ভারত কমনওয়েলথ গেমস ২০২৬-এর অষ্টম দিনে ভারোত্তোলন ও অ্যাথলেটিক্সে পদক জিতে মোট পদকসংখ্যা ১৭-তে পৌঁছে দিয়েছে। পুরুষদের ১১০ কেজি ভারোত্তোলন ইভেন্টে লভপ্রীত সিং রৌপ্য পদক জিতেছেন এবং মহিলাদের ডিসকাস থ্রো ইভেন্টে সীমা ব্রোঞ্জ পদক অর্জন করেছেন। ভারতের মোট ১৭টি পদকের মধ্যে রয়েছে তিনটি স্বর্ণ, ১০টি রৌপ্য এবং চারটি ব্রোঞ্জ। পদক তালিকায় ভারতীয় দল বর্তমানে ১০ম স্থানে রয়েছে।
পাঞ্জাবের ভারোত্তোলক লভপ্রীত সিং পুরুষদের ১১০ কেজি ভারোত্তোলন প্রতিযোগিতায় মোট ৩৮৮ কেজি ওজন তুলে রৌপ্য পদক জিতেছেন। তিনি স্ন্যাচে ১৭৬ কেজি এবং ক্লিন অ্যান্ড জার্কে ২১২ কেজি ওজন সফলভাবে তোলেন।
লভপ্রীত পুরো প্রতিযোগিতায় ধারাবাহিক পারফরম্যান্স প্রদর্শন করেন এবং স্ন্যাচ বিভাগে নতুন কমনওয়েলথ গেমস রেকর্ড গড়েন। তবে মোট ওজনের হিসাবে তিনি স্বর্ণপদক থেকে মাত্র এক কেজি পিছিয়ে থাকেন। নিউজিল্যান্ডের ডেভিড অ্যান্ড্রুজ ৩৮৯ কেজি ওজন তুলে স্বর্ণপদক জেতেন, আর ইংল্যান্ডের অ্যান্ড্রু গ্রিফিথ ৩৫৬ কেজি ওজন তুলে ব্রোঞ্জ পদক অর্জন করেন।
প্রতিযোগিতার শেষ পর্যায় পর্যন্ত লড়াই ছিল প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ। লভপ্রীত স্ন্যাচে এগিয়ে থাকলেও ক্লিন অ্যান্ড জার্কে নিউজিল্যান্ডের প্রতিযোগী মোট ৩৮৯ কেজি তুলে এগিয়ে যান। লভপ্রীত ৩৮৮ কেজি নিয়ে দ্বিতীয় স্থানে শেষ করেন। মাত্র এক কেজির ব্যবধানে তিনি স্বর্ণপদক থেকে বঞ্চিত হন।
লভপ্রীত সিংয়ের জন্ম পাঞ্জাবের অমৃতসরের নিকটবর্তী বল সচন্দর গ্রামে। সীমিত আর্থিক সামর্থ্যের পরিবারের সদস্য হিসেবে তিনি শৈশবে মাঠে কাজ করেছেন, দাদার সঙ্গে সবজি বিক্রি করেছেন এবং পরিবারের জীবিকায় সহায়তা করেছেন। তাঁর বাবা দর্জির কাজ করতেন এবং খেলাধুলায় এগিয়ে যেতে তাঁকে উৎসাহিত করেন।
১৩ বছর বয়সে গ্রামের তরুণদের ভারোত্তোলনের অনুশীলন দেখে তিনি এই খেলার প্রতি আগ্রহী হন। ধারাবাহিক অনুশীলনের মাধ্যমে তিনি জাতীয় পর্যায়ে পৌঁছান। ২০১৭ সালে তিনি ভারতীয় ক্রীড়া কর্তৃপক্ষ (SAI)-এর জাতীয় প্রশিক্ষণ শিবিরে সুযোগ পান, যা তাঁর আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের ভিত্তি তৈরি করে।

কমনওয়েলথ গেমস ২০২৬: লভপ্রীতের রৌপ্য, সীমার ব্রোঞ্জে ভারতের পদকসংখ্যা ১৭, জ্যাভলিন ফাইনালে নীরজ-রোহিত-যশ
মহিলাদের ডিসকাস থ্রো ইভেন্টে সীমা তৃতীয় প্রচেষ্টায় ৫৮.৬৫ মিটার নিক্ষেপ করে ব্রোঞ্জ পদক জেতেন। প্রথম তিনটি প্রচেষ্টায় তিনি সফল হন, তবে শেষ তিনটি প্রচেষ্টা ফাউল হয়। তবুও তৃতীয় প্রচেষ্টার ফল তাঁকে পদক জিততে সহায়তা করে।
এই ইভেন্টে জামাইকার সামান্থা হল ৬১.৬৬ মিটার নিক্ষেপ করে স্বর্ণপদক জেতেন এবং কানাডার জুলিয়া টাঙ্কস ৬০.৬৭ মিটার নিক্ষেপ করে রৌপ্য পদক অর্জন করেন। ভারতের আরেক প্রতিযোগী নিধি রানি ৫৩.১৯ মিটার নিক্ষেপ করে চতুর্থ স্থানে শেষ করেন।
সীমা গুরুতর হাঁটুর চোট এবং মাতৃত্বের পর আন্তর্জাতিক পর্যায়ে প্রত্যাবর্তন করেছেন। চোটের কারণে তিনি তিন বছরেরও বেশি সময় প্রতিযোগিতামূলক খেলাধুলার বাইরে ছিলেন। দীর্ঘ পুনর্বাসনের পর তিনি আবার জাতীয় ও আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ শুরু করেন। বর্তমানে তিনি হরিয়ানার চৌধুরী বানসি লাল বিশ্ববিদ্যালয়ে শারীরিক শিক্ষায় পিএইচডি করছেন। ২০২৫ সালে তিনি দক্ষিণ এশীয় অ্যাথলেটিক্স চ্যাম্পিয়নশিপে স্বর্ণপদক জিতেছিলেন এবং ধারাবাহিক পারফরম্যান্সের ভিত্তিতে ভারতীয় দলে নিজের স্থান নিশ্চিত করেন।
ভারতের জ্যাভলিন থ্রোয়ার নীরজ চোপড়া কোয়ালিফিকেশন রাউন্ডে দ্বিতীয় প্রচেষ্টায় ৭৯.৬১ মিটার নিক্ষেপ করে ফাইনালে স্থান নিশ্চিত করেন। তিনি মোটের ওপর পঞ্চম স্থানে ছিলেন। প্রথম প্রচেষ্টায় তিনি ৭৬.২৮ মিটার নিক্ষেপ করেছিলেন। দ্বিতীয় প্রচেষ্টার পর তিনি তৃতীয় প্রচেষ্টা না করেই ফাইনালে ওঠেন।
ভারতের রোহিত যাদব ৭৮.৩৭ মিটার এবং যশ বীর সিং ৭৮.৩৬ মিটার নিক্ষেপ করে জ্যাভলিন থ্রোর ফাইনালে যোগ্যতা অর্জন করেছেন। এর ফলে ভারতের তিনজন প্রতিযোগী ফাইনালে পদকের লড়াইয়ে থাকবেন।
জ্যাভলিন থ্রোর কোয়ালিফিকেশন পর্বে শ্রীলঙ্কার রুমেশ পাঠিরাজে ৮২.৮৪ মিটার নিক্ষেপ করে প্রথম স্থান অধিকার করেন। গ্রেনাডার অ্যান্ডারসন পিটার্স, দক্ষিণ আফ্রিকার ডাউ স্মিট এবং ইংল্যান্ডের বেন ইস্টও ফাইনালে জায়গা করে নেন। পাকিস্তানের অলিম্পিক চ্যাম্পিয়ন আরশাদ নাদিম ৭৮.৬৩ মিটার নিক্ষেপ করে সপ্তম স্থানে থেকে ফাইনালে ওঠেন।








