৮ দিনে নেশার রেকর্ড! বড়দিন থেকে নববর্ষে পশ্চিম মেদিনীপুরে ৩৬ কোটির মদ বিক্রি, অঙ্ক শুনে চমক

৮ দিনে নেশার রেকর্ড! বড়দিন থেকে নববর্ষে পশ্চিম মেদিনীপুরে ৩৬ কোটির মদ বিক্রি, অঙ্ক শুনে চমক

শীত যত বেড়েছে, ততই যেন খুলেছে বোতলের ঢাকনা। বড়দিন থেকে নতুন বছরের প্রথম দিন পর্যন্ত পশ্চিম মেদিনীপুরে মদ বিক্রির যে পরিসংখ্যান সামনে এসেছে, তা রীতিমতো তাক লাগিয়েছে। জেলা আবগারি দফতরের হিসেব বলছে, মাত্র আট দিনেই জেলায় সুরার ব্যবসা পৌঁছেছে প্রায় ৩৬ কোটি টাকা—যা সাম্প্রতিক সময়ে নজিরবিহীন।

ঠান্ডার দাপটে বাড়ল সুরাপান

চলতি শীতের মরশুমে পশ্চিম মেদিনীপুরে তাপমাত্রা নেমেছিল প্রায় ৯ ডিগ্রি সেলসিয়াসে। কনকনে ঠান্ডায় সাধারণ জীবনযাত্রা ব্যাহত হলেও সুরাপানে তার কোনও প্রভাব পড়েনি। বরং ঠান্ডা আর উৎসব মিলিয়ে মদের চাহিদা বেড়েছে হু হু করে।

দেশি–বিদেশি মদে সমান আগ্রহ

জেলা আবগারি দফতর সূত্রে জানা গিয়েছে, এই আট দিনে শুধুমাত্র দেশি মদ বিক্রি হয়েছে ২ লক্ষ ৫৬ হাজার ১৫৫ লিটার। পাশাপাশি বিদেশি মদের বিক্রিও কম নয়—পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ২ লক্ষ ৪১ হাজার ৪২০ লিটার। রাম, হুইস্কি, ব্র্যান্ডি—সবকিছুর দিকেই ঝুঁকেছেন সুরাপ্রেমীরা।

ঠান্ডাতেও বিয়ারের চাহিদা আকাশছোঁয়া

অনেকেই ভাবছিলেন শীতে বিয়ারের বিক্রি কমবে। কিন্তু বাস্তব চিত্র একেবারেই উল্টো। আট দিনে জেলায় প্রায় ৪২ হাজার লিটার বিয়ার বিক্রি হয়েছে, যার বাজারমূল্য প্রায় ১ কোটি ১৬ লক্ষ টাকা।

নববর্ষে আলাদা করে গড়ল রেকর্ড

নতুন বছরের প্রথম দিনেই আলাদা করে রেকর্ড গড়েছে বিদেশি মদের বিক্রি। শুধুমাত্র ১ জানুয়ারিতেই জেলায় ৪ কোটি ৭২ লক্ষ টাকার বিদেশি মদ বিক্রি হয়েছে। একই দিনে দেশি মদ বিক্রি হয়েছে প্রায় ৩১ হাজার লিটার।

চোলাই দমনেও বেড়েছে বৈধ বিক্রি

জেলা আবগারি দফতরের সুপার সুরজিৎ সরকার জানান, উৎসবের সময়ে এমনিতেই মদ বিক্রি বাড়ে। তবে চোলাই মদের বিরুদ্ধে ধারাবাহিক অভিযানের ফলে মানুষ বেশি করে বৈধ মদের দিকেই ঝুঁকছেন। এর জেরে সরকারি কোষাগারেও রাজস্ব বেড়েছে উল্লেখযোগ্য হারে।

কনকনে ঠান্ডা আর উৎসবের মরশুম—এই দুইয়ের জেরে পশ্চিম মেদিনীপুরে বড়দিন থেকে নববর্ষ পর্যন্ত মাত্র আট দিনে মদের বিক্রি ছুঁয়েছে ৩৬ কোটি টাকা। দেশি, বিদেশি মদ থেকে শুরু করে বিয়ার—সবেতেই রেকর্ড গড়েছে জঙ্গলমহল জেলা।

Leave a comment