ভারতের ইলেকট্রিক টু-হুইলার বাজারে কাঠামোগত পরিবর্তন স্পষ্ট হচ্ছে। প্রাথমিক পর্যায়ে দ্রুত প্রবৃদ্ধির পর একাধিক স্টার্টআপ গতি হারিয়েছে, একই সময়ে টিভিএস, বাজাজ ও হিরোর মতো প্রতিষ্ঠিত অটোমোবাইল সংস্থাগুলি নির্ভরযোগ্য পণ্য ও বিস্তৃত সার্ভিস নেটওয়ার্কের জোরে বাজারে অবস্থান শক্ত করেছে।
অ্যান্টিক স্টক ব্রোকিংয়ের একটি সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২১ থেকে ২০২৫ সময়কালে দ্রুত পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও আক্রমণাত্মক সম্প্রসারণের পর এই খাতটি এখন এমন এক পর্যায়ে প্রবেশ করেছে যেখানে টেকসই ব্যবসা, পণ্যের নির্ভরযোগ্যতা ও সার্ভিস নেটওয়ার্ক প্রধান নির্ধারক হয়ে উঠেছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইলেকট্রিক টু-হুইলার বাজারের যাত্রাপথ তিনটি পর্যায়ে বিভক্ত। ২০২১–২২ সময়কাল ছিল পরীক্ষামূলক পর্যায়, যখন একাধিক স্টার্টআপ নতুন মডেল ও প্রযুক্তি নিয়ে বাজারে প্রবেশ করে। ২০২৩–২৪ সময়কাল ছিল দ্রুত বৃদ্ধির ধাপ, যেখানে সরকারের FAME-2 ভর্তুকি, মূল্য হ্রাস ও জ্বালানির ক্রমবর্ধমান খরচ ইলেকট্রিক যানবাহনের গ্রহণযোগ্যতা বাড়ায় এবং ইলেকট্রিক স্কুটারের বিক্রিতে উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধি দেখা যায়। ২০২৫ সাল থেকে বর্তমান পর্যায়ে দ্রুত বিক্রির বদলে টেকসই ব্যবসায়িক মডেল ও মুনাফার ওপর গুরুত্ব বেড়েছে।
যানবাহন পোর্টাল ‘বাহন’-এর তথ্য অনুযায়ী, ২০২১ থেকে ২০২৫ সময়কালে ভারতে প্রায় ১২ থেকে ১৩ লক্ষ ইলেকট্রিক টু-হুইলার বিক্রি হয়েছে। ২০২৪ সাল থেকে বাজারে গতি বাড়লেও ২০২৫ সালে একাধিক স্টার্টআপের বিক্রিতে মন্থরতা দেখা গেছে। এর বিপরীতে টিভিএস, বাজাজ ও হিরোর মতো প্রতিষ্ঠিত সংস্থাগুলির বিক্রিতে বৃদ্ধি লক্ষ্য করা গেছে, যা তাদের ডিলার নেটওয়ার্ক, ব্র্যান্ড গ্রহণযোগ্যতা ও সার্ভিস সক্ষমতার প্রতিফলন।
ইলেকট্রিক টু-হুইলার এখন বড় শহরের বাইরে সাধারণ ব্যবহারের ক্ষেত্রেও বিস্তৃত হচ্ছে। ইলেকট্রিক স্কুটার অফিস যাতায়াত, বাজার করা ও স্বল্প দূরত্বের যাত্রায় ব্যবহৃত হচ্ছে। কম চলতি খরচ, সরকারি প্রণোদনা ও উন্নত ব্যাটারি প্রযুক্তি এই যানগুলিকে ব্যবহারিক করেছে। তবে ২০২৪–২৫ সময়কালে কিছু মডেলে প্রযুক্তিগত ত্রুটি ও সার্ভিস সংক্রান্ত অভিযোগ উঠে, যার ফলে ভোক্তাদের আস্থায় প্রভাব পড়ে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৪ সালে বাজারে শীর্ষস্থানে থাকা ওলা ইলেকট্রিক ২০২৫ সালে চতুর্থ স্থানে নেমে আসে। একই সময়ে টিভিএস মোটর ২০২৫ সালে প্রায় ৩ লক্ষ ইউনিট বিক্রি করে প্রথম স্থান অর্জন করে। বাজাজ অটো ইলেকট্রিক সেগমেন্টে দ্বিতীয় স্থানে উঠে আসে। আথার এনার্জি প্রিমিয়াম সেগমেন্টে অবস্থান ধরে রেখে ২০২৫ সালে তৃতীয় স্থানে থাকে। হিরো মটোকর্প ২০২৪ সালের পর বিক্রিতে বৃদ্ধি নথিভুক্ত করে।
প্রতিবেদনটি উল্লেখ করেছে যে খাতটি ধীরে ধীরে কেবল ভর্তুকিনির্ভরতা থেকে বেরিয়ে আসছে। প্রাথমিক বৃদ্ধিতে সরকারি সহায়তা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করলেও, ভবিষ্যতে টিকে থাকার জন্য শক্তিশালী ব্যালেন্স শিট, নির্ভরযোগ্য সার্ভিস নেটওয়ার্ক ও বিস্তৃত ডিস্ট্রিবিউশন ব্যবস্থাই নির্ধারক হবে।











