দেশজুড়ে NEET প্রশ্নপত্র ফাঁসকে কেন্দ্র করে চলমান বিক্ষোভের মধ্যে বৃহস্পতিবার গভীর রাতে একটি গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক ঘোষণা করেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। রাত প্রায় ১২টার দিকে প্রকাশিত একটি ভিডিও বার্তায় তিনি জানান, প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনা রোধ এবং দোষীদের কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করতে সরকার ফাস্ট-ট্র্যাক আদালতের বিধান-সম্বলিত একটি নতুন বিল আনতে প্রস্তুতি নিচ্ছে।
ভারতে প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় প্রশ্নপত্র ফাঁস এবং অনিয়ম নিয়ে চলমান বিতর্কের প্রেক্ষাপটে প্রধানমন্ত্রী বলেন, প্রস্তাবিত আইনের মাধ্যমে প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনা প্রতিরোধ এবং দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হবে। তিনি জানান, প্রস্তাবিত বিলে মামলার দ্রুত নিষ্পত্তির জন্য ফাস্ট-ট্র্যাক আদালতের বিধান অন্তর্ভুক্ত করার সম্ভাবনা রয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী মোদী বলেন, প্রস্তাবিত বিলটি শুক্রবার কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভার বৈঠকে আলোচনা করা হবে। মন্ত্রিসভার আলোচনা এবং প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার পর বিলটির চূড়ান্ত রূপ দেওয়া হবে। সরকারের লক্ষ্য, যত দ্রুত সম্ভব বিলটি সংসদে উপস্থাপন করে পাস করানো।
এই ঘোষণা এমন সময়ে এসেছে, যখন ভারতে জাতীয় যোগ্যতা ও প্রবেশিকা পরীক্ষা (NEET)-সহ বিভিন্ন প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় কথিত প্রশ্নপত্র ফাঁস এবং পরীক্ষা প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিয়ে শিক্ষার্থী ও পরীক্ষার্থীদের মধ্যে অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। পরীক্ষা ব্যবস্থায় সংস্কার এবং প্রশ্নপত্র ফাঁসের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপের দাবিতে দেশের বিভিন্ন অংশে বিক্ষোভও অনুষ্ঠিত হয়েছে।

এদিকে, প্রধানমন্ত্রীর ঘোষণার কিছুক্ষণ পর জলবায়ু কর্মী ও সমাজকর্মী সোনম ওয়াংচুক তাঁর অনশন প্রত্যাহার করেন। দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন দাবিতে আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার সময় শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে তাঁকে গুরুগ্রামের মেদান্তা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল। রাত প্রায় ১২টা ৪০ মিনিটে কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রী জে.পি. নাড্ডা এবং কেন্দ্রীয় মন্ত্রী ড. জিতেন্দ্র সিং হাসপাতালে গিয়ে সোনম ওয়াংচুকের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। পরে জে.পি. নাড্ডা তাঁকে জুস পান করিয়ে অনশন ভঙ্গ করান। জানানো হয়, অনশনের ২৭তম দিনে তিনি এই সিদ্ধান্ত নেন।
অনশন প্রত্যাহারের পর সোনম ওয়াংচুক বলেন, সরকারের পক্ষ থেকে তাঁর দাবিগুলির বিষয়ে ইতিবাচক পদক্ষেপের আশ্বাস দেওয়া হয়েছে। তিনি জানান, বিভিন্ন বিষয় নিয়ে দীর্ঘ আলোচনার পাশাপাশি দেশে সম্ভাব্য সহিংসতার আশঙ্কার বিষয়টি বিবেচনায় রেখে অনশন প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, সরকার তাঁর দাবিগুলির প্রতি ইতিবাচক মনোভাব দেখিয়েছে এবং আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের পথে এগিয়ে যাওয়া প্রয়োজন।
সরকারের প্রস্তাবিত বিল সম্পর্কে প্রাথমিকভাবে যে তথ্য সামনে এসেছে, তাতে প্রশ্নপত্র ফাঁস এবং পরীক্ষা-সংক্রান্ত জালিয়াতির মামলায় দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তির বিধান রাখা হতে পারে। সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, প্রশ্নপত্র ফাঁসের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের জন্য পাঁচ থেকে দশ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ডের বিধান থাকতে পারে।
এছাড়া, এ ধরনের মামলায় অভিযুক্তদের জামিন পাওয়ার প্রক্রিয়াও আরও কঠিন করা হতে পারে। কোনো কোচিং প্রতিষ্ঠান, শিক্ষক বা পরীক্ষা-সংক্রান্ত কোনো ব্যক্তির ভূমিকা প্রশ্নপত্র ফাঁসে প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধেও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে। দোষী সাব্যস্ত হলে প্রতিষ্ঠান বন্ধ করে দেওয়া এবং আর্থিক জরিমানার বিধানও আইনের অংশ হতে পারে।
প্রশ্নপত্র প্রণয়ন বা সেটিং প্রক্রিয়ার সঙ্গে যুক্ত কোনো ব্যক্তির সম্পৃক্ততা প্রমাণিত হলে ভবিষ্যতে তাঁকে স্থায়ীভাবে পরীক্ষা ব্যবস্থার বাইরে রাখার বিধানও প্রস্তাব করা হতে পারে। তবে, এসব বিধানের চূড়ান্ত নিশ্চিতকরণ কেবল বিলের সরকারি খসড়া এবং কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভার অনুমোদনের পরই হবে।











