গোরখপুর গার্লস হোস্টেলের বাথরুমে ক্যামেরা চালু মোবাইল ছয় থেকে সাতটি ভিডিও উদ্ধারের দাবি

গোরখপুরের মোহদ্দিপুরের গার্লস হোস্টেলের বাথরুমে ক্যামেরা চালু মোবাইল পাওয়ার ঘটনায় পুলিশ তদন্ত শুরু করেছে। মোবাইল থেকে ছয় থেকে সাতটি কথিত আপত্তিকর ভিডিও পাওয়ার দাবি রয়েছে এবং ওয়ার্ডেনকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।
গোরখপুর গার্লস হোস্টেলের বাথরুমে ক্যামেরা চালু মোবাইল ছয় থেকে সাতটি ভিডিও উদ্ধারের দাবি
Photo Credit / Attribution: Google

গোরখপুরের ক্যান্ট থানা এলাকার মোহদ্দিপুরে একটি বেসরকারি গার্লস হোস্টেলের বাথরুমে ক্যামেরা চালু অবস্থায় একটি মোবাইল ফোন পাওয়ার পর চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। ছাত্রীদের অভিযোগ, বাথরুমে লুকিয়ে রাখা ওই মোবাইল ফোনের মাধ্যমে তাদের ব্যক্তিগত গোপনীয়তায় হস্তক্ষেপ করা হচ্ছিল। মোবাইলটি পরীক্ষা করার পর তাতে ছাত্রীদের রেকর্ডিং থাকার দাবি সামনে এসেছে। পুলিশ ফোনটি হেফাজতে নিয়ে তদন্ত শুরু করেছে এবং হোস্টেলের মহিলা ওয়ার্ডেনকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। পুলিশের সাম্প্রতিক তদন্তে ফোনটি থেকে ছয় থেকে সাতটি আপত্তিকর ভিডিও পাওয়ার কথা সামনে এসেছে। ভিডিওগুলি কবে রেকর্ড করা হয়েছিল, কতদিন ধরে রেকর্ডিং চলছিল এবং সেগুলি অন্য কোনো ব্যক্তি বা সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্মে পাঠানো হয়েছিল কি না, তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ।

মোহদ্দিপুরের একটি বেসরকারি গার্লস হোস্টেলকে কেন্দ্র করে এই ঘটনা। এখানে বিভিন্ন কলেজে পড়ুয়া এবং প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার প্রস্তুতি নেওয়া ছাত্রীরা থাকেন। রিপোর্ট অনুযায়ী, হোস্টেলে প্রায় ২০টি ঘর রয়েছে এবং বর্তমানে প্রায় ২৬ জন ছাত্রী থাকছিলেন। ৮ সেপ্টেম্বর রাতে ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসে। সম্প্রতি হোস্টেলে থাকতে আসা এক ছাত্রী বাথরুমে গেলে টিনের ছাদের মধ্যে রাখা একটি মোবাইল ফোন দেখতে পান। ফোনটি স্বাভাবিকভাবে রাখা ছিল না এবং তার ক্যামেরা চালু ছিল। সন্দেহ হওয়ায় ওই ছাত্রী প্রথমে নিজের ফোন দিয়ে মোবাইলটির ভিডিও করেন এবং পরে হোস্টেলের অন্য ছাত্রীদের বিষয়টি জানান।

ছাত্রীদের দাবি, মোবাইলটির ক্যামেরা বাথরুমের দিকে মুখ করা ছিল। ফোনটি পরীক্ষা করার পর তাতে হোস্টেলে থাকা কয়েকজন ছাত্রীর রেকর্ডিং থাকার কথা জানা যায়। প্রাথমিক রিপোর্টে পাঁচ থেকে ছয়জন ছাত্রীর ভিডিও থাকার দাবি করা হয়েছিল। পরে পুলিশের তদন্তে ছয় থেকে সাতটি আপত্তিকর ভিডিও পাওয়ার কথা সামনে আসে। তবে পুলিশ এখনও স্পষ্ট করেনি যে সব ভিডিও এই হোস্টেলেরই কি না, সেগুলি কোন সময়ের এবং ভিডিওতে থাকা ছাত্রীদের পরিচয় কী। বিষয়গুলি নিয়ে প্রযুক্তিগত তদন্ত চলছে।

মোবাইল ফোনটি পাওয়ার পর ছাত্রীদের মধ্যে ভয় ও ক্ষোভ দেখা দেয়। তাদের বক্তব্য, ব্যক্তিগত প্রয়োজনে ব্যবহৃত বাথরুমের মতো জায়গায় গোপনে রেকর্ডিং করা হয়ে থাকতে পারে—এই বিষয়টি তাদের জন্য অত্যন্ত উদ্বেগের। পুলিশকে খবর দেওয়া হলে ডায়াল ১১২-এর মাধ্যমে তথ্য পাওয়ার পর পুলিশ হোস্টেলে পৌঁছায়। সেখানে থাকা ছাত্রী এবং ওয়ার্ডেনকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। এরপর মোবাইল ফোনটি হেফাজতে নেয় পুলিশ। ফোনটির প্রযুক্তিগত পরীক্ষার মাধ্যমে রেকর্ডিং সংক্রান্ত তথ্য খুঁজে বের করার চেষ্টা চলছে।

জিজ্ঞাসাবাদের সময় ওয়ার্ডেন মোবাইলটি বাথরুমে রাখার বিষয়ে ভিন্ন একটি কারণ জানিয়েছেন। তাঁর দাবি, বাথরুমের কাছে ব্যবহৃত স্যানিটারি প্যাড ফেলার জন্য ডাস্টবিন রাখা হয়েছিল। কিন্তু কয়েকজন ছাত্রী নাকি প্যাড এদিক-ওদিক ফেলে দিতেন, যার ফলে নোংরা হতো। ওয়ার্ডেনের দাবি, বিষয়টি শনাক্ত করার জন্য মোবাইলটি রেকর্ডিং মোডে রেখে বাথরুমে লাগানো হয়েছিল। পুলিশের কাছে তিনি ভুল উদ্দেশ্যে রেকর্ডিং করার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।

তবে ওয়ার্ডেনের এই বক্তব্যও পুলিশের তদন্তের আওতায় রয়েছে। মোবাইলটি কে বাথরুমে রেখেছিল, কখন সেটিকে রেকর্ডিংয়ের জন্য সক্রিয় করা হয়েছিল এবং কতক্ষণ রেকর্ডিং হয়েছিল, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। একই সঙ্গে মোবাইলে থাকা ভিডিওগুলি শুধু ওই হোস্টেলের ছাত্রীদের কি না, নাকি ফোনটিতে আগে থেকে অন্য কোনো রেকর্ডিং ছিল, সেটিও তদন্তের অংশ।

কথিত রেকর্ডিং অন্য কারও কাছে পৌঁছেছিল কি না, সেটিও তদন্তের একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক। ছাত্রীরা আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন যে কিছু ভিডিও বাইরে ছড়িয়ে পড়ে থাকতে পারে। তবে পুলিশ এখনও এ বিষয়ে কোনো চূড়ান্ত নিশ্চিতকরণ দেয়নি। ফোনটির ডিজিটাল পরীক্ষার মাধ্যমে কোনো ফাইল ট্রান্সফার হয়েছিল কি না, ভিডিও অন্য কোনো ডিভাইসে পাঠানো হয়েছিল কি না এবং সোশ্যাল মিডিয়া বা অন্য কোনো প্ল্যাটফর্মে সেগুলি ব্যবহার করা হয়েছিল কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। প্রযুক্তিগত তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত এ বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্তে পৌঁছানো হয়নি।

ঘটনার পর ছাত্রীদের পরিবারের উদ্বেগও বেড়েছে। বিষয়টি জানার পর ছাত্রীরা পরিবারের সদস্যদের ফোন করে ঘটনা জানান। হোস্টেলে থাকা ছাত্রছাত্রীদের নিরাপত্তা নিয়ে অভিভাবকদের প্রত্যাশার মধ্যে বাথরুমের মতো ব্যক্তিগত জায়গায় ক্যামেরা চালু মোবাইল পাওয়ার ঘটনায় নিরাপত্তা ব্যবস্থার বিষয়ে প্রশ্ন উঠেছে। অভিভাবকরা হোস্টেলে কী ধরনের নিরাপত্তা ব্যবস্থা ছিল এবং এমন ঘটনা ঠেকাতে আগে থেকে কী ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছিল, তা জানতে চাইছেন।

পুলিশ মহিলা ওয়ার্ডেনের মোবাইলটি হেফাজতে নিয়েছে। সাম্প্রতিক রিপোর্ট অনুযায়ী, ওয়ার্ডেনকে জিজ্ঞাসাবাদও করা হচ্ছে। ছাত্রীদের বক্তব্য নথিভুক্ত করা হচ্ছে এবং রেকর্ডিং-সংক্রান্ত ডিজিটাল প্রমাণ পরীক্ষা করছে পুলিশ। এসপি সিটি নিমিষ পাটিল জানিয়েছেন, মামলার তদন্ত চলছে এবং তদন্তে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে। ফোনে থাকা কথিত ভিডিওগুলি কবে রেকর্ড করা হয়েছিল এবং এর আগে এমন কোনো রেকর্ডিং হয়েছিল কি না, তাও খতিয়ে দেখছে পুলিশ।

এই ঘটনার সঙ্গে যুক্ত ছাত্রীরা বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের এবং তাদের মধ্যে অনেকে প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। পড়াশোনার জন্য বাড়ি থেকে দূরে থাকা ছাত্রছাত্রীদের জন্য হোস্টেল বসবাসের জায়গা। সেখানে কোনো ব্যক্তিগত স্থানে তাদের অজান্তে রেকর্ডিং হয়ে থাকার সন্দেহ তৈরি হলে তার প্রভাবও তদন্তের অংশ। তাই তদন্তে শুধু মোবাইলটি কে রেখেছিল তা নয়, রেকর্ডিংয়ের সময়কাল, ডিজিটাল ডেটা এবং তার সম্ভাব্য ব্যবহারও পরীক্ষা করা হচ্ছে।

মোবাইলে পাওয়া ভিডিওর প্রকৃত সংখ্যা কত, সেটিও তদন্তে গুরুত্বপূর্ণ। প্রাথমিকভাবে ছাত্রীদের পক্ষ থেকে পাঁচ থেকে ছয়জনের ভিডিও থাকার দাবি এবং পরবর্তী পুলিশ তদন্তে ছয় থেকে সাতটি ভিডিও পাওয়ার তথ্যের মধ্যে পার্থক্য রয়েছে। প্রযুক্তিগত পরীক্ষার মাধ্যমে এই পার্থক্যের কারণ স্পষ্ট হতে পারে। একইভাবে, সব ভিডিও এই ঘটনার সঙ্গে সম্পর্কিত কি না বা ফোনটিতে আগে থেকেই অন্য কোনো সামগ্রী ছিল কি না, সেটিও নির্ধারণ করা হবে।

এই ঘটনায় কোনো বড় র‌্যাকেট বা সংগঠিত চক্রের সঙ্গে যুক্ত থাকার কোনো নিশ্চিত তথ্য এখনও সামনে আসেনি। তবে ছাত্রীদের পক্ষ থেকে ভিডিও বাইরে চলে যাওয়ার আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়েছে। পুলিশ এই বিষয়টিও তদন্ত করছে। যদি তদন্তে দেখা যায় যে রেকর্ডিং অন্য কোনো ব্যক্তির কাছে পাঠানো হয়েছিল বা অন্য কোনো উদ্দেশ্যে ব্যবহার করা হয়েছিল, তাহলে সেই তথ্যও মামলার তদন্তে বিবেচনা করা হবে। বর্তমানে মোবাইলে থাকা ডিজিটাল প্রমাণের পরীক্ষা শেষ হওয়া প্রয়োজন।

এই ধরনের ঘটনায় ছাত্রীদের পরিচয় ও ব্যক্তিগত গোপনীয়তা রক্ষা করাও গুরুত্বপূর্ণ। কথিত ভিডিও বা কোনো ব্যক্তিগত সামগ্রী শেয়ার করলে সংশ্লিষ্ট ছাত্রীদের পরিস্থিতি আরও জটিল হতে পারে। তাই তদন্ত-সংক্রান্ত কোনো ডিজিটাল প্রমাণ প্রকাশ্যে আনা বা সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে দেওয়া উচিত নয়। তদন্তকারী সংস্থার জন্যও ডিজিটাল প্রমাণ সুরক্ষিত রাখা এবং ছাত্রীদের পরিচয় গোপন রাখা গুরুত্বপূর্ণ।

গোরখপুরের এই ঘটনায় হোস্টেল প্রশাসনের জবাবদিহি নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। হোস্টেলের সাধারণ নিরাপত্তার জন্য ক্যামেরা স্থাপন করা যেতে পারে, তবে ব্যক্তিগত জায়গার নজরদারির বিষয়টি পৃথক। নিরাপত্তা ব্যবস্থা তৈরির ক্ষেত্রে ছাত্রীদের ব্যক্তিগত গোপনীয়তা যাতে ক্ষতিগ্রস্ত না হয়, সেটিও বিবেচনায় রাখা প্রয়োজন।

বর্তমানে ক্যান্ট থানা পুলিশ মামলাটির তদন্ত করছে। মোবাইল ফোন পুলিশের হেফাজতে রয়েছে এবং তার প্রযুক্তিগত পরীক্ষার পর ঘটনার বিষয়ে আরও তথ্য সামনে আসার কথা। পুলিশকে মূলত খতিয়ে দেখতে হচ্ছে, মোবাইলটি কতদিন ধরে বাথরুমে রাখা ছিল, কে সেটি সেখানে রেখেছিল, কতক্ষণ রেকর্ডিং হয়েছিল, কথিত ভিডিওগুলি কোন সময়ের এবং সেগুলি অন্য কোনো ডিভাইস বা ব্যক্তির কাছে পাঠানো হয়েছিল কি না। এসব তথ্যের ভিত্তিতেই পরবর্তী আইনি পদক্ষেপের দিক নির্ধারিত হবে।

মোহদ্দিপুরের গার্লস হোস্টেলের বাথরুমে ক্যামেরা চালু মোবাইল পাওয়ার ঘটনায় বর্তমানে ছাত্রীদের মধ্যে ভয় ও ক্ষোভ রয়েছে। ওয়ার্ডেন মোবাইলটি রাখার পেছনে স্যানিটারি প্যাড থেকে হওয়া নোংরা পর্যবেক্ষণের কারণ দেখিয়েছেন, তবে পুলিশ সেই দাবিও যাচাই করছে। মোবাইল থেকে ছয় থেকে সাতটি কথিত আপত্তিকর ভিডিও পাওয়ার তথ্য সামনে আসায় তদন্তে ডিজিটাল প্রমাণ ও ছাত্রীদের বক্তব্য গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। প্রকৃত ঘটনা এবং মোবাইল রাখার উদ্দেশ্য সম্পর্কে তদন্ত শেষ হওয়ার পরই আরও স্পষ্ট তথ্য পাওয়া যাবে।

Leave a comment