রাজ্যের বিভিন্ন জায়গায় বাণিজ্যিক গ্যাস সিলিন্ডারের সঙ্কট ক্রমেই প্রকট হচ্ছে। এই পরিস্থিতির জেরে সমস্যায় পড়েছে বহু রেস্তরাঁ ও বড় রান্নাঘর। এবার সেই প্রভাব পড়ল পূর্ব মেদিনীপুরের পর্যটনকেন্দ্র দিঘার জগন্নাথ মন্দিরেও। গ্যাস না পাওয়ায় বাধ্য হয়ে মেনু বদল করতে হয়েছে মন্দির কর্তৃপক্ষকে।
গ্যাসের অভাবে বদল প্রসাদের মেনু
মন্দির সূত্রে জানা গিয়েছে, এতদিন দুপুর ও রাতের প্রসাদে ভাত, ডাল এবং চার রকমের সবজি পরিবেশন করা হত। কিন্তু বাণিজ্যিক গ্যাস সিলিন্ডার না পাওয়ায় সেই মেনুতে বড় পরিবর্তন আনা হয়েছে। এখন ভক্তদের জন্য খিচুড়ি রান্না করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এতে রান্নার সময় কম লাগে এবং গ্যাসও তুলনামূলক কম খরচ হয়।
ভক্তদের সংখ্যা কমিয়ে বড় সিদ্ধান্ত
গ্যাসের সীমিত জোগানের কারণে প্রসাদ গ্রহণকারীর সংখ্যাও কমিয়ে দিতে হয়েছে। আগে প্রতিদিন প্রায় ৩,০০০ জন ভক্তকে প্রসাদ দেওয়া হত। কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতিতে সেই সংখ্যা কমিয়ে মাত্র ৭৫০ জনে নামিয়ে আনা হয়েছে। ফলে মন্দিরে আগত বহু ভক্তকে প্রসাদ থেকে বঞ্চিত হতে হতে পারে।
১০ সিলিন্ডার থেকে কমে ৩ সিলিন্ডার
মন্দিরের রান্নাঘরে এতদিন বিপুল পরিমাণ রান্না করতে প্রতিদিন প্রায় ১০টি বাণিজ্যিক গ্যাস সিলিন্ডার ব্যবহার করা হত। এখন পরিস্থিতির চাপে সেই সংখ্যা কমিয়ে মাত্র ৩টি সিলিন্ডারে রান্না চালানোর চেষ্টা করা হচ্ছে। ফলে রান্নার পরিমাণ ও বৈচিত্র্য—দুটোই কমাতে হয়েছে।
সবচেয়ে বড় সমস্যা মিষ্টি প্রস্তুতিতে
মন্দির কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ভোগ রান্নার মধ্যে সবচেয়ে বেশি সমস্যায় পড়তে হচ্ছে মিষ্টি তৈরি করতে। কারণ মিষ্টি বানাতে দীর্ঘ সময় ধরে আগুন জ্বালিয়ে রাখতে হয়, যা গ্যাসের ব্যবহার বাড়িয়ে দেয়। ফলে অনেক ক্ষেত্রেই মিষ্টির পরিমাণও কমিয়ে দিতে হচ্ছে।
গ্যাস সঙ্কটে বিপাকে রেস্তরাঁ শিল্পও
গ্যাসের সঙ্কটের জেরে কলকাতার বেশ কিছু রেস্তরাঁও সমস্যায় পড়েছে। শহরের পুরনো নামী রেস্তরাঁগুলির মধ্যে কিছু প্রতিষ্ঠান বিকল্প ব্যবস্থা হিসেবে আবার কাঠ ও কয়লার চুলায় রান্না করার পরিকল্পনা করছে। মল্লিকবাজার এলাকার ঐতিহ্যবাহী রেস্তরাঁ সিরাজ-এর তরফেও জানানো হয়েছে, প্রয়োজনে তারা কাঠ ও কয়লা ব্যবহার করে রান্না শুরু করতে পারে। মেনুতেও কিছু কাটছাঁট করা হয়েছে।
বাণিজ্যিক এলপিজি সিলিন্ডারের তীব্র সঙ্কটের প্রভাব এবার পড়ল দিঘার জগন্নাথ মন্দিরেও। গ্যাস না পাওয়ায় মন্দির কমিটি প্রসাদের মেনুতে বড় পরিবর্তন আনতে বাধ্য হয়েছে। আগে যেখানে প্রতিদিন প্রায় তিন হাজার ভক্তকে প্রসাদ দেওয়া হত, এখন তা কমিয়ে মাত্র ৭৫০ জনে নামিয়ে আনা হয়েছে। গ্যাস বাঁচাতে রান্নার ধরনেও বদল আনা হয়েছে।










