Electricity From Wallpaper: দেওয়ালে লাগানো ওয়ালপেপারই বানাবে বিদ্যুৎ! সূর্য বা আলাদা পাওয়ার ছাড়াই চলবে ছোট গ্যাজেট

দেওয়ালে লাগানো ওয়ালপেপার থেকেই তৈরি হবে বিদ্যুৎ! Binghamton University-এর পেপারট্রনিক্স প্রযুক্তি কীভাবে ঘরের আর্দ্রতা ব্যবহার করে বিদ্যুৎ তৈরি করে, জানুন।

বিদ্যুৎ তৈরির জন্য সবসময় যে সূর্যের আলো, বাতাস কিংবা আলাদা পাওয়ার সোর্সের প্রয়োজন হবে, এমন নয়। ভবিষ্যতে হয়তো ঘরের দেওয়ালে লাগানো ওয়ালপেপারই সামান্য বিদ্যুৎ তৈরি করবে। Binghamton University-এর গবেষকরা এমন একটি ‘পেপারট্রনিক্স’ ওয়ালপেপার তৈরি করেছেন, যা ঘরের বাতাসের আর্দ্রতা শুষে নিয়ে তা থেকে বৈদ্যুতিক শক্তি উৎপাদন করতে পারে। এখনও এই প্রযুক্তি বড় বৈদ্যুতিক যন্ত্র চালানোর মতো শক্তি তৈরি করতে পারে না, তবে ছোট ইলেকট্রনিক ডিভাইস চালানোর পরীক্ষায় সাফল্য মিলেছে।

সূর্যের আলো ছাড়াই বিদ্যুৎ উৎপাদন!

এই প্রযুক্তির সবচেয়ে আকর্ষণীয় দিক হল, বিদ্যুৎ তৈরির জন্য সরাসরি সূর্যের আলো প্রয়োজন হয় না। ঘরের মধ্যেই বিভিন্নভাবে তৈরি হওয়া আর্দ্রতা এই ব্যবস্থায় কাজে লাগে।রান্না করার সময়, স্নান করার সময় কিংবা মানুষের নিঃশ্বাসের সঙ্গে বাতাসে যে জলীয়বাষ্প ছড়িয়ে পড়ে, সেই আর্দ্রতা শোষণ করে ওয়ালপেপারটি বিদ্যুৎ তৈরির প্রক্রিয়া চালাতেপারে।অর্থাৎ, এটি প্রচলিত সোলার প্যানেলের মতো সূর্যের আলোর উপর নির্ভরশীল নয়। ঘরের পরিবেশে থাকা আর্দ্রতাই এখানে শক্তির উৎস হিসেবে কাজ করে।

কীভাবে আর্দ্রতা থেকে বিদ্যুৎ তৈরি করবে ওয়ালপেপার?

এই অভিনব ওয়ালপেপারের ভিতরে রয়েছে ক্ষুদ্র moisture-electric generator বা আর্দ্রতা-নির্ভর বিদ্যুৎ উৎপাদন ব্যবস্থা।প্রথমে বাতাসের জলীয়বাষ্প ওয়ালপেপারের নির্দিষ্ট অংশে পৌঁছয়। আর্দ্রতা কাগজের স্তরে পৌঁছলে সেখানে থাকা আয়নগুলির মধ্যে বিভাজন তৈরি হয়। এর ফলে কাগজের সামনের ও পিছনের অংশের মধ্যে বৈদ্যুতিক বিভবের পার্থক্য বা ভোল্টেজ তৈরি হয়।এই প্রক্রিয়া চলতে থাকলে সেখান থেকে ব্যবহারযোগ্য অল্প পরিমাণ বৈদ্যুতিক শক্তি পাওয়া যায়।

‘পেপারট্রনিক্স’ প্রযুক্তির বিশেষত্ব কোথায়?

গবেষকদের তৈরি ব্যবস্থায় কাগজের উপর সাধারণ ইলেকট্রনিক সার্কিট বসিয়ে দেওয়ার বদলে কাগজের উপাদান ও আর্দ্রতার প্রবাহকেই বিদ্যুৎ তৈরির কাজে ব্যবহার করা হয়েছে।ওয়ালপেপারের বাইরের প্রান্তে গ্লিসারল ব্যবহার করা হয়। এটি বাতাস থেকে আর্দ্রতা শোষণ করতে সাহায্য করে। এরপর মাঝের দিকে থাকা পলিমারের স্তর আর্দ্রতাকে দ্রুত বাষ্প হয়ে বেরিয়ে যেতে বাধা দেয়।ফলে আর্দ্রতার প্রবাহ একটি নির্দিষ্ট পথে চলতে পারে এবং বিদ্যুৎ উৎপাদনের প্রক্রিয়া বজায় থাকে। পাশাপাশি বৈদ্যুতিক সংযোগগুলিও ওয়ালপেপারের পিছনে রাখা যায়, ফলে দেওয়ালের সামনের নকশা বা সৌন্দর্য নষ্ট হওয়ার সম্ভাবনা কমে।

ঘরের আর্দ্রতাই হতে পারে শক্তির উৎস

গবেষণার তথ্য অনুযায়ী, ঘরের ভিতরের আর্দ্রতা অনেক সময় প্রায় ৩০ থেকে ৬০ শতাংশের মধ্যে থাকতে পারে। এই পরিবেশকে কাজে লাগিয়েই ওয়ালপেপারটি বিদ্যুৎ উৎপাদনের চেষ্টা করে।এই প্রযুক্তির সুবিধা হল, বাইরের আবহাওয়া বা সূর্যালোকের উপস্থিতির উপর সরাসরি নির্ভর করতে হয় না। তবে এর কার্যকারিতা পরিবেশের আর্দ্রতার মাত্রা এবং ব্যবস্থার আকারের মতো বিভিন্ন বিষয়ের উপর নির্ভর করবে।

কতটা বিদ্যুৎ তৈরি করতে পারে এই ওয়ালপেপার?

গবেষকরা ১,৫৯৬টি interconnected unit নিয়ে তৈরি একটি বড় ওয়ালপেপার ব্যবস্থার পরীক্ষা করেছেন।

পরীক্ষায় ৮০ শতাংশ আর্দ্রতার পরিবেশে এটি প্রায় ০.৩৪ ভোল্ট এবং ২.২ মাইক্রোওয়াট বিদ্যুৎ উৎপন্ন করতে সক্ষম হয়েছে।

সংখ্যাগুলি শুনতে ছোট মনে হলেও ক্ষুদ্র ইলেকট্রনিক ডিভাইসের ক্ষেত্রে এই ধরনের শক্তি কাজে লাগানোর সম্ভাবনা রয়েছে।

ওয়্যারলেস কিবোর্ডও চালানো হয়েছে

এই প্রযুক্তির বাস্তব প্রয়োগ দেখাতে গবেষকরা উৎপন্ন বিদ্যুৎ ব্যবহার করে একটি ওয়্যারলেস কিবোর্ড চালানোর পরীক্ষা করেছেন। পরীক্ষাটি সফল হয়েছে।এর ফলে ভবিষ্যতে সেন্সর, ছোট ইলেকট্রনিক ডিভাইস বা কম শক্তি প্রয়োজন এমন কিছু গ্যাজেটের ক্ষেত্রে এই প্রযুক্তি ব্যবহার করার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।তবে এখনই এই ওয়ালপেপার দিয়ে বাড়ির বড় বৈদ্যুতিক যন্ত্র চালানোর কথা ভাবা ঠিক হবে না। ফ্রিজ, AC বা এই ধরনের উচ্চ-বিদ্যুৎ প্রয়োজন এমন ডিভাইস চালানোর মতো শক্তি বর্তমানে এই পরীক্ষিত ব্যবস্থায় তৈরি হয়নি।

ভবিষ্যতে বদলে যেতে পারে ঘরের প্রযুক্তি

এই গবেষণা সফলভাবে আরও উন্নত হলে ভবিষ্যতে দেওয়ালের জায়গা শুধু ঘর সাজানোর মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে না। ওয়ালপেপারের মতো দৈনন্দিন উপকরণও ক্ষুদ্র পরিমাণ বিদ্যুৎ উৎপাদনের কাজে ব্যবহার করা যেতে পারে।বিশেষ করে কম শক্তি প্রয়োজন এমন স্মার্ট সেন্সর বা ছোট ইলেকট্রনিক ডিভাইসের ক্ষেত্রে এই ধরনের প্রযুক্তি নতুন সম্ভাবনা তৈরি করতে পারে। তবে প্রযুক্তিটি এখনও গবেষণা ও উন্নয়নের পর্যায়ে রয়েছে এবং ব্যাপকভাবে ব্যবহারের আগে আরও পরীক্ষা প্রয়োজন।

বাড়ির দেওয়ালে লাগানো ওয়ালপেপার থেকেই তৈরি হতে পারে বিদ্যুৎ! এমনই অভিনব প্রযুক্তি নিয়ে কাজ করছেন Binghamton University-এর গবেষকরা। তাঁদের তৈরি ‘পেপারট্রনিক্স’ ওয়ালপেপার ঘরের বাতাসে থাকা আর্দ্রতাকে কাজে লাগিয়ে বিদ্যুৎ উৎপাদন করতে পারে। রান্না, স্নান কিংবা মানুষের শ্বাস-প্রশ্বাস থেকে তৈরি হওয়া আর্দ্রতাও এই প্রযুক্তির কাজে লাগতে পারে। পরীক্ষায় এই ওয়ালপেপার দিয়ে একটি ওয়্যারলেস কিবোর্ড চালানো সম্ভব হয়েছে।

Leave a comment