ক্ষেত বাঁচাও অভিযানে মিনাখাঁর কৃষকরা পেলেন আধুনিক চাষের মন্ত্র, কমবে খরচ-বাড়বে ফলন

মিনাখাঁয় শুরু হয়েছে ‘ক্ষেত বাঁচাও অভিযান’। জৈব সার, মাটি পরীক্ষা, আধুনিক প্রযুক্তি ও অর্থনৈতিক পরিকল্পনার মাধ্যমে কৃষকদের লাভজনক ও টেকসই চাষাবাদের প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে।

প্রতিকূল আবহাওয়া, অনিয়মিত বৃষ্টি এবং ক্রমবর্ধমান উৎপাদন খরচের চাপে যখন কৃষকরা দিশেহারা, তখন তাঁদের পাশে দাঁড়াতে নতুন উদ্যোগ নিল কৃষি দফতর। উত্তর ২৪ পরগনার মিনাখাঁয় শুরু হয়েছে ‘ক্ষেত বাঁচাও অভিযান’। এই কর্মসূচির মাধ্যমে কৃষকদের আধুনিক কৃষি প্রযুক্তি, মাটির স্বাস্থ্য রক্ষা এবং লাভজনক চাষাবাদের নানা দিক সম্পর্কে হাতে-কলমে প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে।

আধুনিক কৃষির পথে কৃষকদের উৎসাহ

কৃষিক্ষেত্রে পরিবর্তিত পরিস্থিতির সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলতে আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার এখন সময়ের দাবি। সেই লক্ষ্যেই ‘ক্ষেত বাঁচাও অভিযান’-এর মাধ্যমে কৃষকদের উন্নত কৃষি পদ্ধতির সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেওয়া হচ্ছে। বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, বিজ্ঞানভিত্তিক চাষাবাদ শুধু উৎপাদন বাড়ায় না, একই সঙ্গে ঝুঁকিও কমায়।

জৈব সারের ব্যবহারে গুরুত্ব, কমবে উৎপাদন খরচ

প্রশিক্ষণ শিবিরে কৃষকদের জানানো হয়, অতিরিক্ত রাসায়নিক সার ব্যবহারের ফলে মাটির উর্বরতা ধীরে ধীরে কমে যাচ্ছে। তাই জৈব সার এবং প্রাকৃতিক কৃষি পদ্ধতির উপর জোর দেওয়া হচ্ছে। কৃষি বিশেষজ্ঞদের মতে, জৈব সারের ব্যবহার বাড়লে মাটির গুণগত মান বজায় থাকবে এবং দীর্ঘমেয়াদে চাষের খরচও কমবে।

মাটি পরীক্ষা ছাড়া নয় চাষ

চাষের আগে মাটির স্বাস্থ্য পরীক্ষা করার গুরুত্বও তুলে ধরা হয় কর্মসূচিতে। কোন জমিতে কোন পুষ্টি উপাদানের ঘাটতি রয়েছে, তা জানার জন্য মাটি পরীক্ষা অত্যন্ত জরুরি বলে জানান কৃষি আধিকারিকরা। এতে সঠিক মাত্রায় সার প্রয়োগ করা সম্ভব হবে এবং অপ্রয়োজনীয় খরচ এড়ানো যাবে।

জলবায়ু পরিবর্তনের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলার পাঠ

বর্তমান সময়ে জলবায়ু পরিবর্তন কৃষিক্ষেত্রের অন্যতম বড় সমস্যা। কখনও অতিবৃষ্টি, কখনও খরা, আবার কখনও তীব্র তাপপ্রবাহ ফসলের ক্ষতি করছে। এই পরিস্থিতিতে আবহাওয়া-ভিত্তিক কৃষি পরিকল্পনা, উন্নত সেচ ব্যবস্থা এবং দুর্যোগ মোকাবিলার কৌশল সম্পর্কে কৃষকদের প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়। বিশেষজ্ঞরা বলেন, প্রযুক্তির সাহায্যে অনেকটাই ক্ষয়ক্ষতি কমানো সম্ভব।

কৃষকদের সঙ্গে সরাসরি আলোচনা

শুধু বক্তৃতা নয়, কৃষকদের বাস্তব সমস্যার সমাধানেও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে এই শিবিরে। কৃষি দফতরের আধিকারিকরা সরাসরি কৃষকদের সঙ্গে আলোচনা করেন এবং সরকারি প্রকল্প, ফসল উৎপাদন ও বাজারজাতকরণ সংক্রান্ত নানা প্রশ্নের উত্তর দেন। এতে কৃষকদের মধ্যে ইতিবাচক সাড়া মিলেছে।

লাভজনক কৃষির জন্য অর্থনৈতিক পরিকল্পনার পরামর্শ

প্রশিক্ষণ কর্মসূচিতে কৃষকদের আয়-ব্যয়ের হিসাব রাখার গুরুত্বও বোঝানো হয়। বীজ, সার, শ্রমিক খরচ থেকে শুরু করে বাজারে ফসল বিক্রি পর্যন্ত প্রতিটি ধাপের আর্থিক পরিকল্পনা কীভাবে করতে হবে, সে বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। বিশেষজ্ঞদের মতে, সঠিক পরিকল্পনাই কৃষকদের আর্থিকভাবে আরও শক্তিশালী করে তুলতে পারে।

উত্তর ২৪ পরগনার মিনাখাঁয় শুরু হয়েছে ‘ক্ষেত বাঁচাও অভিযান’। কৃষকদের আধুনিক ও পরিবেশবান্ধব কৃষি পদ্ধতির প্রশিক্ষণ দেওয়ার পাশাপাশি জৈব সার ব্যবহার, মাটির স্বাস্থ্য পরীক্ষা, জলবায়ু পরিবর্তনের মোকাবিলা এবং সঠিক অর্থনৈতিক পরিকল্পনার উপর জোর দেওয়া হয়েছে। কৃষি দফতরের দাবি, এই উদ্যোগ কৃষকদের উৎপাদন খরচ কমাতে এবং দীর্ঘমেয়াদে আয় বাড়াতে সাহায্য করবে।

Leave a comment