বঙ্গোপসাগরীয় আবহাওয়া ব্যবস্থার প্রভাবে একাধিক রাজ্যে দুর্যোগের পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। অন্ধ্রপ্রদেশ উপকূলে আঘাত হানা গভীর নিম্নচাপটি উত্তর-উত্তরপশ্চিম দিকে এগিয়ে ক্রমশ দুর্বল হওয়ার পূর্বাভাস দিয়েছে ভারতের আবহাওয়া দফতর। তবে তার প্রভাবে ওড়িশা-অন্ধ্রপ্রদেশের বিভিন্ন এলাকায় এখনও ভারী বৃষ্টির জেরে বিপর্যস্ত জনজীবন। কোথাও রাস্তা জলের তলায়, কোথাও ভূমিধসে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন। এমন পরিস্থিতিতে ওড়িশার একাধিক জেলায় জারি হয়েছে রেড ও অরেঞ্জ অ্যালার্ট।
উত্তর-উত্তরপশ্চিমে এগোচ্ছে গভীর নিম্নচাপ
আইএমডির সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার ভোরে অন্ধ্রপ্রদেশ উপকূলে আঘাত হানা গভীর নিম্নচাপটি উত্তর-উত্তরপশ্চিম দিকে অগ্রসর হচ্ছে। আগামী কয়েক ঘণ্টা একই দিকে এগিয়ে যাওয়ার পর ধীরে ধীরে শক্তি হারিয়ে সাধারণ নিম্নচাপে পরিণত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।আবহাওয়া দফতর জানিয়েছে, এই আবহাওয়া ব্যবস্থা ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত হওয়ার সম্ভাবনা নেই। বিশাখাপত্তনম, সম্বলপুর এবং রায়পুরের ডপলার ওয়েদার রাডারের মাধ্যমে পরিস্থিতির উপর নজর রাখা হচ্ছে।
ওড়িশায় সবচেয়ে বেশি প্রভাব
গভীর নিম্নচাপের প্রভাবে ওড়িশার বেশ কিছু এলাকায় প্রবল বৃষ্টি হয়েছে। এর জেরে নিচু এলাকা ও ভূমিধসপ্রবণ অঞ্চলগুলিতে ঝুঁকি বেড়েছে। প্রশাসনের তরফে ৮ হাজারেরও বেশি মানুষকে নিরাপদ জায়গায় সরিয়ে নেওয়া হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।বিভিন্ন জেলায় জল জমে যাওয়া, ভূমিধস, গাছ উপড়ে পড়া এবং বাড়িঘরের ক্ষয়ক্ষতির খবরও সামনে এসেছে। অতিরিক্ত বৃষ্টির জল উপচে পড়ায় বেশ কিছু জায়গায় সড়ক যোগাযোগ ব্যাহত হয়েছে।
ভূমিধসে থমকে ট্রেন পরিষেবা
প্রবল বৃষ্টির প্রভাব পড়েছে রেল যোগাযোগেও। মালিগুরা এবং ছাতারিপুট স্টেশনের মধ্যবর্তী এলাকায় ভূমিধসের কারণে রেললাইন ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় ট্রেন চলাচল ব্যাহত হয়েছে।পিটিআইয়ের প্রতিবেদনের উল্লেখ অনুযায়ী, সতর্কতা এবং মেরামতির কাজের জন্য চারটি ট্রেন বাতিল করা হয়েছে। আরও কয়েকটি ট্রেনের যাত্রাপথ সংক্ষিপ্ত করা হয়েছে। অর্থাৎ নির্ধারিত গন্তব্যের আগেই কোনও ট্রেনের যাত্রা শেষ করা হয়েছে অথবা নির্ধারিত শুরুর স্টেশনের পরিবর্তে অন্য জায়গা থেকে যাত্রা শুরু করা হয়েছে।
শুক্রবার একাধিক জেলায় রেড অ্যালার্ট
শুক্রবারও ওড়িশার কয়েকটি জেলায় ভারী বৃষ্টির সতর্কতা জারি রয়েছে। আইএমডি কোরাপুট, নবরঙ্গপুর এবং কালাহান্ডি জেলায় রেড অ্যালার্ট জারি করেছে।অন্যদিকে বোলাঙ্গির, মালকানগিরি, নুয়াপাড়া, কান্ধামাল, রায়গড়া, গঞ্জাম এবং গজপতি জেলায় অরেঞ্জ অ্যালার্ট জারি করা হয়েছে। ফলে এই জেলাগুলিতে প্রশাসনের তরফে বাড়তি সতর্কতা নেওয়া হয়েছে।
অন্ধ্রপ্রদেশেও দুর্যোগের প্রভাব
গভীর নিম্নচাপের সরাসরি প্রভাব পড়েছে অন্ধ্রপ্রদেশের উপকূলবর্তী এলাকাতেও। ভারী বৃষ্টির কারণে একাধিক জায়গায় জল জমে যাওয়ার পাশাপাশি স্বাভাবিক জনজীবন ব্যাহত হয়েছে।তবে আবহাওয়া দফতরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, গভীর নিম্নচাপটি ধীরে ধীরে দুর্বল হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। ফলে পরবর্তী সময়ে বৃষ্টির তীব্রতাও কমতে পারে।
পশ্চিমবঙ্গ ও ঝাড়খণ্ডেও বৃষ্টির প্রভাব
গভীর নিম্নচাপের প্রভাবে পশ্চিমবঙ্গ এবং ঝাড়খণ্ডের কিছু অংশেও বৃষ্টিপাতের পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। যদিও এই প্রতিবেদনের মূল প্রভাব ওড়িশা এবং অন্ধ্রপ্রদেশেই বেশি বলে উল্লেখ করা হয়েছে।এই পরিস্থিতিতে নদী, পাহাড়ি রাস্তা, নিচু এলাকা এবং ভূমিধসপ্রবণ অঞ্চলে যাতায়াতের ক্ষেত্রে স্থানীয় প্রশাসনের সতর্কতা মেনে চলা জরুরি।
অন্ধ্রপ্রদেশ উপকূলে আঘাত হানা গভীর নিম্নচাপের প্রভাবে ওড়িশা ও অন্ধ্রপ্রদেশের একাধিক এলাকায় ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টি হয়েছে। কোথাও বন্যা, কোথাও জল জমে যাওয়ার পাশাপাশি ভূমিধস ও গাছ উপড়ে পড়ার ঘটনা ঘটেছে। ওড়িশায় ৮ হাজারেরও বেশি মানুষকে নিরাপদ জায়গায় সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। মালিগুরা ও ছাতারিপুট স্টেশনের মাঝে ভূমিধসের জেরে ট্রেন চলাচলও ব্যাহত হয়েছে। পরিস্থিতি সামাল দিতে কয়েকটি ট্রেন বাতিল ও কয়েকটির যাত্রাপথ সংক্ষিপ্ত করা হয়েছে।













