RD Burman-Kumar Sanu: কিছু গান সময়ের সঙ্গে পুরনো হয় না, বরং প্রজন্মের পর প্রজন্ম নতুন করে জনপ্রিয় হয়ে ওঠে। ‘এক লড়কি কো দেখা’ তেমনই এক গান। আর ডি বর্মণের সুর, জাভেদ আখতারের লেখা এবং কুমার সানুর মায়াময় কণ্ঠ—এই তিনের অসাধারণ মেলবন্ধনে তৈরি হয়েছিল নব্বইয়ের দশকের অন্যতম কালজয়ী রোম্যান্টিক গান।
পঞ্চমের শেষদিকের সুর, আজও অমর
১৯৯৪ সালে মুক্তি পাওয়া ‘১৯৪২: আ লাভ স্টোরি’ ছিল আর ডি বর্মণের জীবনের শেষদিকের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কাজ। ছবিটি তাঁর মৃত্যুর পর মুক্তি পায়। ফলে এই সিনেমার সঙ্গীত তাঁর কর্মজীবনের শেষ অধ্যায়ের স্মরণীয় নিদর্শন হয়ে রয়েছে।সিনেমার গানগুলির মধ্যে বিশেষভাবে নজর কেড়েছিল ‘এক লড়কি কো দেখা’। প্রেমের অনুভূতিকে একেবারে আলাদা ভঙ্গিতে তুলে ধরেছিল গানটি। কুমার সানুর কণ্ঠে সেই সুর আরও আবেগঘন হয়ে ওঠে।
জাভেদ আখতার, কুমার সানু আর পঞ্চমের জাদু
একটি গানের সাফল্যের পিছনে শুধু সুরকার বা গায়ক নন, গীতিকারের ভূমিকাও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ‘এক লড়কি কো দেখা’-য় সেই তিনটি শক্তি একসঙ্গে কাজ করেছিল।জাভেদ আখতারের শব্দচয়ন, আর ডি বর্মণের সুরের আবহ এবং কুমার সানুর মোলায়েম কণ্ঠ গানটিকে এমন একটি আবেগ দিয়েছে, যা কয়েক দশক পরেও শ্রোতাদের কাছে সমান আকর্ষণীয়।নব্বইয়ের দশকে প্রেমের গান মানেই যে শুধু সরল প্রেমের প্রকাশ নয়, কল্পনা ও উপমার মাধ্যমেও ভালোবাসার অনুভূতি তুলে ধরা যায়—এই গান তার অন্যতম সুন্দর উদাহরণ।
ছবি হিট না হলেও গান হয়ে যায় সুপারহিট
‘১৯৪২: আ লাভ স্টোরি’ পরিচালনা করেছিলেন বিধু বিনোদ চোপড়া। ভারতের স্বাধীনতা সংগ্রামের পটভূমিতে তৈরি ছবিটিতে দেশপ্রেমের পাশাপাশি প্রেমের গল্পও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিয়েছিল।অনিল কাপুর অভিনয় করেছিলেন নরেন সিংয়ের চরিত্রে। অন্যদিকে মনীষা কৈরালা ছিলেন রাজ্জোর ভূমিকায়। জ্যাকি শ্রফ, অনুপম খের, ড্যানি ডেনজংপা এবং প্রাণও ছবির গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রে অভিনয় করেছিলেন।তবে সিনেমার গল্প দর্শকদের প্রত্যাশামতো সাড়া ফেলতে পারেনি। ফলে বক্স অফিসে ছবিটি বড় সাফল্য অর্জন করতে পারেনি। একটি প্রতিবেদনে ছবিটির বিশ্বব্যাপী আয় প্রায় ১১.৬৯ কোটি টাকা বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
সঙ্গীত অ্যালবাম ভেঙেছিল জনপ্রিয়তার রেকর্ড
ছবির ব্যবসায়িক ফল আশানুরূপ না হলেও এর মিউজিক অ্যালবাম সম্পূর্ণ অন্য ছবি দেখায়। সিনেমার গানগুলি শ্রোতাদের মধ্যে বিপুল জনপ্রিয়তা অর্জন করে এবং অ্যালবামটি বিক্রির ক্ষেত্রেও উল্লেখযোগ্য সাফল্য পায়।‘এক লড়কি কো দেখা’ ছাড়াও ছবির অন্যান্য গানও দীর্ঘদিন শ্রোতাদের প্লেলিস্টে জায়গা ধরে রাখে। ফলে সিনেমার বক্স অফিস ব্যর্থতা সত্ত্বেও এর সঙ্গীত আলাদা করে ইতিহাস তৈরি করে।
তিন দশক পরেও কেন এত জনপ্রিয়?
১৯৯৪ সালে মুক্তির পর তিন দশকেরও বেশি সময় পেরিয়ে গিয়েছে। কিন্তু ‘এক লড়কি কো দেখা’ এখনও প্রেমের গান হিসেবে সমান জনপ্রিয়।এর অন্যতম কারণ গানটির সুরের সরলতা, কুমার সানুর কণ্ঠের আবেগ এবং জাভেদ আখতারের কাব্যিক লেখা। সময় বদলেছে, গানের ধরন বদলেছে, কিন্তু ভালোবাসার অনুভূতি বদলায়নি। আর সেই কারণেই নতুন প্রজন্মের কাছেও গানটি বারবার ফিরে আসে।
আর ডি বর্মণের সুরে তৈরি ‘এক লড়কি কো দেখা’ আজও নব্বইয়ের দশকের অন্যতম জনপ্রিয় প্রেমের গান। ১৯৯৪ সালের ‘১৯৪২: আ লাভ স্টোরি’ ছবির এই গানটি গেয়েছিলেন কুমার সানু। ছবিটি বক্স অফিসে প্রত্যাশিত সাফল্য না পেলেও এর গান শ্রোতাদের মনে স্থায়ী জায়গা করে নেয়। পঞ্চমের জীবনের শেষদিকের এই কাজ আজও তাঁর সুরসৃষ্টির উজ্জ্বল উদাহরণ।









