মাধ্যমিকের ফল প্রকাশ হতেই জলপাইগুড়িতে খুশির হাওয়া। জেলার গর্ব হয়ে উঠেছে শিরীষতলার বাসিন্দা অর্চিষ্মান মজুমদার। ৬৮৮ নম্বর পেয়ে রাজ্যের মেধাতালিকায় দশম স্থান দখল করেছে West Bengal Board of Secondary Education-এর এই কৃতী পরীক্ষার্থী। পরিবারের পাশাপাশি গোটা পাড়াজুড়েই এখন অর্চিষ্মানকে ঘিরে উৎসবের আবহ।
জলপাইগুড়ি জেলা স্কুলের মুখ উজ্জ্বল
Jalpaiguri Zilla School-এর ছাত্র অর্চিষ্মান ছোটবেলা থেকেই পড়াশোনায় অত্যন্ত মনোযোগী। মাধ্যমিকের ফল প্রকাশের পর থেকেই শুভেচ্ছার বন্যায় ভাসছে তার পরিবার। আত্মীয়-স্বজন থেকে শুরু করে প্রতিবেশী—সকলেই কৃতী ছাত্রের সাফল্যে গর্বিত।
‘স্টেথোস্কোপ’-এর স্বপ্ন নিয়েই এগোতে চায় অর্চিষ্মান
অর্চিষ্মানের লক্ষ্য একটাই—ভবিষ্যতে ডাক্তার হয়ে মানুষের পাশে দাঁড়ানো। বিজ্ঞান বিভাগে পড়াশোনা চালিয়ে গিয়ে চিকিৎসক হওয়ার স্বপ্ন পূরণ করতে চায় সে।তার পরিবারের কথায়, ছোটবেলা থেকেই পড়াশোনার প্রতি আলাদা আগ্রহ ছিল অর্চিষ্মানের। নিয়মিত পড়াশোনা, সময় মেনে রুটিন অনুসরণ এবং আত্মবিশ্বাসই তাকে এই জায়গায় পৌঁছে দিয়েছে।
পরিবারের সমর্থনই সবচেয়ে বড় শক্তি
অর্চিষ্মানের বাবা Amit Majumdar আনন্দচন্দ্র কলেজের শিক্ষাকর্মী। ছেলের পড়াশোনার ভিত মজবুত করতে বিজ্ঞানের বিষয়গুলি নিজেই দেখাশোনা করতেন তিনি।অন্যদিকে বাংলা, ইংরেজি, ইতিহাস ও ভূগোলের জন্য আলাদা গৃহশিক্ষকের সাহায্য নিয়েছিল অর্চিষ্মান। তবে তার মতে, শুধু টিউশন নয়—নিয়মিত অনুশীলনই সাফল্যের আসল চাবিকাঠি।
ষষ্ঠ শ্রেণি থেকেই শুরু হয়েছিল প্রস্তুতি
অর্চিষ্মান জানিয়েছে, মাধ্যমিকের প্রস্তুতি সে একদিনে নেয়নি। ষষ্ঠ শ্রেণি থেকেই ধাপে ধাপে পড়াশোনার অভ্যাস গড়ে তুলেছিল। প্রতিদিন নির্দিষ্ট সময় ধরে পড়া, রিভিশন এবং আত্মবিশ্বাস বজায় রাখাই ছিল তার মূল মন্ত্র।সে আরও জানিয়েছে, বাবা-মা, দিদি, দিদা এবং শিক্ষকদের সহযোগিতা না পেলে এই সাফল্য সম্ভব হত না।
কৃতী ছাত্রকে ঘিরে উচ্ছ্বাস পাড়াজুড়ে
ফল প্রকাশের পর থেকেই অর্চিষ্মানদের বাড়িতে যেন ছোটখাটো উৎসব শুরু হয়েছে। মিষ্টিমুখ থেকে শুভেচ্ছা বিনিময়—সব মিলিয়ে খুশির আবহ গোটা এলাকায়।
প্রতিবেশীদের কথায়, শান্ত, ভদ্র ও পরিশ্রমী অর্চিষ্মান বরাবরই সকলের প্রিয়। তার এই সাফল্য আগামী প্রজন্মের কাছেও বড় অনুপ্রেরণা হয়ে থাকবে।
মাধ্যমিক ২০২৬-এ ৬৮৮ নম্বর পেয়ে রাজ্যে দশম স্থান অধিকার করল জলপাইগুড়ি জেলা স্কুলের ছাত্র অর্চিষ্মান মজুমদার। শৃঙ্খলা, নিয়মিত পরিশ্রম এবং পরিবার-শিক্ষকদের সমর্থনেই এই সাফল্য বলে জানাল কৃতী ছাত্র। ভবিষ্যতে ডাক্তার হয়ে মানুষের সেবা করাই তার স্বপ্ন।










