পাটনা জেলার বিহটা এলাকায় প্রাক্তন এক মুখিয়ার মরদেহ উদ্ধারের পর শুক্রবার ব্যাপক উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। ঘটনায় ক্ষুব্ধ পরিবারের সদস্য ও স্থানীয় বাসিন্দারা স্টেট হাইওয়ে অবরোধ করে এবং সড়কে আগুন জ্বালিয়ে বিক্ষোভ দেখান, যার ফলে কয়েক ঘণ্টা ধরে যান চলাচল সম্পূর্ণভাবে ব্যাহত হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে তিনটি পৃথক থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছায় এবং অতিরিক্ত পুলিশ বাহিনী মোতায়েন করা হয়।
ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়তেই বিপুল সংখ্যক গ্রামবাসী ও স্থানীয় মানুষ ঘটনাস্থলে জড়ো হন। পরিবারের সদস্যরা মরদেহ সড়কে রেখে বিক্ষোভ শুরু করেন এবং দায়ীদের গ্রেপ্তারের দাবি জানান। সড়ক অবরোধের কারণে উভয় দিকে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়। পুলিশ কর্মকর্তারা বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে আলোচনা করে পরিস্থিতি শান্ত করার চেষ্টা করেন, তবে প্রাথমিক পর্যায়ে বিক্ষোভকারীরা নিজেদের দাবিতে অনড় ছিলেন।
মৃত ব্যক্তির বোন পুলিশের বিরুদ্ধে হত্যার অভিযোগ এনেছেন। তাঁর দাবি, তাঁর ভাইয়ের মৃত্যু স্বাভাবিক ঘটনা নয় এবং পুরো ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত হওয়া উচিত। এই অভিযোগ পরিবারের পক্ষ থেকে করা হয়েছে এবং এর স্বাধীনভাবে নিশ্চিতকরণ হয়নি। পুলিশ জানিয়েছে, অভিযোগগুলিও তদন্তের আওতায় আনা হবে এবং উপলব্ধ প্রমাণের ভিত্তিতে পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, মৃত ব্যক্তি অস্ত্র আইন-সংক্রান্ত একটি মামলায় পলাতক ছিলেন। তবে পুলিশের বক্তব্য, এই তথ্য এবং মৃত্যুর মধ্যে কোনো সম্পর্ক রয়েছে কি না, সে বিষয়ে এখনও কোনো সিদ্ধান্তে পৌঁছানো হয়নি। তদন্তে সব সম্ভাব্য দিক অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে এবং প্রতিটি বিষয় খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
পুলিশ মরদেহ নিজেদের হেফাজতে নিয়ে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠিয়েছে। ফরেনসিক দল ঘটনাস্থল থেকে প্রয়োজনীয় আলামত সংগ্রহ করেছে। কর্মকর্তাদের মতে, ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন, ফরেনসিক পরীক্ষা, মোবাইল কল ডিটেল, প্রত্যক্ষদর্শীদের বয়ান এবং অন্যান্য প্রযুক্তিগত প্রমাণের ভিত্তিতে মৃত্যুর কারণ নির্ধারণ করা হবে।
বিক্ষোভ চলাকালে আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখতে পুলিশ বিক্ষোভস্থলের চারপাশে নিরাপত্তা বলয় গড়ে তোলে। প্রশাসনিক কর্মকর্তারা পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে আলোচনা করে নিরপেক্ষ তদন্তের আশ্বাস দেন। এর পর পরিস্থিতি ধীরে ধীরে স্বাভাবিক হতে শুরু করে এবং যান চলাচল পুনরায় চালুর প্রক্রিয়া শুরু হয়।
স্থানীয়দের দাবি, ঘটনাটি পুরো এলাকায় উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতির সৃষ্টি করেছে। প্রশাসন সবাইকে শান্ত থাকার এবং কোনো ধরনের গুজবে কান না দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে। কর্মকর্তারা বলেছেন, কারও কাছে এ-সংক্রান্ত কোনো তথ্য বা প্রমাণ থাকলে তা তদন্তকারী দলের কাছে জমা দিতে হবে।
পুলিশ কর্মকর্তাদের মতে, মামলার তদন্ত একাধিক দিক থেকে করা হচ্ছে। তদন্তে কোনো ব্যক্তির সম্পৃক্ততা সামনে এলে তাঁর বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। একই সঙ্গে পরিবারের পক্ষ থেকে আনা অভিযোগগুলিরও নিরপেক্ষ তদন্ত করা হবে।
বর্তমানে মামলাটি তদন্তাধীন। প্রাক্তন মুখিয়ার মৃত্যুর কারণ, পরিবারের পক্ষ থেকে আনা অভিযোগের সত্যতা এবং ঘটনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সব তথ্যের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন, পুলিশি তদন্ত এবং বিচারিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার পরই জানা যাবে।













