Gold Price Prediction: সোনার বাজারে ফের বড়সড় আলোচনার বিষয় হয়ে উঠেছে ভবিষ্যতের দাম। ২০২৬ সালে কখনও রেকর্ড উচ্চতা, আবার কখনও বড় পতন—দুই ছবিই দেখা গিয়েছে হলুদ ধাতুর বাজারে। তবে বছরের শেষদিকে ফের দাম ঊর্ধ্বমুখী হওয়ার সম্ভাবনা দেখছে Goldman Sachs। তাদের হিসাব অনুযায়ী, বছরের শেষে আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতি ট্রয় আউন্স সোনার দাম ৪,৯০০ ডলারে পৌঁছতে পারে। বর্তমান প্রায় ৪,৫৫০ ডলারের তুলনায় যা প্রায় ৮ শতাংশ বেশি।
বছরের শেষে ভারতের বাজারে কত হতে পারে দাম?
আন্তর্জাতিক বাজারে প্রায় ৮ শতাংশ দাম বাড়লে তার প্রভাব ভারতীয় বাজারেও পড়তে পারে। বর্তমানে দেশে ১০ গ্রাম সোনার দাম প্রায় ১.৫৬ লক্ষ টাকা ধরে হিসাব করলে, তা বেড়ে আনুমানিক ১.৬৯ লক্ষ টাকা পর্যন্ত পৌঁছতে পারে।তবে এটি কোনও নিশ্চিত দাম নয়। ভারতে সোনার খুচরো মূল্য নির্ধারণে আন্তর্জাতিক বাজারের পাশাপাশি ডলারের তুলনায় টাকার দর, আমদানি শুল্ক, কর এবং দেশীয় বাজারের চাহিদা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেয়। ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে নির্দিষ্ট হারে দাম বাড়লেও ভারতের বাজারে একই হারে পরিবর্তন নাও হতে পারে।
কেন সোনার দামে ফের জোর আসতে পারে?
Goldman Sachs-এর মতে, কেন্দ্রীয় ব্যাঙ্কগুলির সোনা কেনার প্রবণতা এখনও বাজারের জন্য বড় সহায়ক শক্তি। বিভিন্ন দেশের কেন্দ্রীয় ব্যাঙ্ক নিজেদের বৈদেশিক মুদ্রার ভাণ্ডারে সোনার পরিমাণ বাড়াচ্ছে।সংস্থাটির গবেষণা অনুযায়ী, ২০২৬ সালে কেন্দ্রীয় ব্যাঙ্কগুলির মাসিক গড় সোনা কেনার পরিমাণ প্রায় ৫০ টন হতে পারে। তুলনায় ২০২২ সালের আগে এই গড় ছিল মাত্র ১৭ টন।২০২৬ সালের জুন মাসে কেন্দ্রীয় ব্যাঙ্কগুলির সোনা কেনার গতি আরও বেড়েছে বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। তিন মাসের মরশুমি সমন্বিত হিসাবে এই ক্রয়ের হার মাসে প্রায় ১০০ টনে পৌঁছেছিল, যেখানে আগে তা ছিল প্রায় ৬৬ টন। জুনে চিনের কেন্দ্রীয় ব্যাঙ্ক অন্যতম বড় শনাক্তযোগ্য ক্রেতা ছিল।
২০২৬ সালে কখনও রেকর্ড, কখনও বড় পতন
চলতি বছর সোনার বাজারে অস্থিরতা ছিল চোখে পড়ার মতো। ২৯ জানুয়ারি আন্তর্জাতিক বাজারে সোনার দাম প্রতি ট্রয় আউন্সে প্রায় ৫,৬০০ ডলারের রেকর্ড স্তরে পৌঁছেছিল।এরপর বাজারে বড়সড় সংশোধন দেখা যায়। জুলাইয়ের মাঝামাঝি সময়ে দাম ৪,০০০ ডলারের নিচেও নেমে যায়। তবে সেই নিম্নস্তর থেকে ফের সোনার দাম প্রায় ১৫ শতাংশ ঘুরে দাঁড়িয়েছে।এই ওঠানামার মধ্যেও Goldman Sachs মনে করছে, ২০২৬ সালের বাকি সময়েও সোনার বাজারে ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা বজায় থাকার সুযোগ রয়েছে।
সুদের হারের উপরও নজর বাজারের
সোনার দামের গতিপথ নির্ধারণে মার্কিন সুদের হার অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সাধারণত সুদের হার বাড়ার সম্ভাবনা তৈরি হলে সোনার মতো সুদবিহীন সম্পদের উপর চাপ পড়তে পারে। আবার সুদের হার কমার সম্ভাবনা তৈরি হলে সোনায় বিনিয়োগের আকর্ষণ বাড়তে পারে।Goldman Sachs-এর প্রত্যাশা, আগামী দিনে মার্কিন ফেডের নীতিকে ঘিরে চাপ কিছুটা কমতে পারে। মূল্যস্ফীতির পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে থাকলে সুদের হার স্থিতিশীল রাখার সম্ভাবনাও সোনার বাজারে ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে বলে মনে করছে সংস্থাটি।
তাহলে কি এখনই সোনা কিনবেন?
Goldman Sachs-এর পূর্বাভাস থেকে সোনার দাম বাড়ার সম্ভাবনার ইঙ্গিত মিললেও এটিকে নিশ্চিত ভবিষ্যদ্বাণী হিসেবে দেখা উচিত নয়। আন্তর্জাতিক অর্থনীতি, মার্কিন সুদের হার, ডলারের মূল্য, ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতি এবং কেন্দ্রীয় ব্যাঙ্কগুলির কেনাকাটা—সবকিছুর উপরই সোনার দাম বদলাতে পারে।তাই শুধু কোনও একটি পূর্বাভাসের উপর নির্ভর করে বিনিয়োগের সিদ্ধান্ত নেওয়া ঠিক নয়। বিনিয়োগের আগে নিজের আর্থিক পরিস্থিতি বুঝে যোগ্য ও সার্টিফায়েড আর্থিক বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।
২০২৬ সালে আন্তর্জাতিক বাজারে সোনার দামে ব্যাপক ওঠানামা দেখা গিয়েছে। বছরের শেষদিকে ফের দাম বাড়ার সম্ভাবনা দেখছে Goldman Sachs। তাদের পূর্বাভাস অনুযায়ী, ২০২৬ সালের শেষে আন্তর্জাতিক বাজারে সোনার দাম প্রতি ট্রয় আউন্সে ৪,৯০০ ডলারে পৌঁছতে পারে। সেই হিসাব মিললে ভারতের বাজারেও ১০ গ্রাম সোনার দাম প্রায় ১.৬৯ লক্ষ টাকার কাছাকাছি যেতে পারে। তবে চূড়ান্ত দাম নির্ভর করবে আন্তর্জাতিক বাজার, ডলারের দর, আমদানি শুল্ক ও করের মতো একাধিক বিষয়ের উপর।













