হোটেলের পুরোনো সাদা তোয়ালে কোথায় যায়? ফেলে দেওয়া হয় না, জানলে অবাক হবেন কী কাজে লাগে!

হোটেলের পুরোনো সাদা তোয়ালে কি ফেলে দেওয়া হয়? জানুন ধুলো মোছা, মেরামতি, দান থেকে শুরু করে টেক্সটাইল রিসাইক্লিং—কীভাবে ফের কাজে লাগে পুরোনো তোয়ালে।

হোটেলে উঠলেই বাথরুমে চোখে পড়ে ধবধবে সাদা তোয়ালে। কিন্তু প্রতিদিনের ব্যবহার এবং বারবার ধোয়ার ফলে একটা সময় সেই তোয়ালের আগের জেল্লা আর থাকে না। তখন কি সেগুলি সোজা ডাস্টবিনে চলে যায়? একেবারেই নয়। পুরোনো হোটেলের তোয়ালে অনেক ক্ষেত্রেই অন্য কাজে ব্যবহার করা হয়, এমনকী রিসাইকেল করেও নতুন ধরনের সামগ্রী তৈরিতে কাজে লাগানো হয়।

হোটেলে তোয়ালে সাধারণত সাদা হয় কেন?

হোটেলে সাদা তোয়ালে ব্যবহারের অন্যতম কারণ হল পরিচ্ছন্নতার বিষয়টি সহজে বোঝানো। সাদা কাপড়ে ময়লা বা দাগ দ্রুত চোখে পড়ে। ফলে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার ক্ষেত্রে নজর রাখা সহজ হয়। পাশাপাশি সাদা রংকে পরিচ্ছন্নতা ও সতেজতার সঙ্গে যুক্ত করা হয়, যা অতিথিদের কাছেও ইতিবাচক অনুভূতি তৈরি করতে পারে।

পুরোনো তোয়ালে দিয়ে ধুলো মোছার কাজ

তোয়ালেতে দাগ পড়লেও অনেক সময় তার কাপড়ের মান ভালো থাকে। অতিথিদের ব্যবহারের জন্য উপযুক্ত না হলেও এমন তোয়ালে ফেলে না দিয়ে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার কাজে ব্যবহার করা যায়। ধুলো মোছা, বিভিন্ন জায়গা পরিষ্কার করা কিংবা ডাস্টারের বিকল্প হিসেবেও পুরোনো তোয়ালে কাজে লাগতে পারে।

হোটেলে রং বা মেরামতির সময়ও লাগে কাজে

হোটেলে ঘর সাজানো, রং করা বা মেরামতির কাজ চললে আসবাবপত্র ও মেঝে রক্ষা করা জরুরি। এই সময় পুরোনো তোয়ালে দিয়ে আসবাব বা মেঝে ঢেকে রাখা যায়। ফলে রং, ধুলো বা অন্য কোনও উপকরণ সরাসরি আসবাবপত্র কিংবা মেঝেতে লাগার সম্ভাবনা কমে।

কম দামে বিক্রি বা দানও করা হয়

কিছু ক্ষেত্রে বাতিল হয়ে যাওয়া হোটেলের তোয়ালে স্থানীয়ভাবে কম দামে বিক্রি করা হতে পারে। আবার কোনও কোনও হোটেল পুরোনো তোয়ালে এমন সংস্থা বা প্রতিষ্ঠানে দান করে, যেখানে সেগুলি অন্য কাজে ব্যবহার করা সম্ভব।বিশেষ করে পশুদের আশ্রয়কেন্দ্রেও পুরোনো তোয়ালে কাজে লাগতে পারে। পশুদের জন্য বিছানা, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা বা অন্যান্য প্রয়োজনীয় কাজে এগুলি ব্যবহার করা সম্ভব।

একেবারে পুরোনো হলে যায় রিসাইক্লিং ইউনিটে

তোয়ালে এতটাই পুরোনো হয়ে গেলে যে সেটিকে আর সাধারণ কাজে ব্যবহার করা সম্ভব নয়, তখন সেটি টেক্সটাইল রিসাইক্লিংয়ের জন্য পাঠানো হতে পারে। রিসাইক্লিংয়ের আগে তোয়ালের বিভিন্ন অংশ, যেমন বর্ডার, ট্যাগ বা অন্য উপকরণ আলাদা করা হয়। এরপর কাপড়ের তন্তু প্রক্রিয়াজাত করা হয়।তন্তুর মান অনুযায়ী তার পরবর্তী ব্যবহার ঠিক করা হয়। তুলনামূলক ভালো মানের ফাইবার অন্য তন্তুর সঙ্গে মিশিয়ে সুতো তৈরিতে ব্যবহার করা যেতে পারে। সেই সুতো দিয়ে ঘর মোছার কাপড়, প্যাডিং কিংবা বিভিন্ন শিল্পক্ষেত্রে ব্যবহৃত টেক্সটাইল সামগ্রী তৈরি হতে পারে।

পুরোনো তোয়ালে থেকে কি আবার নতুন তোয়ালে তৈরি হয়?

পুরোনো তোয়ালে রিসাইকেল করা হলেই সেটি থেকে আবার নতুন তোয়ালে তৈরি হবে—এমনটা নয়। রিসাইক্লিংয়ের পর পাওয়া তন্তুর গুণমান ও ধরন অনুযায়ী তার ব্যবহার নির্ধারিত হয়। অনেক ক্ষেত্রেই সেই তন্তু দিয়ে অন্য ধরনের ঘরোয়া বা শিল্পসামগ্রী তৈরি করা হয়।

হোটেলের ঘরে বা বাথরুমে থাকা ঝকঝকে সাদা তোয়ালে নিয়মিত ব্যবহারের কারণে কিছুদিন পর পুরোনো হয়ে যায়। অতিথিদের ব্যবহারের জন্য সেগুলি সরিয়ে নেওয়া হলেও অধিকাংশ ক্ষেত্রে সরাসরি ফেলে দেওয়া হয় না। ধুলো মোছা থেকে শুরু করে মেরামতির কাজে ব্যবহার, দান কিংবা টেক্সটাইল রিসাইক্লিং—বিভিন্ন উপায়ে পুরোনো তোয়ালের ফের ব্যবহার করা হতে পারে।

Leave a comment