দুপুরে ভাত খাওয়ার পর কাজ করতে বসেই চোখ জড়িয়ে আসে? কিংবা সারাদিনই ক্লান্তি আর ঘুম ঘুম ভাব লেগে থাকে? এমন অভিজ্ঞতা অনেকেরই হয়। বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই এটি স্বাভাবিক হলেও, কিছু ক্ষেত্রে শরীরের ভিতরে লুকিয়ে থাকা রোগের ইঙ্গিতও হতে পারে। তাই কোন পরিস্থিতিতে চিন্তার কারণ নেই আর কখন চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি, তা জানা গুরুত্বপূর্ণ।
কেন খাওয়ার পর ঘুম পায়?
চিকিৎসকদের মতে, খাবার খাওয়ার পর শরীরের পরিপাকতন্ত্র সক্রিয় হয়ে ওঠে। বিশেষ করে কার্বোহাইড্রেটসমৃদ্ধ খাবার খেলে ইনসুলিনের নিঃসরণ বাড়ে।
এর ফলে—
ট্রিপটোফ্যান সহজে মস্তিষ্কে প্রবেশ করতে পারে।
সেখান থেকে সেরোটোনিন ও মেলাটোনিন তৈরি হয়।
এই হরমোনগুলি শরীরকে শিথিল করে এবং ঘুম ঘুম ভাব তৈরি করতে পারে।
এই প্রক্রিয়াটি স্বাভাবিক এবং অধিকাংশ মানুষের ক্ষেত্রেই দেখা যায়।
কোন খাবার খেলে তন্দ্রাভাব বেশি হয়?
বিশেষজ্ঞদের মতে, কিছু ধরনের খাবার খাওয়ার পর ঘুম বেশি পেতে পারে।
যেমন—
অতিরিক্ত ভাত বা রুটি
তেল-চর্বিযুক্ত ভারী খাবার
অতিরিক্ত পরিমাণে একসঙ্গে খাওয়া খাবার
এছাড়া পর্যাপ্ত ঘুমের অভাব, অনিয়মিত জীবনযাপন এবং শরীরের স্বাভাবিক জৈবিক ঘড়ির (সার্কাডিয়ান রিদম) কারণেও এই তন্দ্রাভাব বাড়তে পারে।
কখন চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত?
বসিরহাট স্বাস্থ্য জেলার উপ-মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক ডা. শ্যামল কুমার বিশ্বাসের মতে, খাবারের পর সামান্য ঘুম ঘুম ভাব সাধারণত স্বাভাবিক।
তবে নিচের লক্ষণগুলি থাকলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত—
প্রতিদিন অতিরিক্ত ঘুম পায়।
সারাদিন ক্লান্ত লাগে।
কাজ বা পড়াশোনায় সমস্যা হয়।
পর্যাপ্ত ঘুমের পরও তন্দ্রাভাব কাটে না।
কোন কোন রোগের ইঙ্গিত হতে পারে?
চিকিৎসকদের মতে, দীর্ঘদিন ধরে অতিরিক্ত তন্দ্রাভাব থাকলে তা কখনও কখনও নিচের সমস্যাগুলির সঙ্গে যুক্ত থাকতে পারে—
ডায়াবেটিস
থাইরয়েডের সমস্যা
স্লিপ অ্যাপনিয়া
অন্যান্য বিপাকীয় বা শারীরিক অসুস্থতা
তাই সমস্যা দীর্ঘদিন থাকলে প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্য পরীক্ষা করিয়ে নেওয়া জরুরি।
ঘুম ঘুম ভাব কমানোর উপায়
বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ অনুযায়ী—
একবারে অতিরিক্ত খাবার খাবেন না।
সুষম ও পরিমিত খাদ্য গ্রহণ করুন।
পর্যাপ্ত জল পান করুন।
প্রতিদিন নিয়মিত শরীরচর্চা করুন।
খাবারের পর ১০–১৫ মিনিট হালকা হাঁটুন।
প্রতিদিন পর্যাপ্ত ও নিয়মিত ঘুম নিশ্চিত করুন।
খাবার খাওয়ার পর অনেকেরই চোখে ঘুম নেমে আসে। চিকিৎসাবিজ্ঞানে একে পোস্টপ্র্যান্ডিয়াল স্লিপিনেস (Postprandial Sleepiness) বলা হয় এবং অধিকাংশ ক্ষেত্রে এটি স্বাভাবিক শারীরবৃত্তীয় প্রতিক্রিয়া। তবে যদি প্রতিদিন অতিরিক্ত তন্দ্রাভাব হয় বা দৈনন্দিন কাজে বাধা সৃষ্টি করে, তাহলে তা ডায়াবেটিস, থাইরয়েড বা স্লিপ অ্যাপনিয়ার মতো সমস্যার লক্ষণও হতে পারে বলে জানাচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা।








