সোনার বাজারে কি আসছে বড় পরিবর্তন? ট্রাম্প প্রশাসনের শুল্ক কমানোর সিদ্ধান্তে স্বস্তি পেয়েছে ভারতীয় রত্ন ও অলঙ্কার শিল্প। তবে এই সিদ্ধান্ত সোনার দামের জন্য আশীর্বাদ, না কি অস্থায়ী ধাক্কা—তা নিয়েই শুরু হয়েছে জোর জল্পনা।
ভারত–আমেরিকা বাণিজ্য আলোচনার প্রভাব সোনার বাজারে
সম্প্রতি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির মধ্যে বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে আলোচনা হয়। তার পরেই ভারতীয় পণ্যের উপর আমেরিকার শুল্ক বড়সড়ভাবে কমানো হয়েছে। এই সিদ্ধান্তে রত্ন ও অলঙ্কার শিল্পে নতুন আশা তৈরি হয়েছে।
৫০% থেকে ১৮%—শুল্ক হ্রাসে স্বস্তি রফতানিকারকদের
ট্রাম্প প্রশাসন ভারতীয় রত্ন ও গয়না রফতানির উপর শুল্ক ৫০ শতাংশ থেকে কমিয়ে ১৮ শতাংশে নামিয়েছে। আমেরিকা ভারতের সবচেয়ে বড় রফতানি বাজার হওয়ায় এই সিদ্ধান্তকে শিল্পমহল ঐতিহাসিক স্বস্তি হিসেবে দেখছে।
রফতানিতে ধাক্কা, ফিরবে কি পুরনো গতি?
পরিসংখ্যান বলছে, ২০২৫ সালের এপ্রিল থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত আমেরিকায় ভারতীয় রত্ন ও অলঙ্কার রফতানি প্রায় ৪৪ শতাংশ কমে যায়। শুল্ক বৃদ্ধির জেরে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল ছোট রফতানিকারকরা। শুল্ক হ্রাসে সেই ক্ষতি কিছুটা হলেও পুষিয়ে নেওয়ার আশা জেগেছে।
সোনার দামে কী প্রভাব পড়তে পারে?
বিশেষজ্ঞদের মতে, শুল্ক হ্রাসে যদি রফতানি ও বাণিজ্যে স্থিতিশীলতা ফেরে, তবে নিরাপদ বিনিয়োগ হিসেবে সোনার চাহিদা কিছুটা কমতে পারে। সেক্ষেত্রে সোনার দাম সামান্য নামার সম্ভাবনা রয়েছে।
তবে অন্যদিকে, বিশ্ববাজারে বাণিজ্যনীতি নিয়ে অনিশ্চয়তা ও ভূ-রাজনৈতিক টানাপোড়েন থাকলে সোনা আবারও ঊর্ধ্বমুখী হতে পারে।
গয়না কেনায় ফিরতে পারেন ক্রেতারা
সোনার দাম বেশি থাকায় যাঁরা গয়না কেনা পিছিয়ে দিয়েছিলেন, দাম কিছুটা কমলে তাঁরাই বাজারে ফিরতে পারেন। এতে অভ্যন্তরীণ চাহিদা বাড়বে এবং রত্ন ও অলঙ্কার শিল্পে নতুন করে গতি আসবে বলে মনে করা হচ্ছে।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের শুল্ক হ্রাসের সিদ্ধান্তে নতুন করে আলোচনায় সোনার বাজার। ভারত–আমেরিকা বাণিজ্য সম্পর্কের উন্নতির ইঙ্গিত মিললেও, বিশ্ববাজারের অনিশ্চয়তা সোনার দামে দ্বিমুখী প্রভাব ফেলতে পারে বলে মত বিশেষজ্ঞদের।













