বিশ্বব্যাপী অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা ও ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে নিরাপদ সম্পদের চাহিদা বৃদ্ধির মধ্যে ভারতে সোনার দাম নতুন উচ্চতায় পৌঁছেছে। ২৯ জানুয়ারি সকালে দেশের বিভিন্ন বাজারে সোনার দামে ঊর্ধ্বগতি দেখা যায়, একই সঙ্গে রুপার দামও রেকর্ডের কাছাকাছি অবস্থান করে।
দিল্লিতে ২৪ ক্যারেট সোনার দাম বেড়ে ১০ গ্রামপ্রতি ১,৭৯,০১০ রুপিতে দাঁড়িয়েছে। ২২ ক্যারেট সোনার দাম হয়েছে ১০ গ্রামপ্রতি ১,৬৪,১১০ রুপি।
মুম্বাই, চেন্নাই ও কলকাতায় ২৪ ক্যারেট সোনার দাম ১০ গ্রামপ্রতি ১,৭৮,৮৬০ রুপি এবং ২২ ক্যারেট সোনার দাম ১০ গ্রামপ্রতি ১,৬৩,৯৬০ রুপিতে লেনদেন হচ্ছে। পুনে ও বেঙ্গালুরুতেও একই দাম দেখা গেছে।
দেশের অন্যান্য শহরের মধ্যে দিল্লি ও জয়পুরে ২৪ ক্যারেট সোনা ১০ গ্রামপ্রতি ১,৭৯,০১০ রুপিতে লেনদেন হচ্ছে। লখনউ ও চণ্ডীগড়েও একই দাম রয়েছে। আহমেদাবাদ ও ভোপালে ২৪ ক্যারেট সোনার দাম ১০ গ্রামপ্রতি ১,৭৮,৯১০ রুপি এবং ২২ ক্যারেট সোনার দাম ১০ গ্রামপ্রতি ১,৬৪,০১০ রুপি।
আন্তর্জাতিক বাজার থেকেও সোনার দামে সহায়তা মিলছে। আন্তর্জাতিক বাজারে স্পট গোল্ডের দাম আউন্সপ্রতি ৫,৫৯৫.০২ ডলারে পৌঁছেছে। বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা, ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনা, ডলারের ওঠানামা এবং কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলোর নীতির প্রভাব আন্তর্জাতিক বাজারে সোনার চাহিদাকে প্রভাবিত করছে।
সাম্প্রতিক সময়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বক্তব্যের পর বাজারে অস্থিরতা বেড়েছে। তিনি ভবিষ্যতে আরেকটি যুদ্ধের সম্ভাবনার ইঙ্গিত দিয়েছেন। এই বক্তব্যকে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে বাড়তে থাকা উত্তেজনার সঙ্গে যুক্ত করে দেখা হচ্ছে।
বাজার বিশ্লেষকদের মতে, সোনার দামে আরও ঊর্ধ্বগতি হতে পারে। সোসাইটি জেনারেল অনুমান করেছে যে বছরের শেষ নাগাদ সোনার দাম আউন্সপ্রতি ৬,০০০ ডলারে পৌঁছাতে পারে। মর্গান স্ট্যানলির মতে, বর্তমান র্যালি অব্যাহত থাকতে পারে এবং বুল কেসে সোনার দাম আউন্সপ্রতি ৫,৭০০ ডলারে পৌঁছাতে পারে।
সোনার পাশাপাশি রুপার দামেও ঊর্ধ্বগতি দেখা গেছে। ৩০ জানুয়ারি সকালে রুপার দাম কেজিপ্রতি ৪,১০,১০০ রুপির ওপরে পৌঁছেছে। আন্তর্জাতিক বাজারে রুপার স্পট দাম আউন্সপ্রতি প্রায় ১২০.৪৫ ডলার।
রুপার দামে বিনিয়োগ চাহিদা এবং শিল্প খাতের চাহিদা উভয়ের প্রভাব রয়েছে। ইলেকট্রনিক্স, সৌর শক্তি ও বৈদ্যুতিক যান খাতে রুপার ব্যবহার বৃদ্ধির ফলে দামের ওপর প্রভাব পড়ছে। চলতি বছরে এ পর্যন্ত দেশের বাজারে রুপার দাম প্রায় ৬৯.২ শতাংশ বেড়েছে।









