অভাবকে হার মানিয়ে ক্যারাটেতে বাজিমাত! ১২ পদক জিতে বর্ধমানের খুদেদের নজির

পূর্ব বর্ধমানের মল্লিকপুকুর এলাকার প্রান্তিক পরিবারের খুদেরা আন্তঃজেলা ক্যারাটে প্রতিযোগিতায় ১২টি পদক জিতে নজর কেড়েছে। অভাবকে জয় করে তাদের এই সাফল্যে খুশির হাওয়া এলাকায়।

অভাব ছিল নিত্যসঙ্গী, কিন্তু স্বপ্ন দেখার সাহস থামেনি। পূর্ব বর্ধমানের মল্লিকপুকুর এলাকার একঝাঁক খুদে সম্প্রতি বর্ধমান ও নদিয়ার আন্তঃজেলা ক্যারাটে প্রতিযোগিতায় দুর্দান্ত সাফল্য অর্জন করেছে। ১২টি পদক জিতে তারা প্রমাণ করেছে, সঠিক প্রশিক্ষণ ও জেদ থাকলে প্রতিকূলতাও হার মানতে বাধ্য।

প্রান্তিক এলাকা থেকে উঠে আসা সাফল্যের গল্প

মল্লিকপুকুর বস্তি এলাকার এই শিশুদের অধিকাংশই আর্থিকভাবে পিছিয়ে থাকা পরিবারের সদস্য। জীবনের নানা সমস্যার মধ্যেও খেলাধুলাকে আঁকড়ে ধরে এগিয়ে চলেছে তারা। সম্প্রতি আয়োজিত আন্তঃজেলা ক্যারাটে প্রতিযোগিতায় তাদের পারফরম্যান্স তাক লাগিয়েছে উপস্থিত সকলকে। ছোট ছোট এই প্রতিযোগীদের লড়াই আজ এলাকায় অনুপ্রেরণার গল্প হয়ে উঠেছে।

একের পর এক পদক জিতে নজর কাড়ল খুদেরা

প্রশিক্ষক সেনসেই মনীষা মণ্ডলের তত্ত্বাবধানে মোট ছয় জন প্রতিযোগী অংশ নেয় এই প্রতিযোগিতায়।

১৬ বছর অনূর্ধ্ব ৬২ কেজি প্লাস বিভাগে ব্যক্তিগত ‘কাতা’-য় রৌপ্য এবং ‘কুমিতি’-তে ব্রোঞ্জ পদক জেতে মধুবনী বাগ।

একইভাবে ৪৭ কেজি বিভাগের সুপর্ণা পাল ‘কাতা’ ও ‘কুমিতি’—দুই বিভাগেই ব্রোঞ্জ জেতে।

৪০ কেজি বিভাগের কল্পনা পালও জোড়া ব্রোঞ্জ পদক জিতে সাফল্যের তালিকায় নাম লেখায়।

দলগত বিভাগেও সোনালি সাফল্য

শুধু ব্যক্তিগত বিভাগ নয়, দলগত ‘কাতা’ বিভাগেও সাফল্যের ঝলক দেখা যায়। মধুবনী বাগ, সুপর্ণা পাল ও কল্পনা পালের দল প্রথম স্থান অধিকার করে স্বর্ণপদক জিতে নেয়। অন্যদিকে ১২ বছর অনূর্ধ্ব ৩৫ কেজি বিভাগে অমিত পাশোয়ান, আয়ুষ পাশোয়ান ও সরজিৎ মারান্ডিও তৃতীয় স্থান অর্জন করে জেলার মুখ উজ্জ্বল করেছে।

ক্যারাটে শুধু খেলা নয়, সামাজিক লড়াইয়ের অস্ত্র

এই সাফল্যের পিছনে রয়েছে দীর্ঘ সামাজিক লড়াইয়ের গল্পও। ‘বর্ধমান সদর প্যায়ারা ওয়েলফেয়ার নিউট্রেশন সোসাইটি’ গত দু’বছর ধরে এলাকায় বাল্যবিবাহ রোধ ও স্কুলছুট শিশুদের শিক্ষার মূলস্রোতে ফেরানোর কাজ করছে। সেই উদ্যোগের অংশ হিসেবেই শুরু হয়েছিল ক্যারাটে প্রশিক্ষণ। সংস্থার মতে, আত্মবিশ্বাস ও আত্মরক্ষার মানসিকতা গড়ে তুলতেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল।

পাশে দাঁড়িয়েছেন সমাজের বহু মানুষ

এই পথচলায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিয়েছেন আইএসকেএফ ইন্ডিয়ার মুখ্য উপদেষ্টা সিহান সেখ লালু, পরিতোষ শিকদার এবং টোটন দাস। প্রতিযোগীদের পোশাক, প্রশিক্ষণের খরচ এবং বিভিন্ন আর্থিক সহায়তার মাধ্যমে তাঁরা এই শিশুদের স্বপ্ন পূরণে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিয়েছেন।

প্রতিকূলতার সঙ্গে লড়াই করেই সাফল্যের ইতিহাস গড়ল পূর্ব বর্ধমানের মল্লিকপুকুর এলাকার একদল খুদে প্রতিযোগী। আন্তঃজেলা ক্যারাটে প্রতিযোগিতায় ১২টি পদক জিতে নজর কেড়েছে তারা। সমাজের প্রান্তিক স্তর থেকে উঠে আসা এই শিশুদের সাফল্যে খুশির হাওয়া গোটা এলাকায়।

Leave a comment