স্তন ক্যানসার কি শুধু বয়সকালের রোগ? সাম্প্রতিক পরিসংখ্যান বলছে, এই ধারণা ভেঙে যাচ্ছে দ্রুত। ৪০-এর আগেই বহু মহিলা স্তন ক্যানসারে আক্রান্ত হচ্ছেন, যার মূল কারণ হিসেবে উঠে আসছে জীবনযাপন, পরিবেশ ও সচেতনতার অভাব। বিশেষজ্ঞরা বলছেন—শরীরের ছোট পরিবর্তনকেও অবহেলা করলে পরিণতি হতে পারে মারাত্মক।
বয়সের গণ্ডি ভেঙে বাড়ছে স্তন ক্যানসারের ঝুঁকি
গাজিয়াবাদের মণিপাল হাসপাতালের সার্জিক্যাল অনকোলজির পরামর্শদাতা ডা. কুন্দনের মতে, স্তন ক্যানসার এখন বিশ্বজুড়ে মহিলাদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি শনাক্ত হওয়া ক্যানসার। উদ্বেগের বিষয় হল, ৪০ বছরের কম বয়সি মহিলাদের মধ্যেও রোগটির প্রকোপ ধারাবাহিকভাবে বাড়ছে।তিনি জানান, শুধুমাত্র বংশগত কারণ নয়—জীবনধারা, হরমোনজনিত পরিবর্তন ও পরিবেশগত প্রভাবও এই বৃদ্ধির জন্য দায়ী।
প্রাথমিক পর্যায়ে ধরা পড়লে বাঁচার সম্ভাবনা অনেক বেশি
চিকিৎসকদের মতে, স্তন ক্যানসারের ক্ষেত্রে সময়ই সবচেয়ে বড় ফ্যাক্টর। যত দ্রুত রোগ শনাক্ত করা যায়, তত ভালো চিকিৎসার ফল পাওয়া সম্ভব।
২৫ বছর বয়স থেকেই মাসে একবার নিজে নিজে স্তন পরীক্ষা (Breast Self-Examination) এবং ৪০-এর পর নিয়মিত ম্যামোগ্রাফি করানো অত্যন্ত জরুরি।
এই লক্ষণগুলি দেখলেই দেরি না করে চিকিৎসকের কাছে যান
স্তনে বা বগলে পিণ্ড বা ফোলাভাব
ব্যথাহীন হলেও কোনও অস্বাভাবিক পিণ্ড অবহেলা করা বিপজ্জনক হতে পারে।
স্তনের আকার বা আকৃতির হঠাৎ পরিবর্তন
একপাশের স্তন হঠাৎ বড় বা ছোট হয়ে যাওয়া সতর্কতার সঙ্কেত।
ঋতুচক্রের সঙ্গে সম্পর্কহীন দীর্ঘস্থায়ী ব্যথা
মাসিকের সময়ের বাইরেও যদি ব্যথা থাকে, পরীক্ষা জরুরি।
স্তনের বোঁটা থেকে অস্বাভাবিক নিঃসরণ
বিশেষ করে রক্তমিশ্রিত তরল বের হলে সঙ্গে সঙ্গে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।
ত্বকের পরিবর্তন
স্তনের ত্বকে টোল পড়া, লালচে ভাব, আঁশ ওঠা বা কমলার খোসার মতো চেহারা ক্যানসারের লক্ষণ হতে পারে।
কেন অল্পবয়সিরা লক্ষণ উপেক্ষা করেন?
ডা. কুন্দনের কথায়, বহু তরুণীই মনে করেন স্তন ক্যানসার বয়স্কদের রোগ। এই ভুল ধারণার কারণেই প্রাথমিক লক্ষণগুলো উপেক্ষিত হয় এবং রোগ ধরা পড়ে দেরিতে।
ঝুঁকি কমাতে কী করবেন?
সব ক্ষেত্রে স্তন ক্যানসার প্রতিরোধ করা সম্ভব না হলেও, কিছু অভ্যাস ঝুঁকি অনেকটাই কমাতে পারে—
স্বাস্থ্যকর ওজন বজায় রাখা
নিয়মিত শরীরচর্চা
অ্যালকোহল সেবন সীমিত করা
সুষম খাদ্যাভ্যাস মেনে চলা
হরমোন বিঘ্নকারী রাসায়নিকের সংস্পর্শ যতটা সম্ভব এড়ানো
চিকিৎসা ও আধুনিক থেরাপির সুবিধা
রোগের পর্যায় অনুযায়ী বর্তমানে লাম্পেক্টমি, মাস্টেক্টমি, কেমোথেরাপি, রেডিয়েশন ও টার্গেটেড থেরাপির সমন্বয়ে চিকিৎসা করা হয়। আধুনিক অস্ত্রোপচার পদ্ধতিতে এখন জীবনযাত্রার মান বজায় রাখার দিকেও বিশেষ নজর দেওয়া হচ্ছে।
এক সময় স্তন ক্যানসারকে বয়সজনিত রোগ মনে করা হলেও এখন ৪০-এর কম বয়সি মহিলাদের মধ্যেও এই রোগের হার উদ্বেগজনকভাবে বাড়ছে। প্রাথমিক লক্ষণ উপেক্ষা করলে দেরিতে রোগ ধরা পড়ার আশঙ্কা বেড়ে যায়—বলছেন বিশেষজ্ঞরা।













