ফলের বাজারে এখন বেশ পরিচিত ড্রাগন ফ্রুট। উজ্জ্বল রঙের খোসা ও ভিতরে ছোট ছোট বীজে ভরা এই ফল স্বাদে যেমন আলাদা, পুষ্টিগুণের দিক থেকেও বেশ সমৃদ্ধ। এতে রয়েছে ফাইবার, ভিটামিন সি, আয়রন, ম্যাগনেশিয়াম এবং অ্যান্টিঅক্সিড্যান্ট। কিন্তু কোনও খাবার পুষ্টিকর হলেই যে তা প্রত্যেকের জন্য নিরাপদ, এমনটা নয়। ডায়েটেশিয়ান ডা. শ্রীলতার মতে, কিছু ক্ষেত্রে ড্রাগন ফ্রুট খাওয়ার ব্যাপারে সতর্ক থাকা প্রয়োজন।
ড্রাগন ফ্রুটে কী কী পুষ্টি রয়েছে?
ড্রাগন ফ্রুটে ফাইবার, ভিটামিন সি, আয়রন, ম্যাগনেশিয়াম এবং অ্যান্টিঅক্সিড্যান্ট পাওয়া যায়। প্রতি ১০০ গ্রাম ফলে আনুমানিক ৬০ কিলোক্যালরি শক্তি, ১৩–১৫ গ্রাম কার্বোহাইড্রেট, প্রায় ৩ গ্রাম ফাইবার এবং ১ গ্রাম প্রোটিন থাকতে পারে।এই পুষ্টিগুণের কারণেই স্বাস্থ্যসচেতন মানুষের খাদ্যতালিকায় জায়গা করে নিয়েছে ড্রাগন ফ্রুট।
যাঁদের অ্যালার্জি রয়েছে, তাঁরা দূরে থাকুন
ড্রাগন ফ্রুটে অ্যালার্জি থাকা তুলনামূলক বিরল হলেও এমন ঘটনা ঘটতে পারে। কারও এই ফলে অ্যালার্জি থাকলে খাওয়ার পর শরীরে ফুসকুড়ি, চুলকানি, ঠোঁট বা জিভ ফুলে যাওয়া কিংবা বমির মতো সমস্যা দেখা দিতে পারে।শ্বাসকষ্ট, গলা বা মুখ ফুলে যাওয়ার মতো গুরুতর লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসা নেওয়া জরুরি।
ডায়াবেটিস থাকলে বেশি খাবেন না
ডায়াবেটিসে আক্রান্তদের ড্রাগন ফ্রুট খাওয়ার পরিমাণের দিকে নজর রাখা উচিত। বিশেষ করে যাঁরা রক্তে শর্করা কমানোর ওষুধ খান বা ইনসুলিন ব্যবহার করেন, তাঁদের ক্ষেত্রে খাদ্যতালিকায় এই ফল যোগ করার আগে চিকিৎসক বা ডায়েটিশিয়ানের পরামর্শ নেওয়া ভালো।নিজের ডায়েট চার্ট ও ওষুধের ধরন অনুযায়ী কতটা ফল খাওয়া নিরাপদ, তা ঠিক করা উচিত।
কিডনির সমস্যা থাকলে সতর্কতা জরুরি
কিডনির কার্যক্ষমতা কমে গেলে শরীরে পটাশিয়ামের ভারসাম্য বজায় রাখা কঠিন হতে পারে। ফলে কিডনি রোগীদের ক্ষেত্রে পটাশিয়ামযুক্ত খাবার কতটা খাওয়া যাবে, সেটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।তবে কিডনির সমস্যা থাকলেই ড্রাগন ফ্রুট সম্পূর্ণ বন্ধ করতে হবে—এমন নয়। রোগের পর্যায়, রক্তে পটাশিয়ামের মাত্রা এবং চলতি ওষুধের উপর ভিত্তি করে চিকিৎসক ঠিক করবেন কতটা খাওয়া যেতে পারে।
গর্ভবতী ও স্তন্যদানকারী মায়েরা কি খেতে পারবেন?
গর্ভাবস্থা বা স্তন্যদানের সময় ড্রাগন ফ্রুট নিয়ে অযথা আতঙ্কিত হওয়ার প্রয়োজন নেই। তবে অন্যান্য খাবারের মতোই পরিমাণের দিকে নজর রাখা জরুরি।ব্যক্তিগত স্বাস্থ্য পরিস্থিতি বা বিশেষ কোনও শারীরিক সমস্যা থাকলে খাদ্যতালিকায় এই ফল রাখার আগে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়াই নিরাপদ।
সুস্থ মানুষ কি নিশ্চিন্তে খেতে পারেন?
সাধারণভাবে সুস্থ মানুষ পরিমিত পরিমাণে ড্রাগন ফ্রুট খেতে পারেন। তবে যে কোনও ফলের মতো এটিও অতিরিক্ত খাওয়ার প্রয়োজন নেই।বিশেষ কোনও রোগ, অ্যালার্জি বা নিয়মিত ওষুধ চললে নিজের ইচ্ছেমতো পরিমাণ ঠিক না করে চিকিৎসক বা পুষ্টিবিদের পরামর্শ নেওয়া ভালো।
ড্রাগন ফ্রুট দেখতে আকর্ষণীয় হওয়ার পাশাপাশি ফাইবার, ভিটামিন, অ্যান্টিঅক্সিড্যান্ট, আয়রন ও ম্যাগনেশিয়ামের মতো নানা পুষ্টি উপাদানে সমৃদ্ধ। তবে এই ফল সবার জন্য সমান উপযোগী নয়। বিশেষ করে ড্রাগন ফ্রুটে অ্যালার্জি থাকলে এটি এড়িয়ে চলতে হবে। ডায়াবেটিস, কিডনির সমস্যা কিংবা অন্য কোনও দীর্ঘস্থায়ী অসুস্থতা থাকলে কতটা খাওয়া যাবে, তা চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী ঠিক করা উচিত।













