রাজস্থানের ডুংগারপুর জেলায় ন্যাশনাল হাইওয়ে-৪৮-এ শুক্রবার একটি সড়ক দুর্ঘটনায় এক মহিলা শ্রমিকের মৃত্যু হয়েছে এবং আরও কয়েকজন আহত হয়েছেন। গোগা মোড়ের কাছে আহমেদাবাদ থেকে উদয়পুরগামী টমেটো বোঝাই একটি দ্রুতগতির পিকআপ পিছন দিক থেকে শ্রমিকবোঝাই একটি টেম্পোকে ধাক্কা দিলে দুর্ঘটনাটি ঘটে। সংঘর্ষের পর দুটি যানবাহনই নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সড়কে উল্টে যায়। এর ফলে কিছু সময়ের জন্য মহাসড়কে যান চলাচলও ব্যাহত হয়।
প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে, টেম্পোতে একাধিক শ্রমিক যাত্রা করছিলেন। এ সময় পিছন থেকে দ্রুতগতিতে আসা পিকআপটি টেম্পোকে জোরালো ধাক্কা দেয়। সংঘর্ষের পর দুটি যানবাহন উল্টে গেলে ঘটনাস্থলে চিৎকার-চেঁচামেচি শুরু হয়। স্থানীয় বাসিন্দারা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে আহতদের যানবাহন থেকে বের করে প্রাথমিক সহায়তা দেন। পরে পুলিশ ও অ্যাম্বুলেন্সকে খবর দেওয়া হলে উদ্ধারকাজ শুরু হয়।
আহতদের দ্রুত ডুংগারপুরের বিচ্ছিওয়াড়া হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ধামোদ গ্রামের বাসিন্দা রঙ্গীলা, রাজেন্দ্র ভাগোরার স্ত্রী, গুরুতর আঘাতের কারণে মারা যান। চিকিৎসকেরা তাঁকে বাঁচানোর চেষ্টা করলেও সফল হননি। অন্য আহত শ্রমিকদের চিকিৎসা হাসপাতালে চলছে। তাঁদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা স্বাভাবিক বলে জানানো হয়েছে, আর গুরুতর আহতদের বিশেষ পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে।
দুর্ঘটনার পর পিকআপে থাকা টমেটো সড়কে ছড়িয়ে পড়ায় ন্যাশনাল হাইওয়েতে যান চলাচল ব্যাহত হয়। দুর্ঘটনায় দুটি যানবাহনই গুরুতরভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। পুলিশ ও স্থানীয় প্রশাসন ক্ষতিগ্রস্ত যানবাহন এবং সড়কে ছড়িয়ে থাকা মালামাল সরিয়ে ধীরে ধীরে যান চলাচল স্বাভাবিক করে। কিছু সময় যানবাহনের দীর্ঘ সারি তৈরি হলেও প্রশাসনের পদক্ষেপে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে।
খবর পেয়ে বিচ্ছিওয়াড়া থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধারকাজে সহায়তা করে। মৃতার দেহ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয় এবং আইনগত প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার পর পরিবারের সদস্যদের কাছে হস্তান্তর করা হয়। পুলিশ জানিয়েছে, দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ খতিয়ে দেখা হচ্ছে। প্রাথমিক তদন্তে দ্রুতগতি এবং পিছন থেকে ধাক্কাকে দুর্ঘটনার সম্ভাব্য প্রধান কারণ হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। তবে বিস্তারিত তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশের পরই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানা যাবে।
দুর্ঘটনার পর আশপাশের গ্রামবাসী ও পথচারীরা আহতদের উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠাতে সহায়তা করেন। পরে পুলিশ ও স্বাস্থ্য বিভাগের দল উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রমের দায়িত্ব গ্রহণ করে।
প্রশাসন যানবাহনের চালকদের জাতীয় মহাসড়কে নির্ধারিত গতিসীমা মেনে চলা, নিরাপদ দূরত্ব বজায় রাখা এবং ট্রাফিক নিয়ম অনুসরণের আহ্বান জানিয়েছে। পুলিশ বর্তমানে দুর্ঘটনার সব দিক তদন্ত করছে। আহতদের চিকিৎসা চলছে এবং তাঁদের শারীরিক অবস্থার ওপর নজর রাখা হচ্ছে।












