চীনের শানডং প্রদেশে এক পরিবার তাদের মৃত ছেলের একটি এআই ডিজিটাল টুইন তৈরি করে সেটির মাধ্যমে প্রতিদিন ভিডিও কলে তার ৮০ বছর বয়সী মায়ের সঙ্গে কথা বলাচ্ছে।
গত বছর এক সড়ক দুর্ঘটনায় ছেলের মৃত্যুর পর হৃদরোগে আক্রান্ত মাকে সত্য জানানো হয়নি এবং তার পরিবর্তে এআই প্রযুক্তির সহায়তায় এই ডিজিটাল অবতার তৈরি করা হয়, যার উদ্দেশ্য তাকে মানসিকভাবে সহায়তা দেওয়া।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, পরিবারটি একটি এআই বিশেষজ্ঞ দলের সহায়তা নেয়, যারা পুরোনো ছবি, ভিডিও এবং কণ্ঠের রেকর্ডিং ব্যবহার করে ছেলের একটি ডিজিটাল মডেল তৈরি করে। এই এআই অবতারটি শুধু চেহারায় নয়, কথা বলার ধরন এবং অঙ্গভঙ্গিতেও বাস্তব ব্যক্তির মতো দেখায়।
প্রযুক্তিগতভাবে এটি এমনভাবে তৈরি করা হয়েছে যাতে কথোপকথনের সময় প্রতিক্রিয়াগুলো স্বাভাবিক মনে হয়। মাথা নোয়ানোর ভঙ্গি, কথা বলার গতি এবং আবেগের প্রতিক্রিয়া পর্যন্ত বাস্তবসম্মত রাখার চেষ্টা করা হয়েছে।

এই ডিজিটাল অবতারটি এখন নিয়মিত ভিডিও কলের মাধ্যমে তার মায়ের সঙ্গে কথা বলে। মা মনে করেন তার ছেলে অন্য একটি শহরে কাজ করছে এবং শিগগিরই বাড়ি ফিরবে। কথোপকথনের সময় তিনি প্রতিদিনের মতোই ছেলেকে সময়মতো খাওয়ার এবং নিজের যত্ন নেওয়ার পরামর্শ দেন।
এআই-ভিত্তিক এই ‘ডিজিটাল ছেলে’ একই আবেগে প্রতিক্রিয়া জানিয়ে মাকে আশ্বস্ত করে। পরিবারের দাবি, এই পদ্ধতি তাদের মাকে একাকীত্ব এবং গভীর শোক থেকে দূরে রাখতে সাহায্য করছে।
ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসার পর সামাজিক মাধ্যমে এ নিয়ে তীব্র বিতর্ক শুরু হয়েছে। একাংশ এটিকে প্রযুক্তির মানবিক ও ইতিবাচক ব্যবহার হিসেবে দেখছে, যা মানসিক সহায়তা দিতে পারে এবং বয়স্কদের মানসিকভাবে স্থিতিশীল রাখতে সাহায্য করতে পারে।
অন্যদিকে, অনেকেই এটিকে নৈতিকভাবে প্রশ্নবিদ্ধ বলে উল্লেখ করছেন। তাদের মতে, দীর্ঘ সময় ধরে সত্য গোপন রাখা ভবিষ্যতে আরও বড় মানসিক আঘাত সৃষ্টি করতে পারে। বিশেষজ্ঞরাও এ ধরনের ক্ষেত্রে ভারসাম্য ও স্বচ্ছতার প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্ব দিচ্ছেন।








