রাজস্থানের বিধায়ক তহবিল কেলেঙ্কারির অভিযোগে রাজনীতিতে চাঞ্চল্য। সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হওয়া একটি ভিডিওতে কমিশন চাওয়ার দাবি করা হয়েছে। ঘটনার গুরুত্ব বিবেচনা করে মুখ্যমন্ত্রী কার্যালয় সত্যতা যাচাইয়ের রিপোর্ট চেয়েছে।
জয়পুর: রাজস্থানের রাজনীতিতে বিধায়ক স্থানীয় ক্ষেত্র উন্নয়ন তহবিল (MLA LAD Fund) নিয়ে বড় বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হওয়া কিছু ভিডিও বিধায়ক তহবিলের নামে কমিশন ও দুর্নীতির অভিযোগ তুলে ধরেছে। এই ভিডিওগুলি সামনে আসার পর রাজ্য রাজনীতিতে চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে। ঘটনার গুরুত্ব বিবেচনা করে মুখ্যমন্ত্রী কার্যালয় (CMO) পুরো ঘটনার সত্যতা যাচাইয়ের রিপোর্ট চেয়েছে। তবে, ভাইরাল ভিডিওটির স্বাধীনভাবে যাচাই নিউজ এজেন্সিগুলির দ্বারা করা হয়নি বলে স্পষ্ট করা হয়েছে।
ভাইরাল ভিডিওকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক চাঞ্চল্য
সোশ্যাল মিডিয়ায় আসা ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে, কয়েকজন বিধায়ক এবং তাদের তথাকথিত প্রতিনিধি উন্নয়নমূলক কাজের সুপারিশের বিনিময়ে কমিশন নিয়ে কথা বলছেন। ভিডিওতে টাকার পরিমাণ ও শতাংশের উল্লেখ রয়েছে, যা সরকারের স্বচ্ছতা এবং বিধায়ক তহবিলের কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। এই অভিযোগগুলির কারণে বিরোধীরা সরকারকে আক্রমণ করার সুযোগ পেয়েছে।
খিওংসরের বিধায়কের বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ
ভাইরাল ভিডিওতে খিওংসর বিধানসভা এলাকার বিজেপি বিধায়ক রেবন্তরাম ডাঙ্গার নাম প্রধানভাবে উঠে এসেছে। ভিডিওতে ৫০ লক্ষ টাকার উন্নয়নমূলক কাজের সুপারিশের বিনিময়ে ৪০ শতাংশ কমিশন নেওয়ার বিষয়ে কথোপকথন শোনা যাচ্ছে। এমনকি, ১০ লক্ষ টাকা অগ্রিম দেওয়ার বিষয়েও আলোচনা শোনা যায়। বলা হচ্ছে, এই সম্পূর্ণ আলোচনা বিধায়ক তহবিল অধীনে হওয়া উন্নয়নমূলক কাজের সঙ্গে সম্পর্কিত। অভিযোগ প্রমাণিত হলে, এই ঘটনা অত্যন্ত গুরুতর বলে বিবেচিত হবে।
হিন্দাউনের বিধায়কের সঙ্গে জড়িত ঘটনা

হিন্দাউন বিধানসভা এলাকার কংগ্রেস বিধায়ক অনিতা জাটবের বিরুদ্ধেও ভিডিওর মাধ্যমে অভিযোগ আনা হয়েছে। ভাইরাল হওয়া কনটেন্ট ও কিছু নথিপত্রে ৮০ লক্ষ টাকার উন্নয়নমূলক কাজের সুপারিশের বিনিময়ে ৫০ হাজার টাকা নেওয়ার দাবি করা হয়েছে। এই মামলায় জেলা পরিষদের সিইও-কে সুপারিশপত্র দেওয়ার বিষয়টিও সামনে এসেছে। এর ফলে শুধু বিধায়ক নয়, প্রশাসনিক স্তরেও যোগসাজশ থাকতে পারে এমন প্রশ্ন উঠেছে।
বায়ানার নির্দল বিধায়কও আলোচনায়
এই বিতর্কের মধ্যে বায়ানা বিধানসভা এলাকার নির্দল বিধায়ক রিতু বানাবতের স্বামীর নামও উঠে এসেছে। তাদের বিরুদ্ধে উন্নয়নমূলক কাজের সঙ্গে জড়িত ৪০ লক্ষ টাকার চুক্তি করার অভিযোগ রয়েছে। ভাইরাল ভিডিওতে कथितভাবে টাকার লেনদেন এবং কাজ নিয়ে আলোচনার দৃশ্য দেখা যায়। এই ঘটনা সামনে আসার পর নির্দল বিধায়কদের ভূমিকা নিয়েও আলোচনা শুরু হয়েছে।
কর্মকর্তাদেরও দেওয়ার আলোচনা
ভাইরাল ভিডিও এবং অভিযোগগুলিতে আরও একটি গুরুতর দিক सामने এসেছে, যেখানে কর্মকর্তাদেরও ‘একটু-একটু’ দেওয়ার বিষয়ে আলোচনা করা হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে। এই অভিযোগ সত্য হলে, এটি শুধু রাজনৈতিক নয়, প্রশাসনিক দুর্নীতিকেও বড় মাত্রা দিতে পারে। এর ফলে পুরো সিস্টেমের বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন উঠবে।
বিধায়ক তহবিলের ব্যবহার নিয়ে প্রশ্ন
ভিডিওতে অনেক জায়গায় প্রকৃত প্রয়োজন ও খরচের সঠিক মূল্যায়ন না করে স্কুল এবং অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের জন্য সরবরাহ ও উন্নয়নমূলক কাজের সুপারিশ করার দাবি করা হয়েছে। এর ফলে বিধায়ক তহবিল জনস্বার্থের পরিবর্তে ব্যক্তিগত লাভের জন্য ব্যবহার করা হচ্ছে বলে সন্দেহ করা হচ্ছে। বিধায়ক তহবিলের উদ্দেশ্য হল আঞ্চলিক উন্নয়ন, মৌলিক সুবিধা এবং মানুষের চাহিদা পূরণ করা।
বিধায়ক তহবিলের পরিমাণ
রাজস্থানে প্রত্যেক বিধায়ককে বার্ষিক প্রায় ৫ কোটি টাকার বিধায়ক স্থানীয় ক্ষেত্র উন্নয়ন তহবিল দেওয়া হয়। এই তহবিলের উদ্দেশ্য রাস্তা, জল, স্কুল, স্বাস্থ্য এবং অন্যান্য স্থানীয় উন্নয়নমূলক কাজকে উৎসাহিত করা। তবে, যখন এই তহবিলই প্রকাশ্যভাবে দুর্নীতি ও কমিশনের অভিযোগে জর্জরিত হয়, তখন মানুষের বিশ্বাস কমে যায়।
সিএমও-র কঠোর নজর
ঘটনাটি সামনে আসার সঙ্গে সঙ্গেই মুখ্যমন্ত্রী কার্যালয় পুরো ঘটনার সত্যতা যাচাইয়ের রিপোর্ট চেয়েছে। অভিযোগের মধ্যে সত্যতা পাওয়া গেলে নিরপেক্ষ ও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে সরকার থেকে জানানো হয়েছে। শাসক দলের নেতাদের বক্তব্য, সরকার দুর্নীতিবিরোধী শূন্য সহনশীলতার নীতি নিয়ে কাজ করছে।











