ভারতীয় সিনেমার ইতিহাসে এমন কিছু নাম রয়েছে, যাঁদের কাজ সময়কে অতিক্রম করে অমর হয়ে থাকে। সেই তালিকার একেবারে প্রথম সারিতে রয়েছেন Guru Dutt। ‘পিয়াসা’, Kaagaz Ke Phool কিংবা Sahib Bibi Aur Ghulam-এর মতো কালজয়ী ছবির নির্মাতা গুরু দত্তের জীবন যেমন সাফল্যে ভরা ছিল, তেমনই ছিল গভীর বিষাদে ডুবন্ত। ব্যক্তিগত সম্পর্কের টানাপোড়েন থেকে মানসিক অবসাদ— শেষ পর্যন্ত এক করুণ পরিণতিই অপেক্ষা করছিল তাঁর জন্য।
ওয়াহিদা রহমানকে বলিউডে এনে বদলে দেন ইতিহাস
তেলেগু ছবিতে অভিনয় দেখে অভিনেত্রী Waheeda Rehman-কে প্রথম নজরে আনেন গুরু দত্ত। পরে তাঁকেই হিন্দি সিনেমায় বড় সুযোগ দেন তিনি। একের পর এক ছবিতে তাঁদের জুটি দর্শকদের মন জয় করে নেয়। বিশেষ করে ‘পিয়াসা’ ও ‘কাগজ কে ফুল’-এ তাঁদের অনবদ্য রসায়ন সেই সময় বলিউডে আলাদা মাত্রা তৈরি করেছিল।
সম্পর্কের গুঞ্জনে কেঁপেছিল বলিউড
একসঙ্গে কাজ করতে করতেই গুরু দত্ত ও ওয়াহিদা রহমানের সম্পর্ক নিয়ে ইন্ডাস্ট্রিতে শুরু হয় জোর চর্চা। যদিও তাঁরা কখনও প্রকাশ্যে এই বিষয়ে কিছু বলেননি, তবু বলিউডের অন্দরমহলে এই সম্পর্ক নিয়ে নানা আলোচনা চলতেই থাকে। অনেক চলচ্চিত্র বিশ্লেষকের মতে, এই গুঞ্জনের প্রভাব পড়েছিল গুরু দত্তের ব্যক্তিগত জীবনেও।
গীতা দত্তের সঙ্গে দাম্পত্যে বাড়তে থাকে দূরত্ব
গুরু দত্তের স্ত্রী ছিলেন কিংবদন্তি গায়িকা Geeta Dutt। তাঁদের সম্পর্ক একসময় বলিউডের ‘পাওয়ার কাপল’ হিসেবে পরিচিত ছিল। গীতার গাওয়া গান গুরু দত্তের ছবিকে অন্য মাত্রা এনে দিয়েছিল। কিন্তু ধীরে ধীরে সম্পর্কে ফাটল ধরতে শুরু করে। পারিবারিক অশান্তি ও মানসিক চাপ ক্রমশ গ্রাস করতে থাকে পরিচালককে।
বিষণ্ণতা ও মদ্যপানে ডুবে যাচ্ছিলেন পরিচালক
ঘনিষ্ঠ মহলের দাবি, জীবনের শেষ কয়েক বছরে গুরু দত্ত গভীর মানসিক অবসাদে ভুগছিলেন। অনিদ্রা, একাকীত্ব ও অতিরিক্ত মদ্যপান তাঁর জীবনের অংশ হয়ে দাঁড়ায়। বহু সময় তিনি নিজেকে কাজের মধ্যেই ডুবিয়ে রাখতেন, কিন্তু ব্যক্তিগত জীবনের অশান্তি তাঁকে ভিতর থেকে ভেঙে দিচ্ছিল।
৩৯ বছরেই থেমে যায় এক কিংবদন্তির জীবন
১৯৬৪ সালে মাত্র ৩৯ বছর বয়সে মৃত্যু হয় গুরু দত্তের। অতিরিক্ত ঘুমের ওষুধ ও মদ্যপানের কারণে তাঁর মৃত্যু হয় বলে জানা যায়। তবে এটি আত্মহত্যা নাকি দুর্ঘটনা— সেই প্রশ্নের উত্তর আজও অজানা। তাঁর অকালপ্রয়াণে শোকস্তব্ধ হয়ে পড়েছিল গোটা চলচ্চিত্র জগৎ।
মৃত্যুর পরও শেষ হয়নি পরিবারের ট্র্যাজেডি
গুরু দত্তের মৃত্যুর পর গীতা দত্তও মানসিকভাবে ভেঙে পড়েন। পরবর্তীকালে তিনিও মদ্যপানে আসক্ত হয়ে পড়েন এবং অল্প বয়সেই লিভারের অসুখে মারা যান। বহু বছর পরে তাঁদের ছেলে তরুণ দত্তের মৃত্যুও ফের শোকের ছায়া ফেলে পরিবারে।
বলিউডের ইতিহাসে অন্যতম সেরা পরিচালক Guru Dutt-এর ব্যক্তিগত জীবন ছিল আলো-আঁধারিতে মোড়া। অভিনেত্রী Waheeda Rehman-এর সঙ্গে সম্পর্কের গুঞ্জন, স্ত্রী Geeta Dutt-এর সঙ্গে দূরত্ব, মানসিক অবসাদ ও মদ্যপানের আসক্তি— সব মিলিয়ে মাত্র ৩৯ বছরেই শেষ হয়ে যায় এক কিংবদন্তির জীবন। আজও তাঁর মৃত্যু ঘিরে বিতর্ক থামেনি।










