গত নির্বাচনে একাধিক বুথে ইভিএমে কারচুপির অভিযোগ ঘিরে বিতর্ক তৈরি হয়েছিল। সেই অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়েই এবার ফলতা বিধানসভা কেন্দ্রের পুনর্নির্বাচনে আরও কড়া নিরাপত্তা বলয় গড়ে তুলছে নির্বাচন কমিশন। কমিশনের লক্ষ্য একটাই— কোনও রকম অশান্তি বা অনিয়ম ছাড়াই শান্তিপূর্ণভাবে ভোট সম্পন্ন করা।
প্রতি বুথে দ্বিগুণ কেন্দ্রীয় বাহিনী
এবারের পুনর্নির্বাচনে প্রতিটি বুথে এক সেকশন অর্থাৎ আটজন করে কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ান মোতায়েন করা হচ্ছে। সাধারণত প্রতি বুথে হাফ সেকশন বা চারজন জওয়ান থাকলেও, ফলতার ক্ষেত্রে নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও জোরদার করা হয়েছে। কমিশন সূত্রে খবর, আগের ভোটের তুলনায় প্রায় দ্বিগুণ বাহিনী নামানো হচ্ছে এই রিপোলে।
আকাশপথেও নজরদারি
ভোটের দিন পুরো কেন্দ্র জুড়ে ড্রোন উড়িয়ে নজরদারি চালানোর পরিকল্পনা রয়েছে। বুথের আশপাশে কোনও গোলমাল বা অস্বাভাবিক পরিস্থিতি তৈরি হচ্ছে কি না, তা পর্যবেক্ষণ করবে প্রশাসন। পাশাপাশি এই নির্বাচনের তত্ত্বাবধানে থাকবেন তিনজন বিশেষ পর্যবেক্ষকও।
আগের অভিযোগ থেকে বাড়তি সতর্কতা
গত ২৯ এপ্রিল ভোটের দিন বিভিন্ন বুথে ইভিএমে আতর ছিটানো, সেলোটেপ লাগিয়ে রাখার মতো অভিযোগ সামনে এসেছিল। সেই ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক মহলে বিতর্কও তৈরি হয়। এবার যাতে সেই ধরনের কোনও সমস্যা না হয়, তার জন্য প্রযুক্তিনির্ভর নজরদারির উপর বিশেষ জোর দিচ্ছে নির্বাচন কমিশন।
ওয়েবকাস্টিং ও ক্যামেরায় ঘিরে রাখা হবে বুথ
প্রতিটি বুথের ভিতরে দু’টি এবং বাইরে একটি করে ওয়েবক্যাম বসানো হবে। থাকবে লাইভ ওয়েবকাস্টিংয়ের ব্যবস্থাও। বুথের আশপাশের পরিস্থিতির উপরও কড়া নজর রাখা হবে। জেলা নির্বাচনী আধিকারিক (ডিইও) এবং মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের (সিইও) দফতর থেকে সরাসরি এই নজরদারি চালানো হবে বলে জানা গিয়েছে।
প্রস্তুত থাকবে কুইক রেসপন্স টিম
ভোট চলাকালীন কোনও অশান্তি বা জরুরি পরিস্থিতি তৈরি হলে দ্রুত ব্যবস্থা নিতে ৩০টি কুইক রেসপন্স টিম বা কিউআরটি প্রস্তুত রাখা হচ্ছে। প্রশাসনের দাবি, অভিযোগ পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই এই দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে যাবে।
২৮৫ বুথে ৩৫ কোম্পানি বাহিনী
ফলতা বিধানসভা কেন্দ্রে মোট বুথ সংখ্যা ২৮৫। এই বিপুল সংখ্যক বুথে সুষ্ঠুভাবে ভোট পরিচালনার জন্য মোট ৩৫ কোম্পানি কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। নির্বাচন কমিশনের মতে, ভোটারদের নিরাপত্তা ও আস্থা বজায় রাখতেই এই বিশেষ ব্যবস্থা।
দক্ষিণ ২৪ পরগনার ফলতা বিধানসভা কেন্দ্রে আগামী ২১ মে পুনর্নির্বাচনকে ঘিরে এবার নজিরবিহীন নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। প্রতিটি বুথে দ্বিগুণ কেন্দ্রীয় বাহিনী, ড্রোন নজরদারি, ওয়েবকাস্টিং এবং ৩০টি কুইক রেসপন্স টিম মোতায়েনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে নির্বাচন কমিশন।











