শুধু তেল-মশলা নয়! হার্টের নীরব শত্রু এই ২ খাবার, প্রতিদিন খেলে ধমনীতে জমতে পারে ব্লক, বাড়ে হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকি

হার্ট ভালো রাখতে শুধু তেল কমালেই হবে না। বিশেষজ্ঞদের মতে অতিরিক্ত চিনি, অস্বাস্থ্যকর ফ্যাট ও রান্নার তেল ব্যবহারের কিছু ভুল অভ্যাস ধমনীতে ব্লকেজ ও হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকি বাড়ায়। জেনে নিন কী কী এড়িয়ে চলবেন।

বর্তমান জীবনযাত্রায় হৃদরোগের ঝুঁকি দ্রুত বাড়ছে। অল্প বয়সেও হার্ট অ্যাটাকের ঘটনা বাড়ায় উদ্বেগ প্রকাশ করছেন চিকিৎসকরা। বিশেষজ্ঞদের মতে, শুধু তেল-মশলা কম খেলেই হবে না। প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায় থাকা অতিরিক্ত চিনি, অস্বাস্থ্যকর ফ্যাট এবং রান্নার তেল ব্যবহারের কিছু ভুল অভ্যাস ধীরে ধীরে ধমনীর ক্ষতি করে হৃদরোগের ঝুঁকি বাড়াতে পারে।

হার্টের সবচেয়ে বড় শত্রু কী?

চিকিৎসকদের মতে, অতিরিক্ত চিনি এবং অস্বাস্থ্যকর ফ্যাট হৃদ্‌স্বাস্থ্যের অন্যতম বড় ক্ষতিকর উপাদান। দীর্ঘদিন বেশি চিনি খেলে রক্তে শর্করার মাত্রা বেড়ে যায়, যা রক্তনালির অভ্যন্তরীণ আবরণকে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে। এর ফলে ধীরে ধীরে ধমনীতে প্লাক জমে ব্লকেজ তৈরির আশঙ্কা বাড়ে।

ভালো ফ্যাট ও খারাপ ফ্যাটের পার্থক্য

সব ধরনের ফ্যাট ক্ষতিকর নয়। শরীরের জন্য কিছু স্বাস্থ্যকর ফ্যাটও প্রয়োজন।

HDL (ভালো কোলেস্টেরল): হৃদ্‌যন্ত্রকে সুরক্ষা দিতে সাহায্য করে।

LDL (খারাপ কোলেস্টেরল): ধমনীর দেওয়ালে চর্বি জমিয়ে ব্লকেজের ঝুঁকি বাড়ায়।

ট্রাইগ্লিসারাইড ও নন-HDL কোলেস্টেরলের মাত্রা বেড়ে গেলেও হৃদরোগের সম্ভাবনা বৃদ্ধি পায়।

অতিরিক্ত চিনি কেন বিপজ্জনক?

বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রতিদিন অতিরিক্ত চিনি খাওয়ার ফলে শরীরের বিপাকক্রিয়ায় নেতিবাচক প্রভাব পড়ে। দীর্ঘ সময় ধরে রক্তে শর্করার মাত্রা বেশি থাকলে রক্তনালির ক্ষতি হয় এবং ধীরে ধীরে হৃদ্‌যন্ত্রে রক্ত সরবরাহকারী ধমনীগুলিতে চর্বি জমতে শুরু করে। এর ফলেই হার্ট অ্যাটাক বা অন্যান্য হৃদরোগের ঝুঁকি বাড়তে পারে।

কোন রান্নার তেল তুলনামূলকভাবে ভালো?

হৃদ্‌স্বাস্থ্য ভালো রাখতে রান্নার তেল বাছাই অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ—

কোল্ড-প্রেসড তেল বা ভালো মানের রিফাইন্ড তেল ব্যবহার করা যেতে পারে।

পাম অয়েল ও ডালডা বা হাইড্রোজেনেটেড ভেজিটেবল ফ্যাট যতটা সম্ভব এড়িয়ে চলা উচিত।

যে তেল ঘরের তাপমাত্রায় জমে শক্ত হয়ে যায়, সেগুলিতে সাধারণত স্যাচুরেটেড ফ্যাট বেশি থাকে।

রান্নার তেল ব্যবহারের ‘গোল্ডেন রুল’

একই ধরনের তেল বছরের পর বছর ব্যবহার না করে প্রতি ১ থেকে ২ মাস অন্তর তেলের ধরন পরিবর্তন করার পরামর্শ দেন বিশেষজ্ঞরা।

উদাহরণ হিসেবে—

এক মাস সূর্যমুখী তেল

পরের মাসে রাইস ব্র্যান তেল

তারপর চিনাবাদামের তেল

এভাবে পরিবর্তন করলে বিভিন্ন ধরনের প্রয়োজনীয় ফ্যাটি অ্যাসিড শরীরে পৌঁছায়।

রান্নার তেল ব্যবহারে এই ভুলগুলো করবেন না

বিশেষজ্ঞদের মতে, কয়েকটি সাধারণ ভুল হার্টের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে—

তেলের বোতল সরাসরি রোদে রাখা।

অতিরিক্ত তাপে দীর্ঘ সময় তেল সংরক্ষণ করা।

রান্না হয়ে যাওয়া একই তেল বারবার গরম করে ব্যবহার করা।

একই তেল বারবার গরম করলে তার রাসায়নিক গঠন বদলে ক্ষতিকর যৌগ তৈরি হতে পারে, যা দীর্ঘমেয়াদে হৃদ্‌স্বাস্থ্যের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ।

অনেকেই মনে করেন, শুধুমাত্র তেল-চর্বিযুক্ত খাবারই হৃদরোগের জন্য দায়ী। তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, অতিরিক্ত চিনি এবং অস্বাস্থ্যকর ফ্যাটই হার্টের বড় শত্রু। সঠিক রান্নার তেল বেছে নেওয়া, একই তেল বারবার ব্যবহার না করা এবং খাদ্যাভ্যাসে পরিবর্তন আনা হৃদ্‌স্বাস্থ্য রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ।

Leave a comment