দুর্গাপুজোর মণ্ডপে পুরুষ পুরোহিতের একচেটিয়া আধিপত্যে বদল! নিউটাউন সর্বজনীনে ৫ বছর ধরে পুজো করাচ্ছেন দত্তাত্রেয়া

Durga Puja 2026: গত পাঁচ বছর ধরে নিউটাউন সর্বজনীনের দুর্গাপুজোর প্রধান পুরোহিত দত্তাত্রেয়া ঘোষাল। শাস্ত্র মেনে পুজো পরিচালনার পাশাপাশি বাড়ছে নারী পুরোহিতদের গ্রহণযোগ্যতা।

দেবীর আরাধনায় নারীশক্তির বন্দনা করা হয়, অথচ পুজোর মন্ত্রোচ্চারণে নারীর উপস্থিতি একসময় ছিল অত্যন্ত সীমিত। সেই প্রচলিত ছবিই ধীরে ধীরে বদলাচ্ছে। কলকাতার নিউটাউনে তারই উজ্জ্বল উদাহরণ দত্তাত্রেয়া ঘোষাল। গত পাঁচ বছর ধরে নিউটাউন সর্বজনীন দুর্গাপুজোর প্রধান পুরোহিত হিসেবে তিনি নিষ্ঠার সঙ্গে শাস্ত্র মেনে দুর্গাপুজোর সমস্ত আচার সম্পন্ন করে আসছেন।

শাস্ত্র মেনেই দুর্গাপুজোর সমস্ত আচার

দত্তাত্রেয়া ঘোষালের দায়িত্ব শুধু মন্ত্রপাঠে সীমাবদ্ধ নয়। বোধন, অধিবাস, নবপত্রিকা প্রবেশ, সন্ধিপুজো, হোম, অঞ্জলি থেকে শুরু করে বিসর্জন—দুর্গাপুজোর প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ পর্বই তিনি নিয়ম মেনে পরিচালনা করেন।তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, পুজোর মূল বিষয় হল ভক্তি, নিষ্ঠা এবং শাস্ত্রবিধি মেনে আচার সম্পন্ন করা। নির্জলা উপবাস না করেও সঠিক নিয়মে পুজো করা সম্ভব বলেও তিনি মনে করেন।

নারী পুরোহিত এখন আর ব্যতিক্রম নন

কলকাতা থেকে জেলার বিভিন্ন প্রান্ত—দুর্গাপুজোর পাশাপাশি অন্যান্য ধর্মীয় অনুষ্ঠানেও নারী পুরোহিতদের উপস্থিতি ক্রমশ বাড়ছে। মন্ত্রোচ্চারণ, যজ্ঞ, সন্ধিপুজো কিংবা বিসর্জনের মতো গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বও তাঁরা দক্ষতার সঙ্গে সামলাচ্ছেন।দত্তাত্রেয়ার মতো পুরোহিতদের পথচলা দেখিয়ে দিচ্ছে, ধর্মীয় আচার পালনের ক্ষেত্রে দক্ষতা ও প্রশিক্ষণই মূল বিষয়। লিঙ্গের ভিত্তিতে দায়িত্ব ভাগ করার পুরনো ধারণা ধীরে ধীরে বদলাচ্ছে।

দেবীর আরাধনায় নারী পুরোহিতের আলাদা তাৎপর্য

দুর্গাপুজোর মূল দর্শনের অন্যতম দিক হল নারীশক্তির বন্দনা। দেবী দুর্গাকে শক্তি, সাহস, জ্ঞান এবং ন্যায়ের প্রতীক হিসেবে দেখা হয়। সেই দেবীর পুজোয় একজন নারী পুরোহিতের মন্ত্রোচ্চারণ তাই অনেকের কাছেই বিশেষ তাৎপর্য বহন করে।এ যেন ধর্মীয় ঐতিহ্যের সঙ্গে আধুনিক সময়ের নারী-অংশগ্রহণের একটি নতুন সেতুবন্ধন।

নিউটাউন ছাড়িয়ে বিদেশেও ডাক

দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতার কারণে দত্তাত্রেয়া ঘোষাল এবারও নিউটাউন সর্বজনীনের পাশাপাশি একাধিক পুজো কমিটির কাছ থেকে পুরোহিতের দায়িত্ব পালনের প্রস্তাব পেয়েছেন। এমনকী বিদেশে আয়োজিত বাঙালিদের দুর্গাপুজোতেও তাঁর ডাক এসেছে বলে জানা গিয়েছে।এতে স্পষ্ট, নারী পুরোহিতদের গ্রহণযোগ্যতা ধীরে ধীরে বাড়ছে এবং আয়োজকদের আস্থাও তৈরি হচ্ছে।

পুজো করিয়ে কত পারিশ্রমিক?

একটি দুর্গাপুজোর সম্পূর্ণ আচার-অনুষ্ঠান পরিচালনা, প্রস্তুতি এবং সহযোগী দল নিয়ে দায়িত্ব সামলানোর জন্য সাধারণত ৫০ হাজার থেকে ৮০ হাজার টাকা পর্যন্ত পারিশ্রমিক পাওয়া যেতে পারে। তবে পুজোর আকার, আয়োজনের ব্যাপ্তি এবং পুরোহিতের দায়িত্বের উপর ভিত্তি করে এই পারিশ্রমিকের পরিমাণ কম-বেশি হতে পারে।

শুধু পুরোহিত নয়, পুজোর অন্যান্য কাজেও নারীরা এগিয়ে

দুর্গাপুজোর সঙ্গে যুক্ত বিভিন্ন ক্ষেত্রেও নারীদের অংশগ্রহণ বাড়ছে। প্রতিমা তৈরিতে খড় বাঁধা, মাটি দেওয়া, অলংকার তৈরি, রং করা থেকে শুরু করে সাজসজ্জা—বিভিন্ন কাজেই এখন নারীদের দেখা যাচ্ছে।পুজো কমিটির প্রশাসনিক দায়িত্বেও এসেছে পরিবর্তন। অনেক জায়গায় মহিলা সদস্যরা সভাপতি, সম্পাদক কিংবা গুরুত্বপূর্ণ সংগঠনের দায়িত্ব সামলাচ্ছেন। বাজেট তৈরি, স্পনসর সংগ্রহ, সরকারি অনুমতি, সোশ্যাল মিডিয়া পরিচালনা এবং স্বেচ্ছাসেবকদের সমন্বয়ের মতো কাজেও তাঁদের সক্রিয় ভূমিকা দেখা যাচ্ছে।

দুর্গাপুজোর আচার-অনুষ্ঠানে নারী পুরোহিতের উপস্থিতি এখন আর বিরল ছবি নয়। নিউটাউন সর্বজনীন দুর্গাপুজোয় গত পাঁচ বছর ধরে প্রধান পুরোহিতের দায়িত্ব সামলাচ্ছেন দত্তাত্রেয়া ঘোষাল। শাস্ত্রীয় নিয়ম মেনেই বোধন থেকে বিসর্জন পর্যন্ত পুজোর যাবতীয় আচার পরিচালনা করছেন তিনি। তাঁর এই পথচলা ধর্মীয় ক্ষেত্রে নারীর অংশগ্রহণের নতুন দৃষ্টান্ত তৈরি করেছে।

Leave a comment