ফলের গাছ লাগানোর জন্য বিশাল বাগান বা অনেকটা জমি থাকা বাধ্যতামূলক নয়। বাড়ির ছাদ, বারান্দা কিংবা ছোট্ট উঠোনেও বড় টবে ফলের গাছ বেড়ে উঠতে পারে। অক্টোবর মাসে আবহাওয়ার পরিবর্তনের সঙ্গে তাল মিলিয়ে কয়েকটি ফলের গাছ টবে বসানো যেতে পারে। তবে গাছের ধরন অনুযায়ী রোদ, জল এবং মাটির ব্যবস্থা করতে হবে। সামান্য যত্নেই বাড়ির কোণ হয়ে উঠতে পারে ছোট্ট ফলের বাগান।
স্ট্রবেরি: ছোট টবেই শুরু করা যায়
অক্টোবর মাসে স্ট্রবেরি গাছ বসানোর কথা ভাবতে পারেন। বাড়ির এমন জায়গায় টব রাখুন যেখানে দিনের একটা বড় সময় পর্যাপ্ত সূর্যের আলো পৌঁছয়।স্ট্রবেরির জন্য মাটি হালকা ও ঝুরঝুরে হওয়া ভালো। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল জল নিষ্কাশনের ব্যবস্থা। টবে দীর্ঘক্ষণ জল জমে থাকলে শিকড়ের সমস্যা হতে পারে। তাই নীচে ছিদ্রযুক্ত টব ব্যবহার করুন।
পেয়ারা: বড় টবেই হবে ফলের গাছ
পেয়ারা শুধু জমিতেই নয়, উপযুক্ত আকারের বড় টবেও চাষ করা যায়। গাছটিকে এমন জায়গায় রাখুন যেখানে পর্যাপ্ত রোদ পাওয়া যায়।টবে যেন অতিরিক্ত জল জমে না থাকে, তা নিয়মিত খেয়াল করুন। গাছ কিছুটা বড় হওয়ার পর হালকা ছাঁটাই করলে বাড়তি ডালপালা নিয়ন্ত্রণ করা এবং গাছকে ঝাঁকড়া করে তোলা সহজ হতে পারে।
লেবু: বেশি জল নয়, রোদ চাই
বাড়ির টবে ফলানোর জন্য লেবু গাছ বেশ সুবিধাজনক। তবে টবটি এমন জায়গায় রাখতে হবে যেখানে পর্যাপ্ত সূর্যের আলো আসে।লেবু গাছে জল দেওয়ার আগে মাটির আর্দ্রতা দেখে নিন। মাটি যদি এখনও ভেজা থাকে, তাহলে নতুন করে জল দেওয়ার প্রয়োজন নেই। অতিরিক্ত জল এড়িয়ে চলাই ভালো। টবের নীচে অবশ্যই জল বেরিয়ে যাওয়ার ছিদ্র থাকা দরকার।
ডালিম: ছাদ বা বারান্দাতেও সম্ভব
ডালিম গাছের জন্যও বিশাল জমির প্রয়োজন নেই। বড় টব ব্যবহার করে ছাদ, বারান্দা কিংবা উঠোনে গাছটি রাখা যায়।ডালিম গাছ পর্যাপ্ত সূর্যের আলো পেলে ভালোভাবে বেড়ে উঠতে পারে। তবে জল দেওয়ার ক্ষেত্রে সতর্ক থাকতে হবে। মাটি যদি আগে থেকেই বেশি ভেজা থাকে, তখন জল দিলে শিকড়ে সমস্যা তৈরি হতে পারে।
পেঁপে: উষ্ণ আবহাওয়ায় দ্রুত বাড়ে
পেঁপে গাছ তুলনামূলক দ্রুত বেড়ে উঠতে পারে। তবে আপনার এলাকার তাপমাত্রা ও শীতের প্রকৃতি বিবেচনা করে গাছ লাগানো উচিত।পেঁপের জন্য পর্যাপ্ত রোদ প্রয়োজন। এমন মাটি বেছে নিতে হবে যেখানে জল সহজে বেরিয়ে যেতে পারে এবং দীর্ঘক্ষণ জল জমে থাকে না। খুব ঠান্ডা অঞ্চলে অক্টোবরের পর পেঁপে গাছের যত্নে বাড়তি নজর দিতে হবে।
গাছ বসানোর আগে ৩টি বিষয় অবশ্যই মনে রাখুন
টবের মাপ ঠিক করুন
প্রতিটি ফলের গাছের শিকড়ের বিস্তার একরকম নয়। তাই গাছের আকার ও ধরন অনুযায়ী টব বেছে নিন। খুব ছোট টবে বড় ফলের গাছ বসালে গাছের বৃদ্ধিতে সমস্যা হতে পারে।
ড্রেনেজের ব্যবস্থা রাখুন
টবের নীচে জল বের হওয়ার ছিদ্র থাকা অত্যন্ত জরুরি। জল বেরোতে না পারলে মাটিতে অতিরিক্ত আর্দ্রতা জমে শিকড় ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।
শুরুতেই অতিরিক্ত জল বা সার নয়
নতুন গাছ টবে বসানোর পরেই বেশি জল বা অতিরিক্ত সার দেওয়ার প্রয়োজন নেই। মাটির অবস্থা দেখে জল দিন এবং গাছের বৃদ্ধির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে সার প্রয়োগ করুন।নার্সারি থেকে গাছ কেনার সময় কী দেখবেন?
নার্সারি থেকে চারা কেনার সময় শুধু গাছের আকার দেখে সিদ্ধান্ত নেবেন না। পাতায় দাগ, পোকামাকড়ের আক্রমণ বা কাণ্ডে ক্ষতির চিহ্ন রয়েছে কি না দেখে নিন। সুস্থ পাতা ও শক্ত কাণ্ডযুক্ত চারা বেছে নেওয়া ভালো।আর গাছ কেনার আগে নিজের এলাকার আবহাওয়াও বিবেচনায় রাখুন। বিশেষ করে পেঁপের মতো উষ্ণতা-পছন্দ করা গাছের ক্ষেত্রে স্থানীয় তাপমাত্রা গুরুত্বপূর্ণ।
বাড়িতে বড় বাগান না থাকলেও বারান্দা, ছাদ কিংবা উঠোনে টবের মধ্যেই তৈরি করা যায় ছোট্ট ফলের বাগান। অক্টোবরে আবহাওয়া কিছুটা আরামদায়ক হওয়ায় স্ট্রবেরি, পেয়ারা, লেবু, ডালিম ও পেঁপের মতো গাছ টবে বসানোর কথা ভাবতে পারেন। তবে ফলন ভালো পেতে রোদ, মাটি, জল নিষ্কাশন এবং টবের মাপের দিকে নজর দেওয়া জরুরি।













