প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি আজ প্রায় ১২,০০০ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত ২১৩ কিলোমিটার দীর্ঘ দিল্লি–দেহরাদুন ইকোনমিক করিডোরের উদ্বোধন করবেন। এই হাই-স্পিড এক্সপ্রেসওয়ে দিল্লি এবং উত্তরাখণ্ডের মধ্যে যাতায়াতের সময় প্রায় অর্ধেক কমিয়ে আনবে, যার ফলে দ্রুত, নিরাপদ এবং সুগম পরিবহন নিশ্চিত হবে।
নয়াদিল্লি: দেশের অবকাঠামো উন্নয়নে আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্পের সূচনা হতে চলেছে। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি আজ দিল্লি–দেহরাদুন এক্সপ্রেসওয়ের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করবেন। প্রায় ২১৩ কিলোমিটার দীর্ঘ এই হাই-স্পিড, ছয় লেনের অ্যাক্সেস-কন্ট্রোল্ড করিডোর দিল্লি ও উত্তরাখণ্ডের মধ্যে যাতায়াত দ্রুততর করার পাশাপাশি আঞ্চলিক অর্থনৈতিক কার্যকলাপকেও ত্বরান্বিত করবে।
প্রায় ১২,০০০ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত এই এক্সপ্রেসওয়ে জাতীয় রাজধানী দিল্লিকে উত্তরাখণ্ডের রাজধানী দেহরাদুনের সঙ্গে সংযুক্ত করবে। প্রকল্পটি চালু হলে যাতায়াতের সময় উল্লেখযোগ্যভাবে কমবে এবং যাত্রীদের জন্য উন্নত, নিরাপদ ও নির্বিঘ্ন ভ্রমণের সুবিধা নিশ্চিত হবে।

বর্তমানে দিল্লি থেকে দেহরাদুন পৌঁছাতে গড়ে ৬ ঘণ্টার বেশি সময় লাগে, যা যানজট ও রাস্তার অবস্থার কারণে আরও বাড়তে পারে। নতুন এক্সপ্রেসওয়ে চালু হলে এই যাত্রা প্রায় ২.৫ ঘণ্টায় সম্পন্ন করা সম্ভব হবে। করিডোরটি সম্পূর্ণ অ্যাক্সেস-কন্ট্রোল্ড হওয়ায় সীমিত প্রবেশ ও প্রস্থান পয়েন্ট থাকবে, যার ফলে যান চলাচল দ্রুত ও নিয়ন্ত্রিত থাকবে। এর ফলে যাত্রী পরিবহনের পাশাপাশি পণ্য পরিবহন ব্যবস্থাও আরও কার্যকর হবে।
দিল্লি–দেহরাদুন এক্সপ্রেসওয়ে আধুনিক প্রযুক্তি ও অবকাঠামোগত সুবিধা সহ নির্মিত হয়েছে। প্রকল্পে ১০টি প্রধান ইন্টারচেঞ্জ, ৩টি রেলওয়ে ওভার ব্রিজ, ৪টি বড় সেতু, ১২টি ওয়ে-সাইড সুবিধা এবং একটি অ্যাডভান্সড ট্র্যাফিক ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। এই ব্যবস্থার মাধ্যমে যান চলাচল পর্যবেক্ষণ ও নিয়ন্ত্রণ আরও কার্যকরভাবে করা যাবে।
প্রকল্পের নকশায় পরিবেশ সংরক্ষণকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। রাজাজি ন্যাশনাল পার্ক এবং সংলগ্ন সংবেদনশীল বন্যপ্রাণী অঞ্চলের কথা বিবেচনা করে এক্সপ্রেসওয়েটি পরিকল্পনা করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে ১২ কিলোমিটার দীর্ঘ এলিভেটেড ওয়াইল্ডলাইফ করিডোর, ৮টি বন্যপ্রাণী চলাচল পথ, হাতির জন্য ২০০ মিটার দৈর্ঘ্যের দুটি আন্ডারপাস এবং প্রায় ৩৭০ মিটার দীর্ঘ একটি টানেল, যাতে বন্যপ্রাণীর স্বাভাবিক চলাচল ব্যাহত না হয়।
উদ্বোধন কর্মসূচির অংশ হিসেবে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি প্রকল্পের বিভিন্ন অংশ পরিদর্শন করবেন। তিনি উত্তরপ্রদেশের সাহারানপুর অঞ্চলে এলিভেটেড অংশে নির্মিত ওয়াইল্ডলাইফ করিডোর পরিদর্শন করবেন। এরপর তিনি দেহরাদুনের নিকটবর্তী মা ডাট কালী মন্দিরে পূজা অর্চনা করবেন। পরবর্তীতে একটি জনসভায় এই প্রকল্পের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হবে।
দিল্লি–দেহরাদুন এক্সপ্রেসওয়ে একটি সড়ক প্রকল্পের পাশাপাশি একটি অর্থনৈতিক করিডোর হিসেবেও কাজ করবে। এটি দিল্লি, উত্তরপ্রদেশ এবং উত্তরাখণ্ডের মধ্যে পর্যটন ও বাণিজ্যিক কার্যকলাপকে আরও শক্তিশালী করবে।













