রাজধানী দিল্লির আকাশে ফের বিপজ্জনক দূষণের ছায়া। শীতের শুরুতেই বিষাক্ত ধুলোর চাদরে ঢেকে গিয়েছে গোটা শহর। কেন্দ্রীয় দূষণ নিয়ন্ত্রণ পর্ষদের তথ্য অনুযায়ী, দিল্লির বহু এলাকায় বায়ুদূষণের মাত্রা ভয়াবহ পর্যায়ে পৌঁছে গিয়েছে, যেখানে AQI ৪০০-এরও উপরে উঠে গেছে।
AQI ৪০০ ছাড়ানো মানেই ‘গুরুতর বিপদ’
বিশেষজ্ঞদের মতে, AQI ৪০০-এর উপরে গেলে তা ‘Severe Plus’ বা চরম বিপজ্জনক স্তর হিসেবে ধরা হয়। এই পর্যায়ে সুস্থ মানুষদেরও শ্বাসকষ্ট, চোখ জ্বালা, গলা ব্যথার মতো সমস্যা দেখা দিতে পারে। শিশু, বৃদ্ধ ও ফুসফুস বা হৃদরোগে আক্রান্তদের ক্ষেত্রে ঝুঁকি আরও কয়েকগুণ বেড়ে যায়।

ধুলোর চাদরে ঢেকে রাজধানী
শনিবার সকাল থেকেই দিল্লির আকাশে ঘন ধুলোর স্তর দেখা যায়। দূরত্বে থাকা বহুতল ভবন ঝাপসা হয়ে যায়, দৃশ্যমানতা কমে আসে। অনেক এলাকাতেই সূর্যের আলো ঠিকমতো পৌঁছচ্ছে না। যান চলাচলেও প্রভাব পড়েছে বলে খবর।

যানবাহনের ধোঁয়া ও নির্মাণকাজ দায়ী
পরিবেশবিদদের মতে, অতিরিক্ত যানবাহনের ধোঁয়া, অব্যাহত নির্মাণকাজ, রাস্তায় জমে থাকা ধুলো এবং অনুকূলহীন আবহাওয়া— সব মিলিয়েই পরিস্থিতি এতটা ভয়াবহ হয়ে উঠেছে। বাতাসের গতিবেগ কম থাকায় দূষিত কণা আটকে যাচ্ছে শহরের উপরেই।

স্বাস্থ্য পরিষেবায় বাড়ছে চাপ
দিল্লির বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতালে শ্বাসকষ্ট, অ্যাজমা ও বুকে অস্বস্তি নিয়ে রোগীর সংখ্যা বাড়ছে। চিকিৎসকদের পরামর্শ— প্রয়োজন ছাড়া বাইরে বের না হওয়া, মাস্ক ব্যবহার করা এবং শিশু ও বয়স্কদের বাড়িতেই রাখা।
সরকারি সতর্কতা ও সম্ভাব্য বিধিনিষেধ
দূষণ পরিস্থিতি আরও খারাপ হলে গ্রেডেড রেসপন্স অ্যাকশন প্ল্যান (GRAP)-এর কঠোর ধাপ কার্যকর করা হতে পারে বলে ইঙ্গিত প্রশাসনের। এর মধ্যে থাকতে পারে নির্মাণকাজে নিষেধাজ্ঞা, ভারী যান চলাচলে নিয়ন্ত্রণ এবং সরকারি-বেসরকারি অফিসে বিশেষ নির্দেশ।
দিল্লি ও সংলগ্ন এনসিআর জুড়ে ভয়াবহ আকার নিচ্ছে বায়ুদূষণ। একাধিক এলাকায় এয়ার কোয়ালিটি ইনডেক্স ৪০০-র গণ্ডি পেরিয়েছে। ঘন ধুলোর চাদরে ঢেকে গিয়েছে রাজধানী, জনস্বাস্থ্যের উপর বাড়ছে গুরুতর ঝুঁকি।











