পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের প্রথম দফার ভোটের সময় নিরপেক্ষতা লঙ্ঘন এবং দুর্ব্যবহারের অভিযোগের পর নির্বাচন কমিশন পাঁচজন পুলিশ কর্মকর্তাকে সাময়িক বরখাস্ত করেছে। বরখাস্ত হওয়া কর্মকর্তাদের মধ্যে আইপিএস, এসডিপিও এবং থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার পদমর্যাদার কর্মকর্তারা রয়েছেন। এই পদক্ষেপটি ডায়মন্ড হারবার এলাকার সঙ্গে যুক্ত একটি ঘটনার প্রেক্ষিতে নেওয়া হয়েছে।
নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, প্রথম দফার ভোটগ্রহণ চলাকালে দায়িত্বে থাকা কিছু পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে পক্ষপাতিত্ব এবং শৃঙ্খলাভঙ্গের অভিযোগ পাওয়া যায়। অভিযোগে বলা হয়েছে, নির্বাচন ডিউটির সময় নিরপেক্ষতা বজায় রাখা হয়নি এবং দুর্ব্যবহারের ঘটনা সামনে এসেছে। বিষয়টির গুরুত্ব বিবেচনায় নিয়ে কমিশন বিস্তারিত শৃঙ্খলামূলক ব্যবস্থার নির্দেশ দেয়।
নির্বাচন কমিশনের পদক্ষেপ
প্রথম দফার ভোটগ্রহণ চলাকালে উত্থাপিত অভিযোগগুলোকে কমিশন গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে। প্রাপ্ত রিপোর্ট এবং উপলব্ধ প্রমাণের ভিত্তিতে অবিলম্বে পদক্ষেপ নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়, যার ফলে প্রশাসনিক স্তরে কঠোরতা বৃদ্ধি পায়।
কমিশন স্পষ্টভাবে জানিয়েছে যে নির্বাচন প্রক্রিয়ায় নিরপেক্ষতা সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার এবং কোনও ধরনের অবহেলা বা পক্ষপাতিত্ব সহ্য করা হবে না। এই ভিত্তিতেই সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বরখাস্তসহ শৃঙ্খলামূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে, যাতে ভবিষ্যতে এমন ঘটনা পুনরাবৃত্তি না ঘটে।
![]()
যেসব কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা
বরখাস্ত হওয়া কর্মকর্তাদের মধ্যে ডায়মন্ড হারবার এলাকার সঙ্গে যুক্ত একাধিক পুলিশ কর্মকর্তা রয়েছেন। এদের মধ্যে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সন্দীপ গরাই, এসডিপিও সাজল মণ্ডল এবং বিভিন্ন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মৌসুম চক্রবর্তী, অজয় বাগ এবং শুভেচ্ছা বাগের নাম রয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে নির্বাচন ডিউটিতে পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ উঠেছে।
এই অভিযোগগুলির তদন্তে প্রাপ্ত রিপোর্ট এবং প্রমাণকে ভিত্তি হিসেবে নেওয়া হয়েছে। প্রাথমিক পর্যবেক্ষণে দেখা গেছে, নির্বাচনী পরিবেশে নিরপেক্ষতা বজায় রাখতে গুরুতর ত্রুটি ছিল। এর পর প্রশাসন কঠোর অবস্থান নিয়ে তাদের বরখাস্ত করার সিদ্ধান্ত নেয়।
ডায়মন্ড হারবার এলাকা এবং পরবর্তী তদন্ত
ডায়মন্ড হারবার পুলিশ এলাকায় এই পদক্ষেপের পর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের দায়িত্বও নির্ধারণ করা হয়েছে। পুলিশ সুপার ডা. ঈশানী পালকে অধীনস্থদের উপর নিয়ন্ত্রণ এবং নির্বাচনী নিরপেক্ষতা নিশ্চিত করতে ব্যর্থ হওয়ার জন্য সতর্কবার্তা জারি করা হয়েছে।
সূত্র অনুযায়ী, এই ঘটনার সঙ্গে সম্পর্কিত নথি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হতে পারে, যার ফলে আরও তদন্তের সম্ভাবনা রয়েছে। নির্বাচন কমিশনের এই পদক্ষেপ প্রশাসনিক জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার উদ্দেশ্যে নেওয়া হয়েছে, যা নির্বাচনী প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা জোরদার করে।








