কয়েক সপ্তাহ আগেও নির্জনতা ছিল সৈকতজুড়ে। হোটেল বুকিং ছিল তলানিতে, ছোট ব্যবসায়ীদের মুখে ছিল দুশ্চিন্তার ছাপ। তবে মাধ্যমিক পরীক্ষা শেষ হতেই বদলাতে শুরু করেছে চিত্র। সপ্তাহান্তে ফের প্রাণের স্পন্দন ফিরেছে দিঘা-র সমুদ্র শহরে।
পরীক্ষার পরেই বদলাচ্ছে ছবি
পরীক্ষার মরশুমে পরিবার নিয়ে বেড়াতে আসা পর্যটকের সংখ্যা কমে গিয়েছিল। ফলে সমুদ্রপাড় ছিল অনেকটাই ফাঁকা। বর্ষবরণের পর থেকেই ধীরে ধীরে ভিড় কমতে থাকে। তবে মাধ্যমিক শেষ হতেই পরিস্থিতি ঘুরতে শুরু করেছে। শুক্রবার রাত থেকেই হোটেল ও লজে বুকিং বাড়ার ইঙ্গিত মিলেছে।
সৈকতে ফিরেছে কোলাহল
শনিবার সকাল থেকেই সমুদ্র যেন নতুন প্রাণ ফিরে পেয়েছে। ঢেউয়ের সঙ্গে তাল মিলিয়ে স্নান, বালিয়াড়িতে ছবি তোলা, ঘোড়ায় চড়া—সব মিলিয়ে জমজমাট পরিবেশ। ঝিনুক বিক্রেতা, খেলনার দোকান, ফটোগ্রাফার—সবাই আবার ব্যস্ত। কয়েকদিন আগের নীরবতা যেন উধাও।
স্বস্তিতে ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা
সমুদ্রের ধারের চা দোকান, ঝালমুড়ি স্টল থেকে শুরু করে ছোট হোটেল—সব ক্ষেত্রেই বিক্রি বেড়েছে। ব্যবসায়ীদের মতে, দীর্ঘ মন্দার পর এই ভিড় নতুন করে আশার আলো দেখাচ্ছে। সাপ্তাহিক ছুটির জেরে পর্যটকের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলেই অনুমান।
হোটেল বুকিংয়ে উল্লম্ফন
দিঘা-শংকরপুর হোটেলিয়ার্স অ্যাসোসিয়েশনের তরফে জানানো হয়েছে, গত কয়েক সপ্তাহের তুলনায় বুকিং পরিস্থিতি অনেকটাই উন্নত। পরীক্ষার চাপ কাটতেই পরিবারগুলি সমুদ্র সফরে আগ্রহ দেখাচ্ছেন। উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষা শেষ হলে পর্যটক সংখ্যা আরও বাড়বে বলে আশা।
মন্দিরেও ভক্তদের ঢল
শুক্রবার রাতে দিঘা জগন্নাথ মন্দির চত্বরে দেখা যায় উপচে পড়া ভিড়। সন্ধ্যার আরতি ঘিরে ছিল বিশেষ উৎসাহ। পরিবার নিয়ে বহু দর্শনার্থী মন্দিরে উপস্থিত হন। প্রায় জনসমুদ্রের চেহারা নেয় মন্দির প্রাঙ্গণ।
পরীক্ষার মরশুম ও সাম্প্রতিক পরিস্থিতির জেরে মন্দা কাটিয়ে ফের ঘুরে দাঁড়াচ্ছে দিঘার পর্যটন। সপ্তাহান্তে সমুদ্র সৈকতে ভিড়, হোটেল বুকিং বৃদ্ধি এবং দিঘা জগন্নাথ মন্দির-এ ভক্তদের সমাগমে স্বস্তিতে ব্যবসায়ীরা।











