বাজার ছেয়ে গেছে নকল গুড়ে! আসল গুড় চেনার সহজ ৩ উপায়, না জানলে ক্ষতি আপনারই

বাজার ছেয়ে গেছে নকল গুড়ে! আসল গুড় চেনার সহজ ৩ উপায়, না জানলে ক্ষতি আপনারই

শরীরের জন্য উপকারী প্রাকৃতিক মিষ্টি হিসেবে গুড়ের জনপ্রিয়তা প্রশ্নাতীত। চিনি এড়িয়ে বহু মানুষ গুড়ের দিকেই ঝুঁকছেন। তবে চাহিদার সুযোগ নিয়ে বাজারে ঢুকেছে ভেজাল ও রাসায়নিক মেশানো গুড়। যা স্বাস্থ্যের পক্ষে মারাত্মক ক্ষতিকর হতে পারে। তাই গুড় কেনার আগে সচেতন হওয়াই এখন সবচেয়ে জরুরি।

স্বাদেই ধরা পড়ে আসল-নকলের তফাত

আসল গুড়ের স্বাদ হয় মোলায়েম ও প্রাকৃতিক মিষ্টি। মুখে দিলে কোনও জ্বালা বা তিক্ততা থাকে না। অন্যদিকে নকল গুড় অত্যধিক মিষ্টি কিংবা কৃত্রিম স্বাদের হয়। খাওয়ার পর গলা শুকিয়ে যাওয়া বা অস্বস্তি লাগলে বুঝবেন গুড়ে ভেজাল রয়েছে।

গন্ধ বলবে গুড়ের আসল পরিচয়

খেজুর বা আখের খাঁটি গুড়ের একটি স্বাভাবিক মিষ্টি ঘ্রাণ থাকে। নকল গুড়ের ক্ষেত্রে সেই গন্ধ অনুপস্থিত থাকে বা বরং কেমিক্যালের মতো তীব্র গন্ধ পাওয়া যায়। গুড় কিনবার সময় অবশ্যই গন্ধ পরীক্ষা করা জরুরি।

হাতে ধরলেই মিলবে ইঙ্গিত

খাঁটি খেজুর পাটালি বা নরম গুড় হাতের তালুতে চাপ দিলে হালকা গলে যায়। ভেজাল গুড় সাধারণত খুব শক্ত হয় অথবা অস্বাভাবিক আঠালো লাগে। অতিরিক্ত শক্ত বা প্লাস্টিকের মতো অনুভূতি হলে সেই গুড় এড়িয়ে চলাই ভালো।

জল পরীক্ষায় ধরা পড়ে ভেজাল

এক গ্লাস গরম জলে ছোট টুকরো গুড় ফেলুন। আসল গুড় ধীরে ধীরে গলে যাবে এবং জল পরিষ্কার থাকবে। নকল গুড় মিশলে জল হলুদ বা ঘোলা হয়ে যায়—এটাই ভেজালের স্পষ্ট লক্ষণ।

রঙের চাকচিক্যে ভুলবেন না

খাঁটি গুড় সাধারণত হালকা বাদামি রঙের হয়। খুব বেশি চকচকে, হলুদ বা গাঢ় কালচে রঙের গুড় দেখলে সাবধান। আকর্ষণ বাড়াতে অনেক সময় রাসায়নিক রং ব্যবহার করা হয়।

শীত হোক বা সারা বছর—গুড় বাঙালির খাদ্যতালিকায় গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু বাজারে বাড়ছে রাসায়নিক ও ভেজাল মেশানো নকল গুড়ের দাপট। রং, গন্ধ আর স্বাদের ফাঁদে পড়ে অনেকেই অজান্তেই ক্ষতিকর গুড় কিনছেন। কীভাবে সহজেই চিনবেন আসল ও নকল গুড়ের পার্থক্য? রইল বিস্তারিত।

 

Leave a comment