পেটের ভিতর জ্বলজ্বল করছে আস্ত শিবলিঙ্গ—তাও আবার পারদের! এক্স-রে রিপোর্ট হাতে পেয়ে কার্যত চক্ষু চড়কগাছ চিকিৎসকদের। রোগী মানুষ নয়, আদরের চারপেয়ে পোষ্য। শেষ পর্যন্ত ঝুঁকি নিয়েই রাতভর অস্ত্রোপচার, আর তাতেই রক্ষা পেল এক গোল্ডেন রিট্রিভারের প্রাণ।
বাগুইআঁটির পরিবার ও আদরের পোষ্য
বাগুইআঁটির চালপট্টি এলাকার চন্দ পরিবার কুকুরপ্রেমী হিসেবেই পরিচিত। রাজীব চন্দের বাড়িতে রয়েছে ১০ মাসের এক দস্যি গোল্ডেন রিট্রিভার। সারাদিন দৌড়ঝাঁপে মাতিয়ে রাখত গোটা বাড়ি। কিন্তু দু’দিন আগেই আচমকা বিপত্তি।
ঠাকুরের আসন থেকেই রহস্যের শুরু
মেয়ের নাচের অনুষ্ঠান দেখতে পরিবারের সবাই বাইরে ছিলেন। বাড়িতে ছিল শুধু পোষ্যটি। অনুষ্ঠান শেষে ফিরে দেখেন, ঠাকুরের আসনে রাখা পারদের শিবলিঙ্গ উধাও! গোটা বাড়ি তন্নতন্ন করেও মেলেনি শিবলিঙ্গ। তখনই সন্দেহ ঘোরে আদরের পোষ্যকে ঘিরে।
এক্স-রেতেই বেরোল ভয়ঙ্কর সত্য
যদিও পোষ্যের আচরণে প্রথমে তেমন অস্বাভাবিকতা ধরা পড়েনি, তবু সন্দেহ থেকেই পশু চিকিৎসকের পরামর্শে এক্স-রে করানো হয়। রিপোর্ট হাতে পেয়েই পরিবারের মাথায় আকাশ ভেঙে পড়ে—পোষ্যের পেটের ভিতরেই স্পষ্ট দেখা যাচ্ছে পারদের শিবলিঙ্গ!
ওষুধে কাজ না হওয়ায় বাড়ল উদ্বেগ
প্রথমে ওষুধের মাধ্যমে শিবলিঙ্গ বের করার চেষ্টা করা হয়। কিন্তু তাতে কোনও ফল মেলেনি। উলটে পারদের কারণে বিষক্রিয়ার আশঙ্কা বাড়ছিল। পরিবারের দুশ্চিন্তা ক্রমশ চরমে পৌঁছয়।
রাতভর জটিল অস্ত্রোপচার
এন্ডোস্কোপি ঝুঁকিপূর্ণ হওয়ায় শেষ পর্যন্ত অস্ত্রোপচারের সিদ্ধান্ত নেন চিকিৎসকেরা। দেশপ্রিয় পার্কের একটি বেসরকারি ক্লিনিকে রাত ৯টা থেকে শুরু হয় অপারেশন। সরকারি প্রাণী চিকিৎসকের নেতৃত্বে টানা সাড়ে চার ঘণ্টার লড়াইয়ের পর রাত দেড়টা নাগাদ সফলভাবে পোষ্যের পেট থেকে বার করা হয় পারদের শিবলিঙ্গ।
খাস কলকাতায় চাঞ্চল্যকর ঘটনা। বাগুইআঁটির এক পরিবারের ১০ মাসের পোষ্য গোল্ডেন রিট্রিভারের পেট থেকে অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে উদ্ধার হল পারদের শিবলিঙ্গ। এক্স-রেতে ধরা পড়ার পর রাতভর জটিল অস্ত্রোপচারে প্রাণরক্ষা হয় চারপেয়ে পোষ্যের।









