টেরর ফান্ডিং সন্দেহে ডোমকলে ইডির হানা! রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশ, জাল নথি ও অর্থ লেনদেনের অভিযোগে জিজ্ঞাসাবাদ, চাঞ্চল্য এলাকায়

সন্ত্রাসে অর্থ জোগান, রোহিঙ্গা ও বাংলাদেশি নাগরিকদের অবৈধ অনুপ্রবেশ এবং জাল পরিচয়পত্র তৈরির অভিযোগে দেশজুড়ে ইডির অভিযান। ডোমকলে বাড়িতে তল্লাশি ও জিজ্ঞাসাবাদে চাঞ্চল্য, তদন্ত এখনও চলছে।

দেশজুড়ে একযোগে ১৩টি স্থানে তল্লাশি চালিয়েছে এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ইডি)। অভিযোগ, একটি সংগঠিত চক্র রোহিঙ্গা ও বাংলাদেশি নাগরিকদের অবৈধভাবে ভারতে প্রবেশে সহায়তা, জাল ভারতীয় পরিচয়পত্র তৈরি এবং সন্দেহভাজন আর্থিক লেনদেনের সঙ্গে যুক্ত ছিল। এই তদন্তের অংশ হিসেবেই মুর্শিদাবাদের ডোমকলের ধুলাউড়ি পঞ্চায়েত এলাকায় একটি বাড়িতে অভিযান চালিয়ে পরিবারের সদস্যদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে।

ডোমকলে ইডির অভিযান, কোথায় তল্লাশি?

ইডির একটি দল বৃহস্পতিবার মুর্শিদাবাদের ডোমকল থানার ধুলাউড়ি পঞ্চায়েতের পার-রঘুনাথপুর মোল্লাপাড়া এলাকায় পৌঁছে মীর রাকিব আলির বাড়িতে তল্লাশি চালায়। তদন্তকারীরা বাড়ির সদস্যদের দীর্ঘক্ষণ জিজ্ঞাসাবাদ করেন এবং বিভিন্ন তথ্য ও নথি খতিয়ে দেখেন।

কী অভিযোগে শুরু তদন্ত?

তদন্তকারী সংস্থার সূত্র অনুযায়ী, উত্তরপ্রদেশ অ্যান্টি-টেররিজম স্কোয়াড (ATS)-এর দায়ের করা একটি এফআইআরের ভিত্তিতে তদন্ত শুরু হয়েছে।

অভিযোগ অনুযায়ী, একটি চক্র—

রোহিঙ্গা ও বাংলাদেশি নাগরিকদের অবৈধভাবে ভারতে প্রবেশে সহায়তা করত।

জাল ভারতীয় পরিচয়পত্র তৈরি করে দিত।

দেশের বিভিন্ন প্রান্তে তাদের পুনর্বাসনের ব্যবস্থাও করত।

বিদেশি অনুদান ও সন্দেহজনক অর্থ লেনদেনের অভিযোগ

ইডির প্রাথমিক তদন্তে দাবি করা হয়েছে, কিছু ওয়েলফেয়ার ট্রাস্ট ও সংস্থার মাধ্যমে বিদেশি অনুদানের অর্থ দেশে আনা হত। পরে একাধিক ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট ও তথাকথিত 'মিডল অ্যাকাউন্ট'-এর মাধ্যমে সেই অর্থ বিভিন্ন জায়গায় সরিয়ে দেওয়া হতো বলে অভিযোগ।তদন্তকারীদের দাবি, নগদ অর্থ উত্তোলন এবং ছোট ছোট অঙ্কে একাধিক লেনদেনের মাধ্যমে অর্থের উৎস গোপন করার কৌশলও ব্যবহার করা হয়েছিল বলে সন্দেহ করা হচ্ছে।

কেন আলোচনায় আদিল উল রহমান?

স্থানীয় সূত্রের দাবি, মীর রাকিব আলির ছোট মেয়ের স্বামী আদিল উল রহমান অতীতে উত্তরপ্রদেশের দারুল উলুম দেওবন্দে পড়াশোনা করেছিলেন। পরে তিনি বিদেশে কর্মসূত্রে যান এবং পরবর্তীতে একটি মামলায় লখনউ পুলিশ তাঁকে গ্রেফতার করে বলে স্থানীয়দের দাবি। আদালতের নির্দেশে দীর্ঘ সময় জেল হেফাজতে থাকার পর কয়েক মাস আগে তিনি ডোমকলে ফিরে আসেন।

স্থানীয় বাসিন্দাদের বক্তব্য, গত কয়েকদিন ধরে তাঁকে এলাকায় দেখা যায়নি। তদন্তকারীদের অনুমান, তাঁকে খুঁজতেই ইডির দল ওই বাড়িতে পৌঁছেছিল। যদিও এই বিষয়ে ইডির পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে কোনও মন্তব্য করা হয়নি।

তদন্ত এখনও প্রাথমিক পর্যায়ে

ইডি এখনও এই অভিযান সম্পর্কে বিস্তারিত সরকারি বিবৃতি প্রকাশ করেনি। তদন্তের স্বার্থে একাধিক নথি, আর্থিক লেনদেন এবং অন্যান্য তথ্য খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি। তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত অভিযোগগুলির সত্যতা বিচারাধীন।

সন্ত্রাসবাদে অর্থ জোগান, রোহিঙ্গা ও বাংলাদেশি নাগরিকদের অবৈধ অনুপ্রবেশে সহায়তা এবং জাল পরিচয়পত্র তৈরির অভিযোগে দেশজুড়ে অভিযান চালাল এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ইডি)। সেই অভিযানের অংশ হিসেবে মুর্শিদাবাদের ডোমকলে একটি বাড়িতে তল্লাশি ও জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। তদন্তের সূত্র উত্তরপ্রদেশ ATS-এর একটি এফআইআর।

Leave a comment