মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, Israel এবং Iran-এর মধ্যে বাড়তে থাকা উত্তেজনার মধ্যেই শুরু হয়েছিল ঝুঁকিপূর্ণ উদ্ধার অভিযান। সেই কঠিন পরিস্থিতিতে সাহসিকতার পরিচয় দিলেন ফরিদাবাদের ২৩ বছরের তরুণী পাইলট Deepika Adhana। সংযুক্ত আরব আমিরশাহি থেকে আটকে পড়া ১৬৯ জন ভারতীয়কে নিরাপদে ফিরিয়ে আনার দায়িত্ব নিয়ে সফলভাবে মিশন সম্পন্ন করেন তিনি।
ঝুঁকি জেনেও দায়িত্ব নিলেন তরুণী পাইলট
Deepika Adhana মূলত একটি নিয়মিত ফ্লাইট পরিচালনার জন্য প্রস্তুত ছিলেন। কিন্তু শেষ মুহূর্তে তাঁকে উদ্ধার অভিযানের দায়িত্ব দেওয়া হয়। ঝুঁকি থাকা সত্ত্বেও দ্বিধা না করে দায়িত্ব গ্রহণ করেন তিনি।এই দুঃসাহসিক অভিযানে তাঁর সঙ্গে ছিলেন ক্যাপ্টেন Jaswinder Kaur এবং চারজন মহিলা কেবিন ক্রু সদস্য। সম্পূর্ণ মহিলা ক্রু নিয়ে পরিচালিত এই উদ্ধার মিশন বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে।
আবেগঘন বিদায়ের মুহূর্ত
মিশনে যাওয়ার আগে পরিবারের সঙ্গে আবেগঘন মুহূর্ত ভাগ করে নিয়েছিলেন দীপিকা। সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে জানা যায়, তিনি মাকে বলেছিলেন—
“মা, বিদায়… আমি জানি না আমি ফিরে আসব কি না।”এই কথাতেই বোঝা যায় মিশনটির ঝুঁকি কতটা ছিল। তবে দায়িত্ববোধই তাঁকে সাহস জুগিয়েছিল।
রাস আল খাইমাহে উত্তেজনাপূর্ণ মুহূর্ত
উদ্ধারকারী বিমানটি সংযুক্ত আরব আমিরশাহির Ras Al Khaimah বিমানবন্দরে পৌঁছায় দুপুরের দিকে। প্রথমে পরিস্থিতি শান্ত থাকলেও উত্তেজনা ছিল তুঙ্গে।অবতরণের প্রায় এক ঘণ্টা পর ১৬৯ জন ভারতীয় যাত্রী বিমানে ওঠেন। এরপর দিল্লির উদ্দেশ্যে উড়ান শুরু হয়। তবে টেকঅফের সময় কয়েক মিনিটের জন্য এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোলের সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যাওয়ায় ক্রুদের মধ্যে কিছুটা উদ্বেগ তৈরি হয়েছিল।
শেষ পর্যন্ত নিরাপদ প্রত্যাবর্তন
কিছু সময়ের মধ্যেই যোগাযোগ পুনরুদ্ধার হয় এবং বিমানটি স্বাভাবিকভাবেই উড়তে থাকে। শেষ পর্যন্ত দিল্লির Indira Gandhi International Airport-এ নিরাপদে অবতরণ করে ফ্লাইটটি।এই খবর পেয়ে স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলেন পরিবারের সদস্যরা। দীপিকার মা Babli Adhana বলেন, মেয়ের সাহসিকতায় তিনি গর্বিত এবং যাত্রীদের নিরাপদে ফিরিয়ে আনার খবর শুনে তাঁর আনন্দের সীমা ছিল না।
পরিবারের স্বপ্নপূরণ তরুণীর
ফরিদাবাদের টিগাঁও এলাকার বাসিন্দা দীপিকার বাবা Yogesh Adhana পেশায় একজন আর্কিটেক্ট। মা গৃহবধূ এবং বড় ভাই মুম্বইয়ের ব্যাঙ্কিং সেক্টরে কর্মরত।দীপিকা জানান, পাইলট হওয়া আসলে তাঁর প্রয়াত দাদামশাই Amrit Singh Adhana-এর স্বপ্ন ছিল। সেই স্বপ্ন পূরণ করেই আজ তিনি বহু মানুষের জীবন বাঁচানোর কাজে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিয়েছেন।
আন্তর্জাতিক উত্তেজনার আবহে দুঃসাহসিক উদ্ধার অভিযানে নজির গড়লেন ২৩ বছরের তরুণী পাইলট Deepika Adhana। Air India Express-এর এই পাইলট সংযুক্ত আরব আমিরশাহি থেকে ১৬৯ জন ভারতীয়কে নিরাপদে দেশে ফিরিয়ে আনেন। সম্পূর্ণ মহিলা ক্রু নিয়ে পরিচালিত এই মিশন এখন দেশজুড়ে প্রশংসিত।









