পুজোর আগে বাড়িকে দিন একেবারে নতুন লুক! গাদা গাদা খরচ নয়, শুধু জানালা সাজালেই বদলে যাবে ঘরের চেহারা

দুর্গাপুজোর আগে বাড়ি সাজাতে বেশি খরচ নয়! গাছপালা, উইন্ড শাইম, ফেয়ারি লাইট, ডেকোরেটিভ কেজ ও পর্দা দিয়ে জানালা সাজানোর সহজ আইডিয়া জানুন।

দুর্গাপুজো মানেই নতুন জামাকাপড়, কেনাকাটা আর বাড়ি সাজানোর প্রস্তুতি। কিন্তু ঘরকে নতুন করে সাজাতে গেলেই যে প্রচুর টাকা খরচ করতে হবে, এমনটা একেবারেই নয়। বরং ঘরের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অংশ জানালার সাজে একটু বদল আনলেই গোটা ঘরের চেহারায় আসতে পারে চোখে পড়ার মতো পরিবর্তন। বড় জানালা হলে সেখানে সবুজ গাছ, আলো কিংবা ছোটখাটো ডেকোরেশন ব্যবহার করে তৈরি করতে পারেন একেবারে নতুন লুক।

শুধু পর্দা নয়, জানালাও হোক ঘর সাজানোর কেন্দ্র

জানালায় সুন্দর পর্দা লাগানো তো বেশ পরিচিত সাজ। কিন্তু পুজোর আগে একটু অন্যরকম মেকওভার চাইলে শুধু পর্দার উপর নির্ভর না করে জানালার চারপাশটাও সাজিয়ে তুলতে পারেন।বিশেষ করে বড় জানালা থাকলে সেটিই ঘরের অন্যতম আকর্ষণের জায়গা হয়ে উঠতে পারে। আলো-বাতাস ঢোকার পথ বন্ধ না করে পরিকল্পনা করে সাজালে ঘরও থাকবে খোলামেলা, আবার বাড়বে সৌন্দর্য।

সবুজ গাছে জানালায় আনুন সতেজতার ছোঁয়া

জানালার চারপাশে সবুজ লতানো গাছ বা ক্রিপার্স ব্যবহার করতে পারেন। জানালার গ্রিল বা উপযুক্ত সাপোর্টের সাহায্যে গাছগুলিকে ধীরে ধীরে ছড়িয়ে দিলে একটি প্রাকৃতিক ফ্রেমের মতো দেখতে লাগবে।তবে যে কোনও লতানো গাছ বেছে না নিয়ে আপনার বাড়ির আলো, বাতাস এবং আবহাওয়ার সঙ্গে মানানসই গাছ নির্বাচন করা ভালো। নিয়মিত পরিচর্যা করলে পুজোর সময়জানালাটি আরও সতেজ ও প্রাণবন্ত দেখাবে।

রংবেরঙের উইন্ড শাইমে বদলে দিন পরিবেশ

জানালায় উইন্ড শাইম ঝোলানো যেতে পারে। বাতাস লাগলে এগুলি দুলে মৃদু শব্দ তৈরি করে, ফলে ঘরের পরিবেশেও আলাদা একটা আবহ তৈরি হয়।পুজোর সময় চাইলে রঙিন উইন্ড শাইমের সঙ্গে ছোট আলোও ব্যবহার করতে পারেন। সন্ধ্যার পর আলো জ্বলে উঠলে জানালার সাজ আরও আকর্ষণীয় দেখাবে।

ছোট আলোয় সন্ধ্যার জানালা হয়ে উঠুক নজরকাড়া

বড় জানালার চারপাশে ফেয়ারি লাইট, ছোট LED লাইট বা টি-লাইট ব্যবহার করা যায়। খুব বেশি আলো না দিয়ে জানালার নির্দিষ্ট অংশে সাজালে দেখতে পরিপাটি লাগবে।যাঁরা পুজোর সাজে একটু ঐতিহ্যবাহী আবহ চান, তাঁরা নিরাপদ জায়গায় মাটির প্রদীপ বা ল্যাম্প ব্যবহার করতে পারেন। তবে আগুনের প্রদীপ বা মোমবাতি ব্যবহার করলে পর্দা, কাগজ, শুকনো গাছ বা অন্য দাহ্য জিনিস থেকে নিরাপদ দূরত্ব অবশ্যই রাখতে হবে।

ডেকোরেটিভ কেজে আসবে অন্যরকম লুক

জানালার সাজে ডেকোরেটিভ কেজ বা শৌখিন খাঁচা ব্যবহার করাও একটি অভিনব উপায়। বাজারে বিভিন্ন আকার ও ডিজাইনের ডেকোরেটিভ কেজ পাওয়া যায়।এর ভিতরে কৃত্রিম বা টাটকা ফুল, সবুজ পাতা এবং ছোট ফেয়ারি লাইট দিয়ে সাজাতে পারেন। চাইলে সুগন্ধি মোমবাতিও ব্যবহার করা যায়। তবে মোমবাতি জ্বালালে আগুনের নিরাপত্তার বিষয়টি অবশ্যই মাথায় রাখতে হবে।

পর্দার রং বদলালেও আসবে নতুনত্ব

জানালার সাজে সবচেয়ে সহজ পরিবর্তন হল পর্দা বদলে ফেলা। পুজোর আবহের সঙ্গে মানানসই হালকা, উজ্জ্বল বা ঐতিহ্যবাহী রঙের পর্দা বেছে নিতে পারেন।তবে ঘর ছোট হলে খুব ভারী বা গাঢ় পর্দার বদলে হালকা কাপড় ব্যবহার করলে ঘর তুলনামূলক খোলামেলা দেখাতে পারে। জানালা দিয়ে পর্যাপ্ত আলো ঢোকার সুযোগ রাখলেও ঘরের সাজ আরও সুন্দর ফুটে উঠবে।

কম খরচে সাজাতে গেলে কী মাথায় রাখবেন?

জানালা সাজানোর সময় একসঙ্গে অনেক কিছু ব্যবহার করার প্রয়োজন নেই। গাছ + ছোট আলো, কিংবা উইন্ড শাইম + পর্দা—এমন দু’টি উপাদান দিয়েও সুন্দর সাজ তৈরি করা যায়।জানালার গ্রিল বা ফ্রেমে এমন কিছু ঝোলাবেন না, যাতে জানালা খোলা-বন্ধ করতে সমস্যা হয়। পাশাপাশি অতিরিক্ত ভারী ডেকোরেশন ব্যবহার করলে জানালার কাঠামোর উপর অপ্রয়োজনীয় চাপ পড়তে পারে।

দুর্গাপুজোর আগে ঘর সাজাতে গিয়ে দামি ডেকোরেশন কিনে মোটা টাকা খরচ করার দরকার নেই। বাড়ির জানালার সাজে সামান্য পরিবর্তন আনলেই ঘরের পরিবেশে আসতে পারে একেবারে নতুন আমেজ। গাছপালা, উইন্ড শাইম, আলো, ডেকোরেটিভ কেজ এবং সুন্দর পর্দা দিয়ে জানালা সাজিয়ে সহজেই তৈরি করা যায় উৎসবের আবহ।

Leave a comment