৩০ বছর বয়সে ৬০ বছর পর্যন্ত ৫ কোটি টাকার অবসর তহবিল গঠনের জন্য পরিকল্পিত বিনিয়োগ অপরিহার্য। ক্রমবর্ধমান মূল্যস্ফীতি এবং দীর্ঘমেয়াদে ব্যয়ের বৃদ্ধি বিবেচনায় শুধুমাত্র সঞ্চয় যথেষ্ট নয়। EPF, PPF এবং NPS-এর সমন্বিত বিনিয়োগ একটি কাঠামোগত উপায়ে তহবিল গঠনে সহায়ক।
ন্যাশনাল পেনশন সিস্টেমে বিনিয়োগের একটি বড় অংশ শেয়ার বাজারে বরাদ্দ থাকে। গত ১০ বছরে এই স্কিমের বার্ষিক রিটার্ন প্রায় ৮ থেকে ১২ শতাংশের মধ্যে ছিল। কর সুবিধার ক্ষেত্রে, সেকশন 80C-এর অধীনে ১.৫ লাখ টাকা পর্যন্ত ছাড় এবং সেকশন 80CCD(1B)-এর অধীনে অতিরিক্ত ৫০,০০০ টাকা পর্যন্ত ছাড় পাওয়া যায়। মোট হিসেবে ২ লাখ টাকা পর্যন্ত কর সাশ্রয়ের সুযোগ রয়েছে। এই বিনিয়োগ কাঠামোতে বিনিয়োগ, বৃদ্ধি এবং উত্তোলন—তিন ক্ষেত্রেই কর সুবিধা প্রযোজ্য। তবে, এই স্কিমে বাজার-সংযুক্ত ঝুঁকি বিদ্যমান, যা EPF এবং PPF-এর মাধ্যমে ভারসাম্যপূর্ণ করা প্রয়োজন।
এমপ্লয়িজ প্রভিডেন্ট ফান্ড মূলত বেতনভুক্ত কর্মীদের জন্য অবসরভিত্তিক স্কিম। বর্তমানে এর বার্ষিক রিটার্ন ৮.২৫ শতাংশ। এই স্কিমে প্রতি বছর ১.৫ লাখ টাকা পর্যন্ত কর ছাড় পাওয়া যায় এবং ম্যাচিউরিটির সময় সম্পূর্ণ তহবিল করমুক্ত থাকে। যদি ৩০ বছর বয়স থেকে প্রতি মাসে প্রায় ২৭,০০০ টাকা বিনিয়োগ করা হয়, তবে ৬০ বছর বয়সে তহবিল প্রায় ৫ কোটি টাকায় পৌঁছাতে পারে। মোট বিনিয়োগ প্রায় ৯৭ লাখ টাকা হবে। এই স্কিমে ঝুঁকি তুলনামূলকভাবে কম এবং তহবিল ধীরে ধীরে বৃদ্ধি পায়।
![]()
পাবলিক প্রভিডেন্ট ফান্ড একটি সরকারি সমর্থিত দীর্ঘমেয়াদি সঞ্চয় স্কিম, যার বর্তমান বার্ষিক রিটার্ন প্রায় ৭.১ শতাংশ। এই স্কিমে বার্ষিক বিনিয়োগ সীমা ১.৫ লাখ টাকা এবং এটি সেকশন 80C-এর অধীনে কর সুবিধা প্রদান করে। শুধুমাত্র এই স্কিমের মাধ্যমে ৫ কোটি টাকার তহবিল গঠন কঠিন হলেও, EPF এবং NPS-এর সঙ্গে মিলিয়ে এটি পোর্টফোলিওকে সুরক্ষিত করে এবং ঝুঁকি হ্রাস করে।
একটি উদাহরণ হিসেবে, যদি কোনও বিনিয়োগকারীর বয়স ৩০ বছর এবং তার বেসিক বেতন ৫০,০০০ টাকা হয়, তবে EPF, NPS এবং PPF-এ বিনিয়োগ শুরু করা যেতে পারে। EPF-এ কর্মচারীর ১২ শতাংশ এবং নিয়োগকর্তার ৩.৬৭ শতাংশ মিলিয়ে প্রতি মাসে প্রায় ৭,৮৩৫ টাকা জমা হয়। বার্ষিক ৫ শতাংশ বেতন বৃদ্ধি ধরে ৩০ বছরে EPF তহবিল প্রায় ২ কোটি টাকা হতে পারে। NPS-এ প্রতি মাসে ১০,০০০ টাকা বিনিয়োগ করলে এবং ৮ শতাংশ বার্ষিক রিটার্ন ধরে ৩০ বছরে প্রায় ১.৫ কোটি টাকা তহবিল গঠন সম্ভব। PPF-এ প্রতি মাসে ১২,৫০০ টাকা বিনিয়োগ করলে ৩০ বছরে তহবিল প্রায় ১.৫ কোটি টাকা হতে পারে। এই তিনটি স্কিমের সমন্বয়ে মোট তহবিল প্রায় ৫ কোটি টাকা হতে পারে, যেখানে মোট মাসিক বিনিয়োগ প্রায় ৩০,০০০ টাকা।
একক কোনও স্কিমের উপর নির্ভরতা এড়াতে আর্থিক বিশেষজ্ঞরা EPF, PPF এবং NPS-এ নিয়মিত বিনিয়োগের মাধ্যমে পোর্টফোলিও ভারসাম্য বজায় রাখার পরামর্শ দেন। এই পদ্ধতিতে কর সাশ্রয়, দীর্ঘমেয়াদি রিটার্ন এবং ঝুঁকি নিয়ন্ত্রণ নিশ্চিত করা যায়।
তহবিল পরিকল্পনায় শুধুমাত্র অতীত রিটার্নের উপর নির্ভরতা যথেষ্ট নয়। ভবিষ্যতে রিটার্নের হার পরিবর্তিত হতে পারে বলে বিশেষজ্ঞরা উল্লেখ করেছেন। বিনিয়োগের আগে আয়ের স্তর, ব্যয়, ঝুঁকি গ্রহণের সক্ষমতা এবং লক্ষ্য বিবেচনায় নেওয়া প্রয়োজন।
২০২৬ সালে বিনিয়োগ পরিকল্পনায় একটি ভারসাম্যপূর্ণ পোর্টফোলিও বজায় রাখা প্রয়োজন, যেখানে EPF-এর স্থিতিশীলতা, PPF-এর সুরক্ষা এবং NPS-এর প্রবৃদ্ধি সমন্বিতভাবে দীর্ঘমেয়াদে তহবিল গঠনে ভূমিকা রাখে।












