পশ্চিম এশিয়ায় ইরান সংঘাত দীর্ঘায়িত হলে ভারতের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং মূল্যস্ফীতির ওপর উল্লেখযোগ্য প্রভাব পড়তে পারে বলে EY-এর Economy Watch রিপোর্টে বলা হয়েছে। রিপোর্ট অনুযায়ী, সংঘাত যদি আগামী অর্থবছর পর্যন্ত অব্যাহত থাকে, তাহলে ভারতের রিয়েল GDP বৃদ্ধির হার প্রায় ১ শতাংশ কমতে পারে এবং ভোক্তা মূল্য সূচক (CPI) ভিত্তিক মূল্যস্ফীতি প্রায় ১.৫ শতাংশ পর্যন্ত বাড়তে পারে।
রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়েছে যে এই প্রভাব বিশেষভাবে তেল ও জ্বালানি নির্ভর খাতগুলোতে প্রতিফলিত হবে। টেক্সটাইল, পেইন্ট, কেমিক্যাল, ফার্টিলাইজার, সিমেন্ট এবং টায়ারসহ কর্মসংস্থান-নির্ভর খাতগুলো সরাসরি প্রভাবিত হবে। এই খাতগুলোতে আয় বা কর্মসংস্থান হ্রাস পেলে সামগ্রিক অভ্যন্তরীণ চাহিদা কমতে পারে, যা উৎপাদন ও ভোক্তাদের ক্রয়ক্ষমতার ওপর প্রভাব ফেলবে।
ভারত তার প্রায় ৯০ শতাংশ অপরিশোধিত তেলের চাহিদা আমদানির মাধ্যমে পূরণ করে এবং প্রাকৃতিক গ্যাস ও ফার্টিলাইজারের ক্ষেত্রেও আমদানির ওপর উচ্চ নির্ভরশীল। ফলে বৈশ্বিক তেল বাজারে অস্থিরতা সরাসরি ভারতীয় অর্থনীতিতে প্রভাব ফেলে। EY-এর রিপোর্টে বলা হয়েছে, পশ্চিম এশিয়ার সংঘাতের কারণে বৈশ্বিক অপরিশোধিত তেল ও জ্বালানি বাজারে সরবরাহ, মজুত, পরিবহন এবং দামের ওপর প্রভাব পড়েছে এবং এই বিঘ্ন স্বাভাবিক হতে সময় লাগতে পারে, এমনকি সংঘাত দ্রুত শেষ হলেও।
EY অনুমান করেছে যে যদি এই প্রভাব পুরো FY27 পর্যন্ত বজায় থাকে, তাহলে ভারতের রিয়েল GDP বৃদ্ধির হার প্রায় ১ শতাংশ কমতে পারে। একই সঙ্গে CPI ভিত্তিক মূল্যস্ফীতি প্রায় ১.৫ শতাংশ পর্যন্ত বাড়তে পারে। ফেব্রুয়ারি ২০২৬-এ EY FY27-এর জন্য ভারতের GDP বৃদ্ধির হার ৬.৮ শতাংশ থেকে ৭.২ শতাংশের মধ্যে থাকার পূর্বাভাস দিয়েছিল।
![]()
মূল্যস্ফীতির বৃদ্ধি সরাসরি ভোক্তাদের ক্রয়ক্ষমতার ওপর প্রভাব ফেলতে পারে। তেল ও জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধির ফলে পরিবহন, উৎপাদন এবং খাদ্যদ্রব্যের দাম বাড়তে পারে, যা অভ্যন্তরীণ চাহিদা হ্রাসের দিকে নিয়ে যেতে পারে।
এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় সরকারকে শক্তিশালী কাউন্টার-সাইক্লিক্যাল নীতি গ্রহণের প্রয়োজন বলে EY উল্লেখ করেছে। এতে বৃহৎ ও শিল্পসমৃদ্ধ রাজ্যগুলিকে অন্তর্ভুক্ত করা জরুরি। পাশাপাশি FY26-এ গঠিত Economic Stabilisation Fund (ESF) আরও শক্তিশালী করার সুপারিশ করা হয়েছে। সরকার ইতোমধ্যে ১ লক্ষ কোটি টাকার ESF গঠন করেছে, যা বৈশ্বিক ঝুঁকি মোকাবিলায় আর্থিক সুরক্ষা প্রদান করে।
এই তহবিলের লক্ষ্য হলো তেলের দামের উল্লম্ফন, মূল্যস্ফীতি এবং বৈশ্বিক উত্তেজনার সময় অর্থনৈতিক ভারসাম্য বজায় রাখা।
২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ইরানের ওপর হামলার পর থেকে বৈশ্বিক অপরিশোধিত তেলের দামে প্রায় ৫০ শতাংশ বৃদ্ধি লক্ষ্য করা গেছে। এই বৃদ্ধি ভারতের জ্বালানি মূল্য এবং উৎপাদন ব্যয়ের ওপর সরাসরি প্রভাব ফেলেছে। মূল্যস্ফীতি বৃদ্ধির ফলে অভ্যন্তরীণ বাজারে চাহিদা হ্রাস এবং বিভিন্ন শিল্পের ব্যয় বৃদ্ধি পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
অর্থনৈতিক সহযোগিতা ও উন্নয়ন সংস্থা (OECD) অনুমান করেছে যে আগামী অর্থবছরে ভারতের GDP বৃদ্ধির হার কমে ৬.১ শতাংশে দাঁড়াতে পারে, যা চলতি অর্থবছরের প্রত্যাশিত ৭.৬ শতাংশ বৃদ্ধির তুলনায় কম। OECD সতর্ক করেছে যে বৈশ্বিক অনিশ্চয়তা এবং তেলের বাড়তি দাম ভারতের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিকে প্রভাবিত করতে পারে।
EY আরও বলেছে, তেল ও জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধির ফলে কর্মসংস্থান-নির্ভর খাতগুলোতে আয় ও কর্মসংস্থান হ্রাস পেতে পারে, যার ফলে সামগ্রিক অভ্যন্তরীণ চাহিদা দুর্বল হতে পারে। টেক্সটাইল, ফার্টিলাইজার এবং সিমেন্ট খাতে উৎপাদন ধীর হতে পারে। মূল্যস্ফীতি বৃদ্ধির কারণে দৈনন্দিন প্রয়োজনীয় পণ্যের ক্রয়ক্ষমতা কমে যেতে পারে, যার ফলে বাজারে চাহিদা হ্রাস এবং ব্যবসায়িক কার্যক্রমে প্রভাব পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে।










