বাবা দিল্লিতে পরিযায়ী শ্রমিক, ছেলের চোখে IIT-র স্বপ্ন! মাধ্যমিকে ৬৮২ পেয়ে রাজ্যে ষষ্ঠ শঙ্খদীপ

পশ্চিম মেদিনীপুরের দাসপুরের ছাত্র শঙ্খদীপ মান্না মাধ্যমিকে ৬৮২ নম্বর পেয়ে রাজ্যে ষষ্ঠ স্থান অর্জন করেছে। পরিযায়ী শ্রমিক বাবার ছেলে এখন IIT-তে পড়ে ইঞ্জিনিয়ার হওয়ার স্বপ্ন দেখছে।

পশ্চিম মেদিনীপুরের দাসপুরের এক সাধারণ পরিবার থেকে উঠে এসে অসাধারণ নজির গড়ল শঙ্খদীপ মান্না। বাবা দিল্লিতে পরিযায়ী শ্রমিক হিসেবে কাজ করেন, মা গৃহবধূ। আর সেই সংসারের ছেলে মাধ্যমিক পরীক্ষায় ৬৮২ নম্বর পেয়ে রাজ্যের মেধাতালিকায় ষষ্ঠ স্থান দখল করে এখন জেলার গর্ব। কঠোর পরিশ্রম, আত্মবিশ্বাস এবং পরিবারের ত্যাগ মিলিয়েই এই সাফল্যের গল্প লিখেছে শঙ্খদীপ।

দারিদ্র্যের সঙ্গে লড়াই করেই সাফল্যের মঞ্চে

দাসপুরের সুরতপুর শ্রী অরবিন্দ উচ্চ বিদ্যালয়ের ছাত্র শঙ্খদীপ মান্নার জীবন কখনও সহজ ছিল না। আর্থিক টানাপোড়েন ছিল নিত্যদিনের বাস্তবতা। বাবা গণেশ মান্না আগে সোনার কারিগর হিসেবে কাজ করলেও চোখের সমস্যার কারণে সেই কাজ ছাড়তে বাধ্য হন। বর্তমানে সংসার চালাতে দিল্লির একটি শোরুমে কাজ করেন তিনি। দূরে থেকেও ছেলের পড়াশোনার জন্য কোনও খামতি রাখেননি।

মায়ের ত্যাগেই এগিয়েছে পড়াশোনা

শঙ্খদীপের মা গৃহবধূ হলেও ছেলের পড়াশোনার প্রতি সবসময় বিশেষ নজর রেখেছেন। নিয়মিত পড়ার অভ্যাস, সময় মেনে প্রস্তুতি এবং পড়াশোনায় শৃঙ্খলা বজায় রাখতে মায়ের ভূমিকা ছিল সবচেয়ে বেশি। পরিবার জানাচ্ছে, অভাব থাকলেও ছেলের শিক্ষার ক্ষেত্রে কখনও আপস করেননি তাঁরা।

গ্রামের স্কুল থেকেই মেধার ঝলক

নামী কোচিং সেন্টার নয়, গ্রামের স্কুল ও স্থানীয় শিক্ষকদের সাহায্যেই নিজের প্রস্তুতি তৈরি করেছে শঙ্খদীপ। স্কুলের শিক্ষকরাও তার অধ্যবসায় ও একাগ্রতার প্রশংসা করেছেন। প্রতিদিন নির্দিষ্ট সময় ধরে পড়াশোনা এবং নিয়মিত অনুশীলনই ছিল তার সাফল্যের মূল মন্ত্র।

ফল প্রকাশের পর বাড়িতে খুশির ঢেউ

মাধ্যমিকের ফল প্রকাশ হতেই শঙ্খদীপদের বাড়িতে শুরু হয় উৎসবের পরিবেশ। পাড়া-প্রতিবেশী থেকে শিক্ষক—সকলেই শুভেচ্ছা জানাতে ভিড় জমান। ছেলের এই সাফল্যে আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েছেন বাবা-মাও। তাঁদের মতে, দীর্ঘদিনের সংগ্রামের পর এই ফল যেন নতুন আশার আলো দেখাল।

এবার লক্ষ্য IIT, স্বপ্ন ইঞ্জিনিয়ার হওয়ার

মাধ্যমিকের সাফল্যের পর এখন আরও বড় স্বপ্ন দেখছে শঙ্খদীপ। ভবিষ্যতে IIT-তে পড়ে ইঞ্জিনিয়ার হওয়ার ইচ্ছা রয়েছে তার। ইতিমধ্যেই JEE Main ও Advanced পরীক্ষার প্রস্তুতি নেওয়ার পরিকল্পনাও শুরু করেছে এই কৃতী ছাত্র। নিজের পরিবার ও গ্রামের নাম উজ্জ্বল করাই এখন তার সবচেয়ে বড় লক্ষ্য।

অভাবের সংসার, বাবার পরিযায়ী শ্রমিকের জীবন—সব বাধা পেরিয়ে মাধ্যমিকে দুর্দান্ত সাফল্য দাসপুরের শঙ্খদীপ মান্নার। ৬৮২ নম্বর পেয়ে রাজ্যের মেধাতালিকায় ষষ্ঠ স্থান অধিকার করেছে সে। গ্রামের স্কুলে পড়েই এই সাফল্য এনে দিয়েছে শঙ্খদীপ, যার ভবিষ্যৎ লক্ষ্য এখন IIT-তে পড়ে ইঞ্জিনিয়ার হওয়া।

Leave a comment