বিবাহবিচ্ছেদ মানেই কি স্বামীকে বাধ্যতামূলকভাবে স্ত্রীকে খোরপোশ দিতে হবে? এই প্রশ্ন বহু মানুষের মনে ঘোরাফেরা করে। কিন্তু বাস্তবে ভারতীয় আইন এতটা সরল নয়। প্রতিটি মামলার পরিস্থিতি, উভয় পক্ষের আর্থিক অবস্থা এবং প্রাসঙ্গিক তথ্য-প্রমাণ বিচার করেই আদালত খোরপোশ সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত নেয়। ফলে সব ক্ষেত্রে একই নিয়ম প্রযোজ্য হয় না।
খোরপোশ নির্ধারণে কী দেখে আদালত?
ভারতীয় আইনে অ্যালিমনি বা খোরপোশ নির্ধারণের জন্য কোনও নির্দিষ্ট অঙ্ক বা নির্দিষ্ট সূত্র নেই। আদালত প্রতিটি মামলার বাস্তব পরিস্থিতি বিচার করে সিদ্ধান্ত দেয়।
বিবেচনায় রাখা হয়—
স্বামী ও স্ত্রীর মাসিক আয়
উপার্জনের সক্ষমতা
সম্পত্তি ও আর্থিক অবস্থা
বিবাহকালীন জীবনযাত্রার মান
ভবিষ্যতের আর্থিক নিরাপত্তা
পরিবারের প্রতি অবদান
নির্ভরশীল সদস্যদের দায়িত্ব
গৃহবধূর ক্ষেত্রে আদালতের দৃষ্টিভঙ্গি
যদি কোনও নারী দীর্ঘদিন সংসার ও সন্তানদের দেখাশোনার জন্য নিজের কর্মজীবন ছেড়ে দেন, তাহলে বিবাহবিচ্ছেদের পরে তাঁর আর্থিক নিরাপত্তার বিষয়টি আদালত গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা করতে পারে।এক্ষেত্রে স্বামীর আর্থিক সামর্থ্য এবং স্ত্রীর ভবিষ্যৎ জীবনের প্রয়োজনীয়তাও বিচার করা হয়।
শুধু স্ত্রী নয়, স্বামীও কি খোরপোশ চাইতে পারেন?
হিন্দু বিবাহ আইন, ১৯৫৫-এর ২৪ ও ২৫ ধারার অধীনে বিশেষ পরিস্থিতিতে স্বামীও ভরণপোষণের আবেদন করতে পারেন।
যেমন—
শারীরিক প্রতিবন্ধকতার কারণে উপার্জনে অক্ষম হলে
স্ত্রীর উপর আর্থিকভাবে নির্ভরশীল থাকার প্রমাণ থাকলে
পর্যাপ্ত তথ্য ও প্রমাণ আদালতে উপস্থাপন করা গেলে
তবে আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, এ ধরনের ঘটনা খুবই বিরল এবং প্রতিটি আবেদন পৃথকভাবে বিচার করা হয়।
কোন ক্ষেত্রে খোরপোশ নাও মিলতে পারে?
যদি দেখা যায়—
স্বামী ও স্ত্রীর আয় প্রায় সমান,
উভয়ের আর্থিক অবস্থাও একই ধরনের,
কেউই আর্থিকভাবে অন্যের উপর নির্ভরশীল নন,
তাহলে আদালত খোরপোশ দেওয়ার নির্দেশ নাও দিতে পারে।
সন্তানের দায়িত্বও গুরুত্বপূর্ণ
প্রয়োজনে সন্তানের স্বার্থে অতিরিক্ত আর্থিক সহায়তার নির্দেশও দিতে পারে আদালত।
আইনের মূল উদ্দেশ্য কী?
আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, খোরপোশের উদ্দেশ্য কোনও পক্ষকে শাস্তি দেওয়া নয়। বরং যিনি আর্থিকভাবে নির্ভরশীল, তাঁর সম্মানজনক জীবনযাপন নিশ্চিত করাই এই ব্যবস্থার মূল লক্ষ্য।প্রতিটি মামলায় আদালত তথ্য-প্রমাণ, আর্থিক সক্ষমতা এবং বাস্তব পরিস্থিতি বিচার করেই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত দেয়।
বিবাহবিচ্ছেদের পর খোরপোশ বা অ্যালিমনি নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে নানা ভুল ধারণা রয়েছে। ভারতীয় আইনে খোরপোশ দেওয়ার কোনও নির্দিষ্ট ফর্মুলা নেই। আদালত স্বামী-স্ত্রীর আয়, আর্থিক সক্ষমতা, বৈবাহিক জীবনে অবদান এবং ভবিষ্যতের নিরাপত্তার মতো একাধিক বিষয় বিবেচনা করেই সিদ্ধান্ত নেয়। বিশেষ পরিস্থিতিতে স্বামীও খোরপোশ দাবি করতে পারেন।













