গঙ্গাসাগরে যেন থামছেই না মানুষের ঢল। মকর সংক্রান্তির পর ফের মাঘী পূর্ণিমায় জনপ্লাবনের সাক্ষী রইল সাগরদ্বীপ। ভোর থেকে গভীর রাত—একটানা মুড়িগঙ্গা পার হয়ে পুণ্যার্থীদের আগমনে ব্যস্ত ছিল ঘাট থেকে সৈকত পর্যন্ত পুরো এলাকা।
২০ লক্ষ পুণ্যস্নান, অঙ্কটাই ইতিহাসের ইঙ্গিত
গঙ্গাসাগর–বকখালি ডেভেলপমেন্ট অথরিটি (GBDA) সূত্রে জানানো হয়েছে, এবছর গঙ্গাসাগর মেলা থেকে মাঘী পূর্ণিমার স্নান মিলিয়ে প্রায় ২০ লক্ষ পুণ্যার্থী পুণ্যস্নান সেরেছেন। কর্তৃপক্ষের দাবি, সাম্প্রতিক বছরের তুলনায় এই সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি।
কুম্ভ মেলা না থাকায় গঙ্গাসাগরেই ভরসা পুণ্যার্থীদের
এই বছর কুম্ভ মেলা না থাকায় তার সরাসরি প্রভাব পড়েছে গঙ্গাসাগর ও মাঘ মেলায়। দেশ-বিদেশের বহু পুণ্যার্থী কুম্ভের বিকল্প হিসেবে গঙ্গাসাগরকেই বেছে নেন। ফলে মেলা শেষ হওয়ার পরও মাঘী পূর্ণিমা পর্যন্ত প্রতিদিনই ভিড় বাড়তে থাকে।
মুড়িগঙ্গা পারাপারে রাতভর ভেসেল ও বার্জ পরিষেবা
মাঘী পূর্ণিমার দিন সাগর সৈকতে ভিড় এতটাই বেড়ে যায় যে, পুণ্যার্থীদের পারাপারের জন্য প্রায় সারা রাত ভেসেল চালাতে হয়। চাপ সামলাতে এলসিটি ঘাট থেকে বার্জের মাধ্যমেও পারাপারের ব্যবস্থা করা হয়। প্রশাসনের তৎপরতায় বড় কোনও বিশৃঙ্খলার খবর মেলেনি।
থাকা-খাওয়ার ব্যবস্থায় প্রশাসনের স্বস্তি
প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, যাতায়াত, থাকা বা খাবার—কোনও ক্ষেত্রেই বড় সমস্যা হয়নি। বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা ও ধর্মীয় সংগঠনের উদ্যোগে পুণ্যার্থীদের জন্য বিনামূল্যে খাবারের ব্যবস্থাও ছিল। এখনও বহু পুণ্যার্থী পুণ্যস্নানের উদ্দেশ্যে গঙ্গাসাগরে আসছেন।
মাঘ মেলার পরিসমাপ্তি, ফের এক বছরের অপেক্ষা
সরকারিভাবে মাঘ মেলার পর্বও শেষ হয়েছে। ধীরে ধীরে খুলে নেওয়া হবে অস্থায়ী পরিকাঠামো। আবার ফাঁকা হয়ে যাবে সাগর সৈকত। এবারের মতো গঙ্গাসাগরের উৎসব শেষ হলেও, আগামী বছরের অপেক্ষা শুরু হয়ে গেল পুণ্যার্থীদের মনে।
মকর সংক্রান্তির গঙ্গাসাগর মেলার রেশ কাটতে না কাটতেই মাঘী পূর্ণিমায় ফের বিপুল ভিড়। এবছর কুম্ভ মেলা না থাকায় গঙ্গাসাগর ও মাঘ মেলায় পুণ্যার্থীর সংখ্যা নজিরবিহীনভাবে বেড়েছে। সরকারি হিসেবে, প্রায় ২০ লক্ষ পুণ্যার্থী গঙ্গাসাগরে পুণ্যস্নান করেছেন।










