JSCB কথিত কেলেঙ্কারির তদন্তে ঝাড়খণ্ড ও ওড়িশায় ৭টি ঠিকানায় ED-এর তল্লাশি

ঝাড়খণ্ড স্টেট কো-অপারেটিভ ব্যাংক বা JSCB-এর সরাইকেলা শাখার কথিত জালিয়াতির তদন্তে PMLA-এর ১৭ ধারায় ঝাড়খণ্ড ও ওড়িশার ৭টি ঠিকানায় তল্লাশি ও বাজেয়াপ্তির অভিযান চালাচ্ছে ED।
JSCB কথিত কেলেঙ্কারির তদন্তে ঝাড়খণ্ড ও ওড়িশায় ৭টি ঠিকানায় ED-এর তল্লাশি
Photo Credit / Attribution: Google

ঝাড়খণ্ড স্টেট কো-অপারেটিভ ব্যাংক অর্থাৎ JSCB-কে ঘিরে কথিত কেলেঙ্কারির তদন্তে এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ED) ঝাড়খণ্ড ও ওড়িশায় একসঙ্গে মোট সাতটি ঠিকানায় তল্লাশি ও বাজেয়াপ্তির অভিযান শুরু করেছে। এই অভিযান JSCB-এর সরাইকেলা শাখায় সামনে আসা কথিত বড় ধরনের জালিয়াতির তদন্তের সঙ্গে যুক্ত বলে জানা যাচ্ছে।

ED-এর এই অভিযান অর্থপাচার প্রতিরোধ আইন বা PMLA-এর ১৭ ধারার অধীনে পরিচালিত হচ্ছে। তদন্তকারী সংস্থার দল সাতটি ঠিকানায় পৌঁছে তল্লাশির পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট নথি ও অন্যান্য সামগ্রী পরীক্ষা করছে। তদন্তের মূল নজর রয়েছে কথিত ব্যাংক কেলেঙ্কারির সঙ্গে যুক্ত আর্থিক লেনদেন এবং মামলায় যাদের ভূমিকা সম্পর্কে তদন্তকারী সংস্থা তথ্য পেয়েছে, তাদের ওপর।

তল্লাশি অভিযান এখনও চলছে। ফলে এর বিস্তারিত ফলাফল তদন্ত শেষ হওয়ার পরই স্পষ্ট হবে।

Jagran-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই মামলায় ব্যবসায়ী সঞ্জয় কুমার ডালমিয়া এবং JSCB-এর তৎকালীন কর্মকর্তাদের কথিত যোগসাজশে ব্যাংকের সঙ্গে জালিয়াতি করা হয়েছিল কি না, তা তদন্ত করা হচ্ছে। ED পুরো ঘটনায় অর্থের লেনদেন, ব্যাংকিং রেকর্ড এবং কথিত অনিয়মের সঙ্গে যুক্ত নথি খতিয়ে দেখছে।

তদন্তকারী সংস্থা জানার চেষ্টা করছে, কথিত জালিয়াতিতে কী ধরনের আর্থিক কার্যকলাপ হয়েছিল এবং তাতে কোন ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের ভূমিকা ছিল।

JSCB-এর সরাইকেলা শাখার সঙ্গে যুক্ত এই মামলায় আগে থেকেই তদন্ত চলছিল। ED-এর তদন্তের ফলে এখন এর আর্থিক দিকগুলিও তদন্তের আওতায় এসেছে। ব্যাংকিং কেলেঙ্কারির ক্ষেত্রে কথিত অপরাধের সঙ্গে যুক্ত অর্থের উৎস, তার ব্যবহার এবং লেনদেনের সংযোগ খতিয়ে দেখা হয়। এই কারণে সাতটি ঠিকানায় একসঙ্গে তল্লাশি চালানো হয়েছে।

ঝাড়খণ্ড ও ওড়িশায় ED যে ঠিকানাগুলিতে পৌঁছেছে, সেখানে নথি, আর্থিক রেকর্ড এবং ইলেকট্রনিক সামগ্রীসহ তদন্তের সম্ভাব্য প্রমাণ পরীক্ষা করা হচ্ছে। PMLA-এর বিধান অনুযায়ী তল্লাশি ও বাজেয়াপ্তির এই অভিযান চলছে।

তবে এখনও পর্যন্ত তল্লাশি থেকে কোনও নির্দিষ্ট অর্থ বা নথি উদ্ধার হয়েছে কি না, সে বিষয়ে ED-এর পক্ষ থেকে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হয়নি। তাই নির্দিষ্ট কোনও সম্পত্তি বা নগদ অর্থ উদ্ধারের দাবি করা এখনও যথাযথ হবে না।

কথিত জালিয়াতি কীভাবে করা হয়েছিল, তাও তদন্তের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে উঠেছে। ব্যাংকের আর্থিক অনিয়মের তদন্তে লেনদেনের প্রক্রিয়া, সংশ্লিষ্ট অ্যাকাউন্ট, অনুমোদন এবং ব্যাংক কর্মকর্তাদের ভূমিকার মতো বিষয় খতিয়ে দেখা হয়। ED-এর তদন্তেও এই আর্থিক সংযোগগুলি পরীক্ষা করা হচ্ছে।

তদন্তকারী সংস্থা জানার চেষ্টা করছে, কথিত অনিয়মিত লেনদেনে অর্থ কোথা থেকে এসেছিল, কোথায় গিয়েছিল এবং এর সঙ্গে যুক্ত সুবিধাভোগী কারা ছিলেন।

মামলায় তৎকালীন ব্যাংক কর্মকর্তাদের কথিত ভূমিকাও তদন্তের আওতায় রয়েছে বলে জানা যাচ্ছে। তবে তদন্তে কোনও কর্মকর্তা বা ব্যবসায়ীর নাম আসা মাত্রই তাঁর অপরাধমূলক সংশ্লিষ্টতা প্রমাণিত হয় না। নথি, ব্যাংক রেকর্ড এবং অন্যান্য প্রমাণের ভিত্তিতেই তাঁদের ভূমিকা নির্ধারণ করতে হবে। ED-এর বর্তমান তল্লাশি এই বিস্তৃত তদন্ত প্রক্রিয়ারই অংশ।

JSCB কেলেঙ্কারির তদন্তে ED-এর অভিযানের একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হল, বিষয়টি ঝাড়খণ্ডের পাশাপাশি ওড়িশার সঙ্গেও যুক্ত বলে জানা যাচ্ছে। সাতটি ঠিকানায় একসঙ্গে তল্লাশি চালানোর মাধ্যমে তদন্তকারী সংস্থা কথিত আর্থিক নেটওয়ার্কের বিভিন্ন সংযোগ খতিয়ে দেখছে।

বিভিন্ন স্থান থেকে পাওয়া নথি এবং ডিজিটাল রেকর্ড তদন্তকারীদের লেনদেনের সম্পূর্ণ ধারাটি বুঝতে সাহায্য করতে পারে।

ব্যাংকিং কেলেঙ্কারির মামলায় কাগজপত্রের পাশাপাশি ডিজিটাল লেনদেনও গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণ হতে পারে। ব্যাংক অ্যাকাউন্ট, পেমেন্ট রেকর্ড, সংস্থার নথি, সম্পত্তি-সংক্রান্ত কাগজপত্র এবং ইলেকট্রনিক ডিভাইস থেকে কথিত আর্থিক কার্যকলাপ সম্পর্কে তথ্য পাওয়া যেতে পারে। তবে এই মামলায় তল্লাশির সময় বাস্তবে কী কী বাজেয়াপ্ত হয়েছে, তা এখনও স্পষ্ট করা হয়নি।

ED-এর এই অভিযান এমন সময় হয়েছে, যখন ঝাড়খণ্ডে বিভিন্ন অর্থনৈতিক ও আর্থিক অনিয়মের সঙ্গে যুক্ত মামলায় তদন্তকারী সংস্থাগুলির তদন্ত চলছে। এর আগে রাজ্যেও বিভিন্ন কথিত কেলেঙ্কারি এবং অবৈধ আর্থিক লেনদেনের মামলায় তদন্তকারী সংস্থাগুলি তল্লাশি চালিয়েছে।

তবে JSCB মামলায় বর্তমান অভিযান বিশেষভাবে ব্যাংকের সরাইকেলা শাখার সঙ্গে যুক্ত কথিত জালিয়াতি এবং তার সঙ্গে সম্পর্কিত আর্থিক নেটওয়ার্কের ওপর কেন্দ্রীভূত বলে জানা যাচ্ছে।

তল্লাশির সময় কর্মকর্তাদের এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের কাছ থেকে নথি সম্পর্কে তথ্য নেওয়া হতে পারে। কোনও রেকর্ড থেকে সন্দেহজনক লেনদেন বা অন্য গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সামনে এলে ED তদন্ত এগিয়ে নিতে পারে। প্রয়োজন হলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের জিজ্ঞাসাবাদও করা হতে পারে। তবে বর্তমান অভিযান চলাকালীন কোনও গ্রেফতারের তথ্য সামনে আসেনি।

তল্লাশির সময় ED কী প্রমাণ পায়, তার ওপর মামলায় পরবর্তী পদক্ষেপ নির্ভর করবে। তদন্তে কথিত অর্থপাচার বা অপরাধ থেকে অর্জিত অর্থ ব্যবহারের সঙ্গে সম্পর্কিত পর্যাপ্ত উপাদান পাওয়া গেলে সংস্থা PMLA-এর অধীনে পরবর্তী পদক্ষেপ নিতে পারে। আপাতত সাতটি ঠিকানায় চলা তল্লাশির পর কী তথ্য সামনে আসে, তার অপেক্ষা রয়েছে।

JSCB মামলায় ব্যাংক এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের ভূমিকা নিয়েও তদন্ত গুরুত্বপূর্ণ হবে। কোনও ব্যাংকিং প্রক্রিয়ার কথিত অপব্যবহার হয়ে থাকলে সংশ্লিষ্ট লেনদেন কোন পর্যায়ে অনুমোদিত হয়েছিল এবং তাতে কারা যুক্ত ছিলেন, তা নির্ধারণ করা তদন্তের অংশ হতে পারে।

ঝাড়খণ্ড ও ওড়িশায় একসঙ্গে অভিযান চালানো হওয়ায় তদন্তের পরিধি শুধু একটি শাখা বা একটি স্থানে সীমাবদ্ধ নয় বলে জানা যাচ্ছে। তবে ED-এর সরকারি তদন্ত সম্পূর্ণ হওয়ার আগে কোনও বড় নেটওয়ার্ক বা অন্য ব্যক্তিদের ভূমিকা নিয়ে সিদ্ধান্তে পৌঁছানো তাড়াহুড়ো হবে। বর্তমানে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, সংস্থা সরাইকেলা শাখার সঙ্গে যুক্ত কথিত জালিয়াতির আর্থিক সংযোগগুলি তদন্ত করছে।

JSCB মামলায় ED-এর অভিযান আপাতত চলছে। সাতটি ঠিকানায় তল্লাশি ও বাজেয়াপ্তির পর তদন্তকারী সংস্থা কী তথ্য প্রকাশ করে, তা পরবর্তী তদন্তের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ হবে। তল্লাশি থেকে পাওয়া নথি এবং আর্থিক রেকর্ড কথিত জালিয়াতির সম্পূর্ণ চিত্র বুঝতে সাহায্য করতে পারে। তদন্ত এগিয়ে গেলে কথিত কেলেঙ্কারিতে অর্থের লেনদেন কীভাবে হয়েছিল এবং কোন ব্যক্তিদের ভূমিকা তদন্তের আওতায় রয়েছে, তা আরও স্পষ্ট হতে পারে।

Leave a comment