জিভে বারবার ঘা, গালে সাদা-লাল দাগ? এই লক্ষণগুলি অবহেলা নয়, হতে পারে ওরাল ক্যানসারের সতর্কবার্তা

Oral Cancer Symptoms: মুখের ঘা, সাদা-লাল দাগ, মুখ খুলতে সমস্যা বা দীর্ঘস্থায়ী দুর্গন্ধ অবহেলা করবেন না। কোন লক্ষণে চিকিৎসকের পরামর্শ জরুরি, জানুন।

সকালে দাঁত ব্রাশ করার সময় আয়নায় নিজের মুখটা শেষ কবে ভালো করে দেখেছেন? জিভে বারবার ঘা হচ্ছে, গালের ভিতরের কোনও ক্ষত সারছে না কিংবা হঠাৎ সাদা বা লাল দাগ চোখে পড়ছে? এমন কোনও পরিবর্তন দেখা দিলে অবহেলা করবেন না। সব ঘা বা দাগ যে ক্যানসারের লক্ষণ, তা নয়। তবে দীর্ঘদিন ধরে থাকা অস্বাভাবিক পরিবর্তন দ্রুত পরীক্ষা করানো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

মুখের কোথায় হতে পারে ক্যানসার?

ফরিদাবাদের অমৃতা হাসপাতালের মাথা ও ঘাড় সার্জারি বিভাগের পরামর্শক ডা. নেহা সুরির মতে, মুখের নির্দিষ্ট একটি অংশেই যে ক্যানসার হওয়ার সম্ভাবনা বেশি, এমন নয়। জিহ্বা, গালের ভিতর, মাড়ি কিংবা মুখগহ্বরের অন্যান্য অংশেও সমস্যা দেখা দিতে পারে।বিশেষ করে কোনও জায়গায় দীর্ঘদিন ধরে ঘর্ষণ বা বারবার আঘাত লাগলে বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখা প্রয়োজন। তাই শুধু জিহ্বা বা গাল নয়, নিয়মিত গোটা মুখ পরীক্ষা করার অভ্যাস করা উচিত।

সাধারণ ঘা আর সন্দেহজনক ঘায়ের পার্থক্য

মুখে ঘা হওয়ার পিছনে একাধিক সাধারণ কারণ থাকতে পারে। অ্যাসিডিটি, গ্যাস্ট্রাইটিস, কিছু পুষ্টির ঘাটতি কিংবা ভুল করে দাঁতের চাপে জিহ্বা বা গালে আঘাত লাগার কারণেও ঘা হতে পারে। সাধারণত এই ধরনের সমস্যা কয়েক দিনের মধ্যে কমে যায়।কিন্তু কোনও ঘা ১০ দিন থেকে ২ সপ্তাহের পরেও না সারলে, অথবা ওষুধ ব্যবহারের পরেও একই জায়গায় থেকে গেলে বিষয়টি অবহেলা করা উচিত নয়। এমন পরিস্থিতিতে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া দরকার।

কোন কোন লক্ষণ দেখলে সতর্ক হবেন?

ওরাল ক্যানসারের সম্ভাব্য সতর্কতামূলক লক্ষণগুলির মধ্যে রয়েছে—

মুখে দীর্ঘদিন ধরে ঘা বা ক্ষত থাকা

জিহ্বা বা গালের ভিতরে সাদা কিংবা লাল দাগ দেখা দেওয়া

মুখ খুলতে অসুবিধা হওয়া

ব্রাশ করার সময় অস্বস্তি বা ব্যথা

মুখের ভিতরে অস্বাভাবিক পিণ্ড বা খসখসে অংশ অনুভূত হওয়া

দীর্ঘস্থায়ী মুখের দুর্গন্ধ

মুখের কোনও অংশ থেকে অস্বাভাবিক রক্তপাত

কোনও ক্ষত বা পরিবর্তন দীর্ঘদিন ধরে একই রকম থাকা

বিশেষজ্ঞের মতে, বিশেষ করে দীর্ঘস্থায়ী লাল দাগকে অবহেলা না করে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।

শুধু তামাক খেলেই কি ঝুঁকি?

ওরাল ক্যানসারের সঙ্গে তামাকের সম্পর্ক অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হলেও ঝুঁকি শুধু গুটখা বা জর্দা সেবনকারীদের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। খৈনি, পানমশলা, বিড়ি, সিগারেট এবং অন্যান্য তামাকজাত দ্রব্য ক্ষতিকর।এমনকী তামাক না থাকলেও সুপারি খাওয়াকে নিরাপদ মনে করা ঠিক নয়। পাশাপাশি ভাঙা বা ধারালো দাঁতের কারণে মুখের একই জায়গায় বারবার আঘাত লাগলেও চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া প্রয়োজন।

প্রতিদিন ১-২ মিনিটেই করুন মুখের পরীক্ষা

বিশেষজ্ঞের পরামর্শ অনুযায়ী, দাঁত ব্রাশ করার সময় প্রতিদিন অল্প সময় নিয়ে নিজের মুখ পরীক্ষা করা যেতে পারে। আয়নার সামনে ভালো আলোতে জিহ্বা, গালের ভিতর, মাড়ি এবং মুখের অন্যান্য অংশ দেখে নিন।প্রয়োজনে মোবাইলের ফ্ল্যাশলাইট ব্যবহার করে মুখের ভিতরের অংশ ভালোভাবে দেখা যায়। আলতোভাবে জিহ্বা ও গালের ভিতর অনুভব করে কোথাও অস্বাভাবিক পিণ্ড, খসখসে অংশ বা ক্ষত রয়েছে কি না খেয়াল করুন।কোনও অস্বাভাবিক পরিবর্তন, রক্তপাত বা দীর্ঘস্থায়ী ক্ষত চোখে পড়লে নিজে থেকে বারবার ওষুধ পরিবর্তন না করে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়াই নিরাপদ।

সবার জন্যই জরুরি সচেতনতা

মুখের স্ব-পরীক্ষা শুধু তামাক ব্যবহারকারীদের জন্য নয়। নারী-পুরুষ নির্বিশেষে প্রত্যেকেই নিজের মুখের স্বাভাবিক অবস্থার সঙ্গে পরিচিত থাকলে নতুন কোনও পরিবর্তন দ্রুত বুঝতে পারবেন।তবে মনে রাখতে হবে, মুখে ঘা বা সাদা-লাল দাগ দেখা দিলেই তা ক্যানসার—এমনটা নয়। একইসঙ্গে দীর্ঘস্থায়ী কোনও পরিবর্তনকে শুধুমাত্র ঘরোয়া চিকিৎসায় ফেলে রাখাও ঠিক নয়। প্রয়োজন হলে চিকিৎসক পরীক্ষা করে প্রকৃত কারণ নির্ণয় করবেন।

মুখের ঘা, জিহ্বা বা গালের ভিতরে সাদা-লাল দাগ, মুখ খুলতে সমস্যা কিংবা দীর্ঘস্থায়ী দুর্গন্ধ—এসবকে সবসময় সাধারণ সমস্যা বলে এড়িয়ে যাওয়া ঠিক নয়। বিশেষজ্ঞদের মতে, কোনও ঘা ১০ দিন থেকে ২ সপ্তাহের বেশি স্থায়ী হলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি। তামাক, জর্দা, খৈনি, পানমশলা ও সুপারি ছাড়াও মুখে দীর্ঘদিনের আঘাত বা ঘর্ষণ ওরাল ক্যানসারের ঝুঁকি বাড়াতে পারে।

Leave a comment