিত নয়। যদি কোনও কারণে গাছের কাছাকাছি থাকতে হয়, তাহলে অন্তত ১০ হাত দূরত্ব বজায় রাখতে হবে। পাশাপাশি বিদ্যুতের খুঁটি, তার বা ধাতব কাঠামো থেকেও দূরে থাকতে হবে।

খোলা মাঠে থাকলে দ্রুত সরে যান

কৃষক, শ্রমিক বা খোলা জায়গায় কর্মরত মানুষদের জন্য বজ্রপাতের ঝুঁকি সবচেয়ে বেশি। আবহাওয়া খারাপ হতে শুরু করলেই মাঠ বা উন্মুক্ত স্থান ছেড়ে নিরাপদ জায়গায় চলে যাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।বিশেষ করে কৃষকদের সতর্ক করে বলা হয়েছে, বজ্রপাতের সম্ভাবনা দেখা দিলে কোনওভাবেই মাঠে কাজ চালিয়ে যাওয়া উচিত নয়। যত দ্রুত সম্ভব আশ্রয়স্থলে পৌঁছতে হবে।

বাড়ির ভিতরেও মানতে হবে কিছু সতর্কতা

অনেকেই মনে করেন বাড়ির ভিতরে থাকলেই পুরোপুরি নিরাপদ। কিন্তু বজ্রপাতের সময় ঘরের মধ্যেও কিছু নিয়ম মেনে চলা জরুরি।বৈদ্যুতিক যন্ত্রপাতির প্লাগ খুলে রাখতে হবে এবং অপ্রয়োজনীয় ইলেকট্রনিক ডিভাইস ব্যবহার এড়িয়ে চলতে হবে। জানালার ধারে, বারান্দায়, ছাদে বা কার্নিশে দাঁড়ানোও বিপজ্জনক হতে পারে। তাই বজ্রপাত চলাকালীন ঘরের ভিতরে নিরাপদ স্থানে থাকা উচিত।

সচেতনতার অভাবেই বাড়ছে প্রাণহানি

গত কয়েক বছরে বজ্রাঘাতে মৃত্যুর সংখ্যা উদ্বেগজনকভাবে বেড়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, সঠিক সময়ে সতর্কতা অবলম্বন করলে অনেক দুর্ঘটনাই এড়ানো সম্ভব।প্রশাসনের দাবি, শুধুমাত্র সরকারি উদ্যোগ নয়, সাধারণ মানুষের মধ্যেও সচেতনতা বাড়ানো জরুরি। পরিবার, স্কুল, কৃষক সংগঠন এবং স্থানীয় প্রশাসনের সমন্বিত প্রচেষ্টাই বজ্রপাতজনিত প্রাণহানি কমাতে সাহায্য করতে পারে।

বজ্রপাতের সময় কী করবেন?

দ্রুত পাকা বা ছাউনিযুক্ত ঘরে আশ্রয় নিন।

বিদ্যুতের তার ও খুঁটি থেকে দূরে থাকুন।

আবহাওয়া খারাপ হলে খোলা মাঠ ছেড়ে নিরাপদ স্থানে চলে যান।

বাড়িতে থাকলে বৈদ্যুতিক যন্ত্রের প্লাগ খুলে রাখুন।

জানালা ও বারান্দা থেকে দূরে থাকুন।

কী করবেন না?

গাছের নীচে দাঁড়াবেন না।

ছাদ বা খোলা জায়গায় অবস্থান করবেন না।

বজ্রপাতের সময় বৈদ্যুতিক যন্ত্র ব্যবহার করবেন না।

জলাশয়, ধাতব বস্তু বা বিদ্যুতের খুঁটির কাছে যাবেন না।

কালবৈশাখীর মরশুমে রাজ্যজুড়ে বাড়ছে বজ্রপাতের ঘটনা। প্রাণহানি রুখতে সচেতনতা বাড়ানোর উদ্যোগ নিয়েছে বিপর্যয় ব্যবস্থাপনা ও অসামরিক প্রতিরক্ষা দফতর। বাইরে ও বাড়ির ভিতরে বজ্রপাতের সময় কীভাবে নিরাপদ থাকতে হবে, সেই নির্দেশিকা প্রকাশ করা হয়েছে।

Leave a comment