২০২৬ বিধানসভা নির্বাচনের আগে প্রশাসনিক স্তরে বড়সড় রদবদল শুরু হয়েছে। একদিনেই একাধিক পুলিশ আধিকারিক বদলের পর এবার ১১ জেলার জেলাশাসককে সরানোর নির্দেশ দিল নির্বাচন কমিশন। পাশাপাশি কলকাতা পুরসভার কমিশনার ও দক্ষিণ কলকাতার ডিইও পদেও পরিবর্তন আনা হয়েছে।
একসঙ্গে ১১ জেলায় জেলাশাসক বদল
কমিশনের নির্দেশ অনুযায়ী কোচবিহার, জলপাইগুড়ি, উত্তর দিনাজপুর, মালদহ, মুর্শিদাবাদ, নদিয়া, পূর্ব বর্ধমান, উত্তর ২৪ পরগণা, দক্ষিণ ২৪ পরগণা, দার্জিলিং ও আলিপুরদুয়ার—এই ১১ জেলায় নতুন জেলাশাসক নিয়োগ করা হয়েছে। এঁরা প্রত্যেকেই সংশ্লিষ্ট জেলার জেলা নির্বাচনী আধিকারিক (DEO) হিসেবেও দায়িত্বে ছিলেন।
নতুন জেলাশাসকদের তালিকা ঘোষণা
কমিশনের বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী—
কোচবিহার: জিতেন যাদব
জলপাইগুড়ি: সন্দীপ ঘোষ
উত্তর দিনাজপুর: বিবেক কুমার
মালদহ: রাজনবীর সিং কাপুর
মুর্শিদাবাদ: আর অর্জুন
নদিয়া: শ্রীকান্ত পালিত
পূর্ব বর্ধমান: শ্বেতা আগরওয়াল
উত্তর ২৪ পরগণা: শিল্পা গৌরিসারিয়া
দক্ষিণ ২৪ পরগণা: অভিষেক কুমার তিওয়ারি
দার্জিলিং: হরিচন্দ্র পানিক্কর
আলিপুরদুয়ার: টি বালাসুব্রহ্মণ্যম
কলকাতা পুরসভাতেও বড় পরিবর্তন
শুধু জেলা নয়, Kolkata Municipal Corporation-এর কমিশনার তথা ডিইও পদ থেকেও আধিকারিককে সরানো হয়েছে। নতুন কমিশনার হিসেবে দায়িত্ব পাচ্ছেন স্মিতা পাণ্ডে। একইসঙ্গে দক্ষিণ কলকাতার ডিইও পদে আনা হয়েছে রণধীর কুমারকে।
তাৎক্ষণিক কার্যকর করার নির্দেশ
কমিশনের তরফে জানানো হয়েছে, এই নির্দেশ অবিলম্বে কার্যকর করতে হবে। সংশ্লিষ্ট আধিকারিকদের বৃহস্পতিবার বিকেল ৩টার মধ্যে নতুন দায়িত্বে যোগ দিতে বলা হয়েছে। পাশাপাশি স্পষ্ট নির্দেশ—বদলি হওয়া আধিকারিকদের নির্বাচন প্রক্রিয়া শেষ না হওয়া পর্যন্ত কোনও ভোট সংক্রান্ত কাজে রাখা যাবে না।
ভোটের আগে নজরদারি বাড়াতে কড়া পদক্ষেপ
এর আগে একই দিনে পাঁচ ডিআইজি-কে বদল করা হয়েছিল। ফলে বোঝাই যাচ্ছে, ভোটের আগে প্রশাসনিক নিরপেক্ষতা নিশ্চিত করতে একাধিক স্তরে নজরদারি জোরদার করছে কমিশন।
সিইও দপ্তরে জরুরি বৈঠক
এই পরিস্থিতিতে রাজ্যের সিইও দপ্তরে জরুরি বৈঠক ডাকা হয়েছে। সেখানে স্পেশাল পর্যবেক্ষক, ডিজিপি, Kolkata Police কমিশনার-সহ একাধিক শীর্ষ আধিকারিক উপস্থিত থাকার কথা।
ভোটের প্রাক্কালে প্রশাসনিক স্তরে বড়সড় রদবদলের পথে Election Commission of India। একসঙ্গে ১১ জেলার জেলাশাসক বদলের সিদ্ধান্তের পাশাপাশি কলকাতা পুরসভার কমিশনার পদেও পরিবর্তন আনা হয়েছে। নিরপেক্ষ নির্বাচন নিশ্চিত করতে এই নির্দেশ দ্রুত কার্যকর করার ওপর জোর দিয়েছে কমিশন।











