দিঘায় ‘জগন্নাথ ধাম’ নাম সরিয়ে নতুন পরিচয়, ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই বদলে গেল সাইনবোর্ড

দিঘার জগন্নাথ মন্দির কমপ্লেক্স থেকে সরানো হল ‘জগন্নাথ ধাম’ নাম। মুখ্যমন্ত্রীর ঘোষণার ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই বসানো হল ‘শ্রী শ্রী জগন্নাথ কালচারাল সেন্টার’-এর নতুন সাইনবোর্ড। SEO-friendly বাংলা প্রতিবেদন।

দিঘার জগন্নাথ মন্দিরের নামকরণ নিয়ে পশ্চিমবঙ্গ ও ওড়িশার মধ্যে দীর্ঘদিন ধরেই বিতর্ক চলছিল। বিশেষ করে ‘ধাম’ শব্দের ব্যবহার নিয়ে ধর্মীয় আবেগ ও ঐতিহ্যের প্রশ্ন উঠেছিল। সেই বিতর্কের ইতি টেনে মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশে সরিয়ে দেওয়া হল ‘জগন্নাথ ধাম’ লেখা ব্যানার। তার জায়গায় বসানো হয়েছে ‘শ্রী শ্রী জগন্নাথ কালচারাল সেন্টার’-এর নতুন সাইনবোর্ড।

নাম-বিতর্কের অবসান, নতুন পরিচয়ে দিঘার জগন্নাথ কমপ্লেক্স

দিঘার সমুদ্রতীরবর্তী জগন্নাথ মন্দির কমপ্লেক্সকে ঘিরে যে বিতর্ক কয়েক মাস ধরে রাজনৈতিক ও ধর্মীয় মহলে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠেছিল, তারই সমাধান মিলল বুধবার। ‘জগন্নাথ ধাম’ শব্দবন্ধ সরিয়ে দেওয়া হয়েছে সরকারি সাইনবোর্ড থেকে। এখন থেকে গোটা কমপ্লেক্স ‘শ্রী শ্রী জগন্নাথ কালচারাল সেন্টার’ নামে পরিচিত হবে।

মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশের পরেই প্রশাসনের দ্রুত পদক্ষেপ

মঙ্গলবার সাংবাদিক বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছিলেন যে, পুরীর ঐতিহাসিক জগন্নাথ ধামের সঙ্গে বিভ্রান্তি এড়াতে ‘ধাম’ শব্দটি আর ব্যবহার করা হবে না। সেই ঘোষণার পর মাত্র এক দিনের মধ্যেই নতুন ব্যানার লাগিয়ে প্রশাসন ও মন্দির কর্তৃপক্ষ দ্রুততার সঙ্গে সিদ্ধান্ত কার্যকর করেছে।বুধবার রামনগরের বিধায়ক চন্দ্রশেখর মণ্ডল এবং ইসকনের প্রতিনিধি রাধারমণ দাসের উপস্থিতিতে পুরনো ব্যানার খুলে নতুন সাইনবোর্ড স্থাপন করা হয়।

কেন আপত্তি উঠেছিল ‘ধাম’ শব্দ নিয়ে?

সনাতন ধর্মে ‘চার ধাম’-এর বিশেষ ধর্মীয় গুরুত্ব রয়েছে। পুরীর জগন্নাথ ধাম সেই চার পবিত্র ধামের অন্যতম। তাই দিঘার মন্দিরের নামের সঙ্গে ‘ধাম’ শব্দ যুক্ত হওয়ায় ওড়িশার ধর্মীয় মহল ও বিভিন্ন সংগঠনের একাংশ আপত্তি জানিয়েছিল।তাদের দাবি ছিল, পুরীর শতাব্দীপ্রাচীন ধর্মীয় মর্যাদার সঙ্গে অন্য কোনও নতুন মন্দিরকে একই অভিধায় উল্লেখ করা হলে বিভ্রান্তি তৈরি হতে পারে। সেই কারণেই নাম পরিবর্তনের দাবি ক্রমশ জোরালো হয়ে ওঠে।

ওড়িশা-পশ্চিমবঙ্গের আলোচনার পর মিলল সমাধান

বিতর্ক মেটাতে ওড়িশার তরফ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে বিষয়টি পশ্চিমবঙ্গ সরকারের নজরে আনা হয়। পুরীর সাংসদ সম্বিৎ পাত্র মুখ্যমন্ত্রীর কাছে চিঠি পৌঁছে দেন। পরবর্তী বৈঠকে উভয় পক্ষের মধ্যে আলোচনা হয় এবং অবশেষে ‘ধাম’ শব্দ সরিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।প্রশাসনের মতে, এর ফলে একদিকে যেমন পুরীর ঐতিহ্য ও ধর্মীয় মর্যাদা অক্ষুণ্ণ থাকবে, অন্যদিকে দিঘার জগন্নাথ মন্দিরও তার ধর্মীয় কার্যক্রম যথারীতি চালিয়ে যেতে পারবে।

মন্দির থাকবে, বদলাবে শুধু কমপ্লেক্সের নাম

সরকারি সূত্রে জানানো হয়েছে, শুধুমাত্র কমপ্লেক্সের নাম পরিবর্তন করা হয়েছে। জগন্নাথদেবের পূজা-পার্বণ, ধর্মীয় আচার বা মন্দির পরিচালনায় কোনও পরিবর্তন আসছে না। মন্দির অংশটি আগের মতোই ‘জগন্নাথ মন্দির’ হিসেবেই পরিচিত থাকবে।অন্যদিকে, পুরো কমপ্লেক্সের সাংস্কৃতিক ও ধর্মীয় কর্মকাণ্ডের কেন্দ্র হিসেবে ‘শ্রী শ্রী জগন্নাথ কালচারাল সেন্টার’ নাম ব্যবহার করা হবে।

দিঘার জগন্নাথ মন্দিরকে ঘিরে দীর্ঘদিনের নাম-বিতর্কের অবসান ঘটল। ‘জগন্নাথ ধাম’ শব্দবন্ধ সরিয়ে মন্দির কমপ্লেক্সের নতুন নাম রাখা হয়েছে ‘শ্রী শ্রী জগন্নাথ কালচারাল সেন্টার’। মুখ্যমন্ত্রীর ঘোষণার মাত্র ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই নতুন সাইনবোর্ড বসিয়ে প্রশাসন দ্রুত পদক্ষেপের নজির গড়েছে।

Leave a comment