বাংলার টেলিভিশন জগতের ইতিহাসে ‘দিদি নম্বর ১’ শুধু একটি রিয়ালিটি শো নয়, বরং একটি আবেগ। দীর্ঘ ১৭ বছরেরও বেশি সময় ধরে দর্শকদের মন জয় করে চলেছে এই অনুষ্ঠান। তবে এই সাফল্যের নেপথ্যে থাকা মানুষটিকে অনেকেই চেনেন না। তিনি হলেন পরিচালক অভিজিৎ সেন, যার ভাবনা ও পরিকল্পনাতেই তৈরি হয়েছিল বাংলার অন্যতম জনপ্রিয় এই অনুষ্ঠান।
বিরাটির ছেলে থেকে টেলিভিশনের সফল নির্মাতা
উত্তর ২৪ পরগনার বিরাটিতে জন্ম ও বেড়ে ওঠা অভিজিৎ সেনের। পরিবারের ইচ্ছে ছিল তিনি চিকিৎসক হবেন। কিন্তু ছোটবেলা থেকেই তাঁর মন টানত সিনেমা, গল্প আর ক্যামেরার জগৎ। সেই স্বপ্নকে অনুসরণ করেই তিনি চলচ্চিত্র শিক্ষার পথে হাঁটেন। পরবর্তীতে চলচ্চিত্র নির্মাণ ও সম্পাদনার উপর বিশেষ প্রশিক্ষণ নিয়ে নিজের কেরিয়ার গড়ে তোলেন।
পুণে ফিল্ম ইনস্টিটিউট থেকে শুরু স্বপ্নপূরণের পথ
অভিজিৎ সেন পুণের বিখ্যাত ফিল্ম অ্যান্ড টেলিভিশন ইনস্টিটিউট থেকে এডিটিং নিয়ে পড়াশোনা করেন। পড়াশোনা শেষে বলিউডের একাধিক খ্যাতনামা পরিচালকের সঙ্গে কাজের সুযোগ পান। চলচ্চিত্র নির্মাণের খুঁটিনাটি শেখার পাশাপাশি শিক্ষক হিসেবেও কাজ করেছেন তিনি। পরে কলকাতার শিক্ষাঙ্গন এবং টেলিভিশন ইন্ডাস্ট্রিতে নিজের জায়গা তৈরি করেন।
‘দিদি নম্বর ১’-এর জন্মের গল্প
২০০৯ সালে জি বাংলার টিমের সঙ্গে নতুন ধরনের একটি অনুষ্ঠান তৈরির পরিকল্পনা করেন অভিজিৎ সেন। সেই ভাবনা থেকেই জন্ম হয় ‘দিদি নম্বর ১’-এর। প্রথমদিকে অনুষ্ঠানটি স্টুডিওকেন্দ্রিক ছিল না। বরং বাড়ি বাড়ি গিয়ে সাধারণ মহিলাদের জীবনের গল্প তুলে ধরা হতো। পরে তিনি অভিনেত্রী Rachana Banerjee-কে সঞ্চালনার জন্য রাজি করান। আর তারপরই বদলে যায় বাংলার রিয়ালিটি শোর ইতিহাস।
শুধু ‘দিদি নম্বর ১’ নয়, ‘সারেগামাপা’-তেও বড় ভূমিকা
বাংলার জনপ্রিয় সংগীত প্রতিযোগিতা ‘সারেগামাপা’-র আধুনিক ও জমকালো রূপ দেওয়ার ক্ষেত্রেও অভিজিৎ সেনের অবদান রয়েছে। প্রতিযোগীদের কাছে তিনি কঠোর শৃঙ্খলাপরায়ণ পরিচালক হিসেবে পরিচিত হলেও, দর্শকদের কাছে তাঁর কাজ বরাবরই প্রশংসিত হয়েছে। অনুষ্ঠানকে আরও আকর্ষণীয় ও বৃহৎ পরিসরে পৌঁছে দেওয়ার ক্ষেত্রে তাঁর পরিকল্পনা বিশেষ ভূমিকা পালন করেছে।
টেলিভিশন থেকে বড়পর্দা, সঙ্গী সুপারস্টার দেব
টেলিভিশনে সাফল্যের পর বড়পর্দায় আত্মপ্রকাশ করেন অভিজিৎ সেন। তাঁর পরিচালিত প্রথম ছবি ছিল Tonic, যেখানে অভিনয় করেছিলেন Dev। ছবিটি বক্স অফিসে ব্যাপক সাফল্য পায়। এরপর Prajapati, Pradhan এবং ‘প্রজাপতি ২’-এর মতো একাধিক সফল ছবিতে এই জুটি দর্শকদের মন জয় করে।
পরিবারের জন্য বিনোদন তৈরির লক্ষ্য
অভিজিৎ সেনের মতে, এমন সিনেমা ও অনুষ্ঠান তৈরি করা উচিত যা পরিবারের সকল সদস্য একসঙ্গে বসে উপভোগ করতে পারেন। সেই দর্শন নিয়েই তিনি টেলিভিশন ও চলচ্চিত্র—দুই ক্ষেত্রেই কাজ করে চলেছেন। তাঁর হাত ধরেই বাংলার বিনোদন জগৎ পেয়েছে একাধিক স্মরণীয় সৃষ্টি।
বাংলার অন্যতম জনপ্রিয় রিয়ালিটি শো ‘দিদি নম্বর ১’-এর সাফল্যের পিছনে রয়েছেন পরিচালক অভিজিৎ সেন। শুধু এই শো নয়, ‘সারেগামাপা’-র আধুনিক রূপ গড়ার ক্ষেত্রেও তাঁর বড় ভূমিকা রয়েছে। পরে বড়পর্দায় পা রেখে সুপারস্টার দেবের সঙ্গে একের পর এক ব্লকবাস্টার ছবি উপহার দিয়েছেন তিনি।









